বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৪:৪৪ পূর্বাহ্ন
Notice :
দৈনিক সাতক্ষীরার তথ্য

শ্যামনগরে ডিগ্রি-নিবন্ধন ছাড়াই দন্ত চিকিৎসা!

মো. ইব্রাহিম খলিল: / ৮৭ Time View
Update : সোমবার, ২১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

সাতক্ষীরার শ্যামনগরে প্রয়োজনীয় শিক্ষাগত যোগ্যতা ও বৈধ নিবন্ধন ছাড়াই দন্ত চিকিৎসার অভিযোগ উঠেছে আলফাজ উদ্দিন নামে এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে। উপজেলার কাশিমাড়ী ইউনিয়নের শংকরকাটি বাজারে ‘আনজুমানায়ারা ডেন্টাল কেয়ার’ নামে একটি চেম্বারে তিনি রোগীদের দাঁতের বিভিন্ন ধরনের চিকিৎসাসেবা দিচ্ছেন এমন অভিযোগ করেছেন স্থানীয় কয়েকজন ব্যক্তি। স্থানীয়দের অভিযোগ, আলফাজ উদ্দিনের দন্ত চিকিৎসা সংক্রান্ত কোনো স্বীকৃত ডিগ্রি, সার্টিফিকেট বা বাংলাদেশ মেডিকেল অ্যান্ড ডেন্টাল কাউন্সিল (বিএমডিসি) -এর বৈধ নিবন্ধন রয়েছে কি না, তা নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন রয়েছে। বিষয়টি যাচাই করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তারা। চেম্বারের সাইনবোর্ডে দাঁত তোলা, রুট ক্যানেল, ফিলিং, আঁকাবাঁকা দাঁত সোজা করা, দাঁত বাঁধানো, ক্যাপ ও ব্রিজ, স্কেলিংসহ বিভিন্ন সেবার কথা উল্লেখ করা হয়েছে। একই সঙ্গে সকাল ৯টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত রোগী দেখার সময়ও সাইনবোর্ডে দেওয়া রয়েছে।

স্থানীয়দের ভাষ্য, আলফাজ উদ্দিন এর আগে শ্যামনগর সদরের মুক্তিযোদ্ধা সড়ক সংলগ্ন এলাকায় অবস্থিত ‘আমিনা ডেন্টাল কেয়ার’-এ কিছুদিন প্রশিক্ষণ নিয়েছিলেন। এরপর কোনো স্বীকৃত ডিগ্রি বা বৈধ নিবন্ধন ছাড়াই নিজেকে দন্ত চিকিৎসক হিসেবে পরিচয় দিয়ে চিকিৎসাসেবা দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে তার বিরুদ্ধে। অনলাইন ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও এ সংক্রান্ত প্রচার চালানোর অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগের বিষয়ে আলফাজ উদ্দিনের সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি দাবি করেন, তিনি ‘আনজুমানায়ারা ডেন্টাল কেয়ার’ পরিচালনা করেন, তবে কোনো রোগীর দাঁতের চিকিৎসা করেন না; বাইরে থেকে ডাক্তার এসে রোগী দেখেন।

তবে ভিডিও ফুটেজে রোগীর দাঁত তোলা ও চিকিৎসাসেবা দেওয়ার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, “ডাক্তারের অনুমতি নিয়ে রোগীর দাঁত পরিষ্কার করছিলাম।” চেম্বারটি তার কি না এ প্রশ্নের জবাবে আলফাজ উদ্দিন বলেন, প্রতিষ্ঠানটি তার নয় এবং ‘আমিনা ডেন্টাল কেয়ার’ এটি দেখভাল করে।

তবে এ বিষয়ে ‘আমিনা ডেন্টাল কেয়ার’-এর দন্ত চিকিৎসক এম. আসাদুজ্জামান বলেন, ‘আনজুমানায়ারা ডেন্টাল কেয়ার’ তার প্রতিষ্ঠান নয় এবং এর সঙ্গে তার কোনো সম্পৃক্ততা নেই। তিনি ব্যক্তিগতভাবে আলফাজ উদ্দিনকে চেনেন বলে জানান। ফলে প্রতিষ্ঠানটির মালিকানা, সেখানে প্রকৃতপক্ষে কে রোগী দেখেন এবং আলফাজ উদ্দিনের দন্ত চিকিৎসা করার বৈধ যোগ্যতা ও নিবন্ধন রয়েছে কি না এসব বিষয়ে তদন্তের দাবি আরও জোরালো হয়েছে। আইনে নিবন্ধন ছাড়া দন্ত চিকিৎসার সুযোগ নেই। বাংলাদেশ মেডিকেল ও ডেন্টাল কাউন্সিল আইন, ২০১০-এর ২২ ধারায় নিবন্ধন ছাড়া কোনো ব্যক্তি ডেন্টাল চিকিৎসা করা বা নিজেকে ডেন্টাল চিকিৎসক হিসেবে পরিচয় দিতে পারবেন না। ওই বিধান লঙ্ঘনের জন্য সর্বোচ্চ তিন বছর কারাদণ্ড অথবা এক লাখ টাকা অর্থদণ্ড, অথবা উভয় দণ্ডের বিধান রয়েছে। একই আইনের ২৮ ধারায় নিবন্ধন না থাকা সত্ত্বেও নিজেকে নিবন্ধিত চিকিৎসক বা ডেন্টাল চিকিৎসক হিসেবে উপস্থাপনের ক্ষেত্রেও শাস্তির বিধান রয়েছে। আইনের ২৯ ধারায় ন্যূনতম এমবিবিএস অথবা বিডিএস ডিগ্রি ছাড়া নামের আগে ‘ডাক্তার’ পদবি ব্যবহারের ওপরও নিষেধাজ্ঞা রয়েছে এবং লঙ্ঘনের ক্ষেত্রে কারাদণ্ড ও অর্থদণ্ডের বিধান রাখা হয়েছে। বাংলাদেশ মেডিকেল অ্যান্ড ডেন্টাল কাউন্সিলের (বিএমডিসি) সরকারি ওয়েবসাইটেও চিকিৎসক ও ডেন্টাল চিকিৎসকদের নিবন্ধন সংক্রান্ত তথ্য ও আইন-কানুনের বিষয়গুলো প্রকাশিত রয়েছে।

এ বিষয়ে শ্যামনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা জিয়াউর রহমান বলেন, “বিধি মোতাবেক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

সাতক্ষীরা সিভিল সার্জন ডা. আব্দুস সালাম বলেন, “সার্টিফিকেট এবং বৈধ লাইসেন্স না থাকলে সে চেম্বার খুলতে পারবে না। ভুয়া দন্ত চিকিৎসক হলে তার বিরুদ্ধে বিধি মোতাবেক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।” এদিকে স্থানীয় সচেতন মহল বলছে, অভিযোগের সত্যতা যাচাই করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের উচিত ওই চেম্বারের (বিএমডিসি) নিবন্ধন, শিক্ষাগত যোগ্যতার সনদ, চিকিৎসা প্রদানের অনুমোদন এবং প্রতিষ্ঠানের বৈধ কাগজপত্র পরীক্ষা করা। অভিযোগ সত্য প্রমাণিত হলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা এবং অননুমোদিত চিকিৎসাসেবা বন্ধের দাবি জানিয়েছেন তারা।

add-nolta

আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category
Theme Created By ThemesDealer.Com