রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৪:০০ পূর্বাহ্ন
Notice :
দৈনিক সাতক্ষীরার তথ্য

অপকর্ম স্বীকার করলেন সাতক্ষীরা মেডিকেলের সেই ডাক্তার

নিজস্ব প্রতিনিধিঃ / ৫৬১ Time View
Update : রবিবার, ৩০ আগস্ট, ২০২৬

সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রোগীর স্বজনকে অশালীন গালিগালাজ, ভয়ভীতি প্রদর্শন ও মারধরের উদ্দেশ্যে তেড়ে যাওয়ার চাঞ্চল্যকর ঘটনায় অবশেষে নিজেদের দোষ স্বীকার করে নিয়েছেন অভিযুক্ত সহকারী রেজিস্ট্রার (সার্জারী) ডাঃ মোঃ আসাদুজ্জামান। গত ৯ আগস্ট হাসপাতালের ৪র্থ তলায় সার্জারী ওয়ার্ডের স্টার-ফোর বেডে চিকিৎসাধীন কালিগঞ্জ উপজেলার মৌতলা গ্রামের কাজী আবু বকরের জামাতা শেখ আব্দুর রহমানের ওপর এই মারমুখী ও সন্ত্রাসী সুলভ আচরণ চালান উক্ত চিকিৎসক।​ ঘটনার পর ভুক্তভোগী শেখ আব্দুর রহমান হাসপাতাল পরিচালকের কাছে লিখিত অভিযোগ দায়ের করলে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি হয়। সেই প্রতিবেদনের ভিত্তিতে গত ২৫ আগস্ট ২০০৬ খ্রিষ্টাব্দে হাসপাতাল পরিচালকের স্বাক্ষরিত স্মারক নং: (সামেকহা/সাত/শা-১/২০২৬/২০২)-এর মাধ্যমে এক তদন্ত কমিটি গঠিত হয়।​

তদন্ত কমিটির সভাপতি ও উপ-পরিচালক ডাঃ এস.এম মনিরুজ্জামান ভুক্তভোগী শেখ আব্দুর রহমানকে ৩০ আগস্ট ১২:০০ ঘটিকায় প্রত্যক্ষদর্শী ও সাক্ষীদের নিয়ে উপস্থিত থাকার নির্দেশ দিয়ে চিঠি প্রদান করেন। কিন্তু নির্ধারিত তদন্ত প্রক্রিয়ার আগেই অভিযুক্ত সহকারী রেজিস্ট্রার ডাঃ মোঃ আসাদুজ্জামান নিজের অপকর্ম ও ঔদ্ধত্যপূর্ণ আচরণের কথা স্বীকার করায় থলের বিড়াল বেরিয়ে পড়েছে।​ পূর্বে ডাঃ আসাদুজ্জামান নিজের অপরাধ ঢাকতে ঘটনাটিকে ভিত্তিহীন ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে দাবি করলেও, তদন্তের মুখামুখি হওয়ার আগেই তাঁর স্বীকারোক্তি প্রমাণ করে যে সরকারি সেবাকেন্দ্রে রোগীদের ও তাঁদের স্বজনদের সাথে কী ধরনের বর্বর আচরণ করা হচ্ছিল।​ সাধারণ মানুষ যেখানে জীবন রক্ষায় ও সেবার আসায় সরকারি হাসপাতালে ছোটেন, সেখানে একজন দায়িত্বশীল চিকিৎসকের এমন সন্ত্রাসী আচরণ ও পরবর্তীতে তা চেপে যাওয়ার ব্যর্থ চেষ্টা হাসপাতালের চিকিৎসা ব্যবস্থাকে চরম প্রশ্নের মুখে ফেলেছে। সচেতন নাগরিক সমাজ ও ভুক্তভোগীর পরিবার অবিলম্বে উক্ত চিকিৎসকের বিরুদ্ধে কেবল লোকদেখানো তদন্ত নয়, বরং দ্রুত দৃষ্টান্তমূলক কঠোর প্রশাসনিক ও আইনানুগ ব্যবস্থার জোর দাবি জানিয়েছেন।

ঘটনার সার্বিক বিষয়ে সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ডাঃ শেখ কুদরত-ই খোদা অত্যন্ত শক্ত ও নীতিগত অবস্থান ব্যক্ত করে বলেন, ​রোগীদের সুষ্ঠু ও উন্নত সেবাদান এবং তাঁদের স্বজনদের সাথে সম্মানজনক ও দায়িত্বশীল আচরণ নিশ্চিত করাই আমাদের মূল অগ্রাধিকার। সরকারি চিকিৎসা সেবাকেন্দ্রে যেকোনো প্রকার অপেশাদার আচরণ বা শৃঙ্খলাভঙ্গ কোনোভাবেই বরদাশত করা হবে না। প্রতিষ্ঠানটির ভাবমূর্তি ও সেবার মান সমুন্নত রাখতে আমরা জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করেছি। তদন্ত প্রক্রিয়া ও স্বীকারোক্তির ভিত্তিতে অভিযুক্ত চিকিৎসকের বিরুদ্ধে বিধি মোতাবেক দৃষ্টান্তমূলক প্রশাসনিক ও বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

add-nolta

আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category
Theme Created By ThemesDealer.Com