বুধবার, ২৯ জুলাই ২০২৬, ০৬:৩২ অপরাহ্ন
Notice :
দৈনিক সাতক্ষীরার তথ্য

মোসলেম হত্যা মামলা নিয়ে নতুন অভিযোগ

নিজস্ব প্রতিনিধিঃ / ৭৮ Time View
Update : রবিবার, ২৬ জুলাই, ২০২৬

২০১৪ সালের ৫ ই জানুয়ারি নির্বাচনকে ঘিরে উত্তাল সারা দেশ। তত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে নির্বাচনের দাবিতে অনড় ছিল বিএনপি- জামায়াত। লাগাতার কর্মসূচি দিয়ে দেশ অচল করে দেয় রাজনৈতিক দল দুটি। আন্দোলন দমনে সরকার গঠন করে পুলিশ বিজিবি মিলে যৌথ বাহিনীব। যেসব জেলায় আন্দোলন জোরদার হয় সেসকল জেলায় প্লাটুন প্লাটুন বিজিবি মোতায়েন করে তৎকালীন সরকার। সাতক্ষীরা ছিল আন্দোলনে দ্বিতীয় স্থানে। কালিগঞ্জের বিষ্ণুপুর ইউনিয়নের চৌমুহনী বাজারে সেই আন্দোলন জোরালে হয়। আন্দোলন দমনে যৌথ বাহিনী অভিযান দিলে ছত্রভঙ্গ হয়ে যায় আন্দোলনকারীরা। সেই যৌথ বাহিনীর অভিয়ানে নেতৃত্ব দেয় তৎকালীন বিষ্ণুপুর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি মোসলেম উদ্দিন সহ যুবলীগের নেতাকর্মীরা। যৌথ বাহিনী ছত্রভঙ্গ করে চৌমুহনী বাজার থেকে কৃষ্ণনগর যাওয়ার পথে বিএনপি জামায়াতের নেতাকর্মীদের বাড়িঘর লুটপাট জ্বালাও পোড়াও করে তৎকালীন আওয়ামী লীগের নেতা সাইদ মেহেদী ও প্রশান্ত সরকারের নেতৃত্বে।

সেই সময় একদল দুবৃত্তরা মোসলেম উদ্দিনকে কুপিয়ে হত্যা করে প্রকাশ্য। কিন্তু আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের দাবি আন্দোলনকারীরা হত্যা করেছে। হত্যার ঘটনাস্থলে তখন ইউপি সদস্য ছিলেন যুবলীগের সহ সভাপতি সিরাজুল ইসলাম। এই হত্যাকে ঘিরে মামলা বাণিজ্য নামে সিরাজুল মেম্বার, সাইদ মেহেদী ও প্রশান্ত সরকার। বিএনপি জামায়াতের নেতাকর্মীদের ভয় দেখিয়ে মামলায় নাম ডুকানোর নামে নিতে থাকে মোটা অংঙ্কের টাকা। টাকা না দিলে হত্যা মামলার আসামী করা হয়। হত্যা মামলার এজাহারে ৫০ জন কে আসামী বহু অজ্ঞাত করে থানায় জি আর মামলা দায়ের হয়।

অনুসন্ধানে জানা যায়, বহু নিরীহ বিএনপি জামায়াতে নেতাকর্মীদের টাকা না পেয়ে মিথ্যা মামলায় ফাঁসিয়ে দেয় সিরাজুল মেম্বার গং।

তৎকালীন ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক রফিকুল ইসলাম বলেন, মোসলেম উদ্দিনকে কে বা কারা হত্যা করেছে প্রমাণ নেই। কিন্তু প্রতিহিংসা মূলকভাবে বিএনপি জামায়াতের নেতাকর্মীদের নামে মামলা দেওয়া হয়। তাছাড়া মামলা বাণিজ্য চলছে কোটি টাকার যার নেতৃত্ব দিয়েছেন যুবলীগ নেতা সিরাজুল মেম্বার। বহু মানুষকে মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানি করেছে।

তৎকালীন ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি আহসানউল্লাহ মাষ্টার বলেন, মোসলেম হত্যাকে কেন্দ্র করে যুবলীগ নেতা সিরাজুল মেম্বার আমার থেকে আমার নাতি বুলবুল থেকে লক্ষাধিক টাকা নিয়েছে। সে নিরীহ বিএনপির নেতাকর্মীদের থেকে মামলা বাণিজ্যর নামে টাকা নিয়েছে। যারা টাকা দেয়নি তাদের নামে এজাহারে উল্লেখ করে মামলা দিয়েছে।

মামলার এজাহারভুক্ত আরেকভুক্ত ভোগী জামায়াতের নেতা রুহুল আমিন বলেন, তৎকালীন আন্দোলনের সময় যৌথ বাহিনীর সাথে মোসলেম উদ্দিন তান্ডব চালায় জামায়াত বিএনপি নেতাকর্মীদের বাড়িঘর জ্বালাও পোড়াও করে।পরে দুর্বৃত্তরা থাকে হত্যা করে। সিরাজুল মেম্বার ওই হত্যাকে ঘিরে টাকা দাবি করে টাকা না দিলে তিনি আমাকে মামলার এজাহার ভুক্ত আসামী করে।

মামলার আরেক এজাহারভুক্ত আসামী মাহবুবুর রহমান বলেন, আমি মৎস্য ব্যবসায়ী মোসলেম হত্যার দিন বাড়ি ছিলাম না। আমি টাকা না দেওয়ায় আমার নামে মিথ্যা হত্যা মামলা দেওয়া হয়।

বিষ্ণুর ইউনিয়ন বিএনপির বর্তমান সাধারণ সম্পাদক মাহমুদ মোস্তফা বলেন, মামলা বাণিজ্য করে সিরাজুল মেম্বার লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নিয়েছে বিএনপি জামায়াতের নেতাকর্মীদের থেকে। সে এখন ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান নির্বাচনের আড়ালে এলাকায় আওয়ামী লীগকে শক্তিশালী করছে। তারমত আওয়ামী দোষর মামলা বাণিজ্যকারীকে আইনের আওতায় আনার জোর দাবি করছি।

অভিযুক্ত কালিগঞ্জের বিষ্ণুপুর ইউনিয়ন যুবলীগের সহ সভাপতি সিরাজুল ইসলামকে একাধিকবার ফোন দিলে তিনি রিসিভ করেনি।

add-nolta

আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category
Theme Created By ThemesDealer.Com