বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৫:১৯ পূর্বাহ্ন
Notice :
দৈনিক সাতক্ষীরার তথ্য

ঝিকরগাছায় কিশোরীর রহস্যজনক মৃত্যু, যুবক আটক

কে এম ইদ্রিস আলী,ঝিকরগাছা: / ১৩ Time View
Update : মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

যশোরের ঝিকরগাছার পল্লীর দেউলি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ৫ম শ্রেণিতে পড়ুয়া সাদিয়া আক্তার (১১)নামের এক কিশোরীর রহস্যজনক মৃত্যু ঘটেছে.। এবংস্বজনদের অভিযোগ তাকে ধর্ষণ চেষ্টায় ব্যর্থ হয়ে শ্বাসরোধ করে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়েছে। ঘটনার সাথে জড়িত হুমায়ুন কবির (৩০)নামে একজন সন্দেহ ভাজনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ঝিকরগাছা থানা পুলিশ হেফাজতে নেয়া হয়েছে।নিহত কিশোরী সাদিয়া আক্তার উপজেলার হাজিরবাগ ইউনিয়নের দেউলী গ্রামের দরিদ্র ভ্যানচালক শহিদুল ইসলামের মেয়ে। অভিযুক্ত হুমায়ুন কবির নিহতের নিকট প্রতিবেশী আব্দুস সালাম ওরফে ভোলার ছেলে। নিহতের মা সালমা খাতুনের লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ মাদকাসক্ত বখাটে যুবক হুমায়ুন কবিরকে দেউলী গ্রামের বটতলা মোড় থেকে ২১ সেপ্টেম্বর সোমবার রাত ৯টার সময় গ্রেপ্তার করে। সাদিয়ার মায়ের দাবি, তার মেয়েকে পাশবিক নির্যাতন করে গলায় ফাঁস দিয়ে হত্যা করা হয়েছে। তিনি অভিযুক্তের কঠোর ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেছেন।

সরেজমিনে এ প্রতিবেদকের সাথে নিহতের মা সালমা খাতুন, পিতা শহিদুল ইসলামসহ আত্মীয়-স্বজন ও নিকট প্রতিবেশীদের সাথে কথা হয়। সালমা খাতুন ও বাবা শহিদুল ইসলাম দাবি করেন, হুমায়ুন কবির তার মেয়েকে প্রায়ই উত্ত্যক্ত করত। মেয়ে সাদিয়া আক্তার বিষয়টি তাদের কাছে প্রকাশ করেছিল।ঘটনার ৫ দিন আগেও সাদিয়ার হাতে কিছু একটা দিতে দেখে মা সালমা খাতুন মেয়েকে সতর্ক করেছিল। ১৮ সেপ্টেম্বর ঘটনার দিন তার মা সালমা খাতুন মাঠে ঘাস কাটতে গেছিল। তার বাবা ভ্যান চালক শহিদুল ইসলাম তার চাচা হযরতের নার্সারি থেকে গাছের চারা নিয়ে মহেশপাড়া বাজারে বিক্রি করতে গিয়েছিল। এ সুযোগে বাড়িতে কেউ না থাকায় হুমায়ুন কবির তার মেয়েকে শ্বাসরোধ করে হত্যার পর ওড়না পেঁচিয়ে ফ্যানের সাথে টাঙিয়ে রাখে বলে দাবি করেন। ঘটনার এক পর্যায়ে প্রতিবেশী সমবয়সী বান্ধবী মিম সাদিয়ার খোঁজে বাড়িতে গেলে সাদিয়াকে ঘরের ফ্যানের সাথে ঝুলন্ত অবস্থায় দেখতে পাই। তার আত্মচিৎকারে প্রতিবেশী রিজিয়া, রেশমা, কুসুম ও অভিযুক্তের বাবা আব্দুস সালাম ছুটে এসে মুমূহূর্ষ অবস্থায় সাদিয়াকে উদ্ধার করে।নিহতের চাচা মাসুম বিল্লাহ ও তাদের নিকট প্রতিবেশী আব্দুর রহিম সাদিয়া আক্তার গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেছে মর্মে জানতে পেরে মোবাইলে তার বাবাকে খবর দেন। আর নিহতের ভাই তার মাকে খবর দেন।সাদিয়ার বাবা,মা ও প্রতিবেশীরা তাকে মুমূর্ষূ অবস্থায় বাগআঁচড়া বাজারের একটি ক্লিনিকে নিয়ে যায়। সেখানে কর্তব্যরত ডাক্তার সাদিয়ার মৃত্যু ঘটেছে বলে জানান ।

জানা যায়, ঘটনার খবর পেয়ে ঝিকরগাছা থানার পুলিশের উপ পরিদর্শ মুস্তাফিজুর রহমান লাশের সুরতাল রিপোর্ট প্রস্তুত করেন। অতঃপর লাশ পোস্টমর্টামের জন্য যশোর ২৫০শয্যা বিশিষ্ট মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মর্গে প্রেরণ করেন। এ ব্যাপারে ঝিকরগাছা থানায় একটি অপমৃত্যু মামলা রেকর্ড করা হয়।

এদিকে এ প্রতিবেদকের সাথে নিহতের দাদা শওকত গাজী,দাদি রফিকা বেগম, প্রতিবেশী মোস্তাফিজুর রহমান, নাজমুন নাহার নিহতের চাচা মাসুম বিল্লাহ, প্রতিবেশী আব্দুর রহিম, নিহতের ফুপু কাজল বেগম,চাচাত ভাই ইসহক রাজের ছেলে নাজমুল,প্রতিবেশী চাচা মুসা রাজের সাথে কথা হয়। তাদের কাছ থেকে জানা যায় অভিযুক্ত হুমায়ুন কবির ভবঘুরে,নেশাগ্রস্থ।নিয়মিত গাঁজাসেবনের পাশাপাশি সব রকমের নেশায় আসক্ত ছিল। দেউলী বাগানপাড়ায় তার প্রথম স্ত্রী এবং শংকরপুর ইউনিয়নে জগদানন্দকাটি গ্রামের দ্বিতীয় স্ত্রী তাকে তালাক দিয়ে চলে যায়।তার দ্বিতীয় স্ত্রীর একটি কন্যা সন্তান আছে বলে জানা যায়।

এ ব্যাপারে ঝিকরগাছা থানা হাজতে পুলিশে হেফাজতে থাকা অভিযুক্তের কোন প্রকার বক্তব্য ছাড়াই ভিডিও ক্লিপ ধারণের অনুমতি চাইলে ডিউটি অফিসার এসআই ফিরোজ জানান, অফিসার ইনচার্জ ছুটিতে আছেন। ওসি তদন্ত বর্তমানে পুলিশ স্টেশনে নেই। তাদের অনুমতি ছাড়া ফুটেজ দেয়া সম্ভব নয়। তিনি আরো বলেন পোস্টমর্টেম (পি,এম)রিপোর্ট এলে আদালতের নির্দেশনা মতে এটিকে নিয়মিত মামলা হিসাবে রেকর্ড করা হবে।

ফুটেজ ধারণ সংক্রান্ত বিষয়টি নাভারন সার্কেল এএসপি আরিফের মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টার পর তিনি ফোন রিসিভ করেন। কিন্তু, সাংবাদিকদের তথ্য দেয়া যাবে না বলে তিনি জানিয়ে দেন।

add-nolta

আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category
Theme Created By ThemesDealer.Com