কর্মক্ষেত্রে অনুপস্থিত থেকেও নিয়মিত সরকারি বেতন-ভাতা উত্তোলনের এক অভাবনীয় ও অবিশ্বাস্য অনিয়মের তথ্য উন্মোচিত হয়েছে বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি কমিশনের (বিএইসি) অধীন ইনস্টিটিউট অব নিউক্লিয়ার মেডিসিন অ্যান্ড অ্যালায়েড সায়েন্সেস (ইনমাস), সাতক্ষীরায়। প্রতিষ্ঠানে এক দিনের জন্যও নিয়মিত সেবা না দিয়ে, কর্মস্থলে পদার্পণ না করেই মাসের পর মাস সরকারি কোষাগার থেকে লাখ লাখ টাকা তুলে নিচ্ছেন সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের এক বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা। অনুসন্ধানে জানা গেছে, ঢাকা টঙ্গী এলাকার মো. জোয়াহের আলী ও ফিরোজা বেগম দম্পতির সন্তান জুলফিকার আলী সবুজ ২০২৩ সালের ২০ আগস্ট বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা (পদার্থবিজ্ঞান) হিসেবে ইনমাস, সাতক্ষীরায় যোগদান করেন। ৯ম গ্রেডের কর্মকর্তা হিসেবে তিনি চিকিৎসা প্রতিষ্ঠানটি থেকে মাসিক সর্বসাকুল্যে ৪৫ হাজার টাকা বেতন-ভাতা উত্তোলন করে আসছেন।
তবে অত্যন্ত উদ্বেগজনক বিষয় হলো যোগদানের পর থেকে বিগত ৩৫ মাসে কোনো ধরনের দায়িত্ব পালন না করেই তিনি হাতিয়ে নিয়েছেন সরকারি কোষাগারের প্রায় ১৫ লাখ ৭৫ হাজার টাকা।স্থানীয় সূত্র ও অনুসন্ধানী তথ্যে উঠে এসেছে এক বিস্ফোরক চিত্র। যোগদান করার পর থেকে জুলফিকার আলী সবুজ কখনোই ইনমাস সাতক্ষীরা কার্যালয়ে উপস্থিত থেকে নিয়মিত দাপ্তরিক বা চিকিৎসা সংক্রান্ত কার্যক্রম পরিচালনা করেননি। প্রতিদিনের কর্মঘণ্টা ও অর্পিত দায়িত্ব ফাঁকি দিয়ে তিনি অধিকাংশ সময় ঢাকায় বা অন্যত্রে অবস্থান করেন। কিন্তু প্রতি মাস শেষে বেতন উত্তোলনের সময় ঘনালেই রহস্যজনকভাবে সাতক্ষীরায় হাজির হন এবং বেতন উত্তোলন করে চম্পট দেন। সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজ ক্যাম্পাসে অবস্থিত এই বিশেষায়িত চিকিৎসা প্রতিষ্ঠানটিতে নিউক্লিয়ার মেডিসিনের মাধ্যমে জটিল রোগ নির্ণয় ও চিকিৎসা সেবা প্রদান করা হয়। যেখানে একজন বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তার উপস্থিতি অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ, সেখানে একজন কর্মকর্তার এমন চরম দায়িত্বহীনতা এবং কর্মস্থলে অনুপস্থিত থেকে টানা ৩৫ মাস বেতন তুলে নেওয়া প্রশাসনিক স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতাকে মারাত্মক প্রশ্নের মুখে ফেলেছে।
সরকারি চাকরির সুনির্দিষ্ট বিধিমালা ও শৃঙ্খলা তোয়াক্কা না করে কীভাবে একজন কর্মকর্তা দীর্ঘ ৩৫ মাস কার্যালয়ে অনুপস্থিত থাকার সাহস পান তা নিয়ে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ ছড়িয়ে পড়েছে সংশ্লিষ্ট মহলে। কেবল বেতন তোলার জন্য মাস শেষে কর্মস্থলে পদার্পণ করার এই দূরভিসন্ধিমূলক আচরণকে সাধারণ মানুষ ও সুশীল সমাজ ‘সরকারি অর্থের চরম অপচয়’ ও ‘প্রশাসনিক দুর্নীতির প্রত্যক্ষ দৃষ্টান্ত’ হিসেবে দেখছেন। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কঠোর নজরদারি ও দ্রুত তদন্ত সাপেক্ষ আইনি ও প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণ এখন সময়ের দাবি। একই সাথে, দীর্ঘদিন ধরে চলা এই অনিয়মের সাথে আর কেউ জড়িত কিংবা পৃষ্ঠপোষকতা করছে কি না, তা-ও খতিয়ে দেখার জোর দাবি উঠেছে।
এ বিষয়ে অভিযুক্ত জুলফিকার আলী সবুজের ব্যবহারিত মোবাইল নাম্বারে একাধিকবার কল দিলে আলাপ কলটি গ্রহণ না করায় বক্তব্য নেয়া সম্ভব হয়নি।