জনপ্রতিনিধি নাকি অপরাধ ও অনৈতিকতার পৃষ্ঠপোষক? এই প্রশ্ন এখন সর্বস্তরের মানুষের মুখে মুখে। সাতক্ষীরার আশাশুনি উপজেলার ৫নং বড়দল ইউনিয়ন পরিষদের ফকরাবাদ ৪নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য মোঃ ফারুক হোসেন আঙ্গুরের একের পর এক চরম আপত্তিকর ও কুরুচিপূর্ণ ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। ভিডিওগুলো ভাইরাল হওয়ার পর থেকে গোটা জেলা জুড়ে তীব্র ক্ষোভ ও নিন্দার ঝড় বইছে। একজন জনপ্রতিনিধির এমন লাগামহীন নৈতিক স্খলন ও বিকৃত কর্মকাণ্ডে হতবাক স্থানীয় সাধারণ মানুষ। ভাইরাল হওয়া প্রথম ভিডিওটিতে দেখা যায়, মৃত আব্দুল গনি সরদারের ছেলে মেম্বার মোঃ ফারুক হোসেন আঙ্গুর গভীর রাতে এক পরকীয়া প্রেমিকার সাথে ভিডিও কলে যুক্ত হয়ে চরম আপত্তিকর ও অশালীনভাবে হস্তমৈথুন করছেন। সমাজ ও পদের মর্যাদাকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে তার এই বিকৃত যৌনাচার ফাঁসের পর এলাকায় তীব্র চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। এখানেই শেষ নয়, একই সাথে ভাইরাল হওয়া অপর একটি ভিডিওতে দেখা যাচ্ছে, মদের বারে বসে তীব্র নেশাগ্রস্ত অবস্থায় নর্তকী মেয়েদের ডিজে নাচ দেখছেন এবং প্রকাশ্যেই মদ্যপান করছেন এই ইউপি সদস্য। জনগণের ট্যাক্সের টাকায় এবং পদের প্রভাব খাটিয়ে একজন জনপ্রতিনিধি কীভাবে এমন প্রকাশ্য অনৈতিকতায় মেতে উঠতে পারেন, তা নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সমালোচনার বন্যা বয়ে যাচ্ছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, মেম্বার মোঃ ফারুক হোসেন আঙ্গুর ছোটবেলা থেকেই অত্যন্ত দুর্দান্ত, উগ্র এবং বেপরোয়া প্রকৃতির মানুষ। ক্ষমতার দাপট আর পেশিশক্তির জোরে সে এলাকায় এক প্রকার ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক স্থানীয় বাসিন্দা অভিযোগ করে বলেন, মদ, জুয়া, নারী লিপ্সা থেকে শুরু করে এমন কোনো সামাজিক অপরাধ নেই যা ফারুক হোসেন আঙ্গুর করেন না। মেম্বার নির্বাচিত হওয়ার পর তার এই বেপরোয়া ভাব আরও বহুগুণ বেড়ে গেছে।
একজন ইউপি সদস্যের কাছ থেকে সমাজ গঠনমূলক কর্মকাণ্ড প্রত্যাশিত হলেও ফারুক হোসেন আঙ্গুরের ক্ষেত্রে ঘটেছে তার ঠিক উল্টো। তার এই অনৈতিক ও কুরুচিপূর্ণ কর্মকাণ্ডে বড়দল ইউনিয়ন তথা সমগ্র আশাশুনি উপজেলার ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ হয়েছে বলে মনে করছেন সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা। এলাকাবাসীর দাবি, অবিলম্বে এই লম্পট, মদ্যপ ও চরিত্রহীন মেম্বারকে পদ থেকে বহিষ্কার করতে হবে এবং তার যাবতীয় অপকর্মের বিরুদ্ধে সুষ্ঠু তদন্ত সাপেক্ষে কঠোর আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। তা না হলে এই ধরণের বিকৃত মানসিকতার জনপ্রতিনিধিদের কারণে সমাজ ব্যবস্থা পুরোপুরি ধ্বংসের মুখে পতিত হবে।
অভিযুক্ত ফারুক হোসেন আঙ্গুরের ব্যবহারিত মোবাইল নাম্বারে একাধিক বার কল দিলে আলাপ কলটি গ্রহণ না করায় বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।
এ বিষয়ে আশাশুনি ৫নং বড়দল ইউনিয়ন পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান মোঃ আফজাল সানা বলেন, একজন জনপ্রতিনিধির কাছ থেকে জনগণ সবসময় দায়িত্বশীল, শালীন ও জনকল্যাণমূলক আচরণ প্রত্যাশা করে। কোনো ব্যক্তির বিরুদ্ধে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া কোনো অভিযোগের বিষয়টি অবশ্যই গুরুত্বের সঙ্গে দেখা প্রয়োজন। তবে সঠিক তদন্ত ছাড়া কারও বিরুদ্ধে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া উচিত নয়। অভিযোগের সত্যতা যাচাই করে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবে। ইউনিয়ন পরিষদের ভাবমূর্তি রক্ষা এবং জনগণের আস্থা ধরে রাখতে আমরা সবসময় দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করবো।