বুধবার, ২৯ জুলাই ২০২৬, ০৭:২৯ অপরাহ্ন
Notice :
দৈনিক সাতক্ষীরার তথ্য

শ্যামনগর থানায় শাহ আলমের নেতৃত্বে অগ্নিসংযোগ ও অস্ত্র লুটের অভিযোগ

নিজস্ব প্রতিনিধিঃ / ১৭০৩ Time View
Update : বুধবার, ১১ মার্চ, ২০২৬

সাতক্ষীরার শ্যামনগরে গত বছরের ৫ আগস্ট শ্যামনগর থানায় অগ্নিসংযোগ, ভাঙচুর ও অস্ত্র লুটের ঘটনায় স্থানীয় এক ব্যক্তি শাহ আলমের নেতৃত্বে একটি সংঘবদ্ধ সন্ত্রাসী চক্র জড়িত থাকার অভিযোগ উঠেছে। একই সঙ্গে সীমান্তবর্তী কালিন্দী নদীপথ ব্যবহার করে ভারত থেকে মাদক ও অস্ত্র চোরাচালানের সঙ্গেও ওই চক্রের সম্পৃক্ততার অভিযোগ করেছেন স্থানীয়রা। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের দিন ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট দুপুরের পর থেকে শাহ আলমের নেতৃত্বে তার সহযোগীরা শ্যামনগর থানার আশপাশ এলাকায় অবস্থান নেয়। ওই সময় তিনি শ্যামনগর বাসস্ট্যান্ড সংলগ্ন চাররাস্তার মোড়ে অবস্থান করে তার সহযোগীদের নির্দেশনা দেন। অভিযোগ রয়েছে, তার নির্দেশে প্রায় ৩০ থেকে ৩৫ জনের একটি দল বিকাল আনুমানিক ৫টার দিকে শ্যামনগর থানায় হামলা চালিয়ে ভাঙচুর, অগ্নিসংযোগ ও অস্ত্র লুটপাট করে।

শাহ আলমের সহযোগীদের মধ্যে রয়েছেন—শ্যামনগর উপজেলার কৈখালী ইউনিয়নের নিদয়া গ্রামের লিয়াকত হোসেনের ছেলে হাবিবুর রহমান ও হাফিজুর রহমান, শিবচন্দ্রপুর গ্রামের আবু হায়াতের ছেলে সাদ্দাম হোসেন, প্রয়াত আরশাদ গাজীর ছেলে শরীফ গাজী, ইয়াকুবের ছেলে রহিম, নৈকাটি গ্রামের এন্তাজ আলী মোড়লের ছেলে হাফিজুর রহমান, নৈকাটি আস্তাখালী গ্রামের মান্নাত আলীর ছেলে বিল্লু, সুরত আলী গাজীর ছেলে অয়েজকুরনি বিদ্যুৎ, পুরাখালী গ্রামের কাশেম গাজীর ছেলে সাইদ আলী, শহীদুল গাজীর ছেলে মোস্তাফিজুর রহমান, মুনছুর আলী গাজীর ছেলে আমিনুর রহমান (রোকন)সহ আরও অজ্ঞাতনামা কয়েকজন। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক স্থানীয় ব্যক্তি জানান, ওই দিন থানায় হামলার সময় লুট হওয়া অস্ত্র শাহ আলম ও তার সহযোগীরা অজ্ঞাত স্থানে মাটিচাপা দিয়ে লুকিয়ে রেখেছে বলে এলাকায় গুঞ্জন রয়েছে।

এদিকে শ্যামনগর উপজেলার ভারত সীমান্তবর্তী কৈখালী কালিন্দী নদীপথ দিয়ে সাম্প্রতিক সময়ে মাদক ও অস্ত্র চোরাচালান উদ্বেগজনকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। অনুসন্ধানে জানা যায়, এই চোরাচালান চক্রের মূল হোতা হিসেবে স্থানীয়ভাবে পরিচিত শাহ আলম দীর্ঘদিন ধরে একটি শক্তিশালী সিন্ডিকেট পরিচালনা করে আসছেন।

অভিযুক্ত শাহ আলম শ্যামনগর উপজেলার কৈখালী ইউনিয়নের মেন্দিনগর গ্রামের প্রয়াত সিদ্দিক গাজীর ছেলে। স্থানীয়দের অভিযোগ, তার নেতৃত্বে সংঘবদ্ধ একটি চক্র সীমান্তবর্তী নদীপথ ব্যবহার করে ভারত থেকে ফেন্সিডিল, মদ, গাঁজা, ইয়াবাসহ বিভিন্ন মাদকদ্রব্য এবং আগ্নেয়াস্ত্র বাংলাদেশে পাচার করে।

স্থানীয়দের দাবি, ভারত থেকে পাচার করে আনা অস্ত্র ব্যবহার করে শাহ আলমের নেতৃত্বে এলাকায় জমি দখল, চাঁদাবাজি ও বিভিন্ন সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড পরিচালিত হচ্ছে। এতে সীমান্তবর্তী এলাকায় সাধারণ মানুষের মধ্যে আতঙ্ক বিরাজ করছে। এ বিষয়ে স্থানীয় সচেতন মহল ও সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা শ্যামনগর থানায় হামলা, অগ্নিসংযোগ ও অস্ত্র লুটপাটের ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে অভিযুক্ত শাহ আলম ও তার সহযোগীদের দ্রুত আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।

এ বিষয়ে অভিযুক্ত শাহ আলম তার বিরুদ্ধে আনিত অভিযোগ অস্বীকার করেন।

add-nolta

আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category
Theme Created By ThemesDealer.Com