উপকূলীয় জনপদ সাতক্ষীরার কালিগঞ্জে নিরাপদ সুপেয় পানির সংকট দীর্ঘদিনের। বছরের পর বছর ধরে এই অঞ্চলের হাজারো নারীকে প্রতিদিন কাঁধে কলস নিয়ে কয়েক কিলোমিটার পথ পাড়ি দিতে হয় শুধু এক কলস নিরাপদ পানি সংগ্রহের জন্য। সেই বাস্তবতাকে বদলে দেওয়ার স্বপ্ন নিয়েই কয়েক বছর ধরে কাজ করে যাচ্ছেন তরুণ জলবায়ু কর্মী মোঃ মারুফ হাসান।
শনিবার (২৫ জুলাই) তরুণ জলবায়ু কর্মী মারুফ হাসান ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ছোটবেলা থেকেই নিজের মা, বোন এবং গ্রামের নারীদের পানির জন্য দুর্ভোগ পোহাতে দেখেছেন মারুফ। সেই অভিজ্ঞতা থেকেই উপকূলের মানুষের নিরাপদ পানির অধিকার নিশ্চিত করার প্রত্যয় নিয়ে সামাজিক আন্দোলনে যুক্ত হন তিনি।
২০২২ সাল থেকে জনকল্যাণ সংস্থার মাধ্যমে সুপেয় পানির দাবিতে ধারাবাহিকভাবে কমিউনিটি ডায়ালগ, গণস্বাক্ষর কর্মসূচি, ওয়াটার ক্যাম্পেইন, সংবাদ সম্মেলন, মানববন্ধন এবং বিভিন্ন সরকারি দপ্তরে স্মারকলিপি প্রদানসহ নানা ধরনের জনসচেতনতামূলক ও অ্যাডভোকেসি কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছেন তিনি। পাশাপাশি স্থানীয় প্রশাসন, জনপ্রতিনিধি এবং সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোর সঙ্গে নিয়মিত মতবিনিময়ও অব্যাহত রেখেছেন।
এই আন্দোলনের ধারাবাহিকতায় কালিগঞ্জ উপজেলার একাধিক সরকারি পুকুর ইজারামুক্ত করার উদ্যোগ বাস্তবায়িত হয়েছে। বর্তমানে ফুলতলা মৎস্য সেট সংলগ্ন জেলা পরিষদের সর্ববৃহৎ পুকুরে পন্ড স্যান্ড ফিল্টার (পিএসএফ) সংস্কার কাজ চলমান রয়েছে। সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন, কাজ শেষ হলে আশপাশের কয়েকটি গ্রামের মানুষ নিরাপদ সুপেয় পানি ব্যবহারের সুযোগ পাবেন।
মোঃ মারুফ হাসান বলেন, উপকূলের মানুষের জন্য নিরাপদ পানির ব্যবস্থা করা আমার স্বপ্ন। আমি চাই না আগামী প্রজন্মকে পানির জন্য সেই কষ্ট করতে হোক, যা আমরা বছরের পর বছর দেখেছি।
তিনি আরও জানান, কালিগঞ্জ উপজেলার প্রতিটি সরকারি পুকুরকে পর্যায়ক্রমে পানযোগ্য ও সাধারণ মানুষের ব্যবহারের উপযোগী করে গড়ে তোলার লক্ষ্যে কাজ করে যাচ্ছেন তিনি এবং তাঁর সংগঠন।
স্থানীয় সচেতন মহলের মতে, নিরাপদ সুপেয় পানির অধিকার প্রতিষ্ঠায় তরুণদের এমন উদ্যোগ উপকূলীয় অঞ্চলের জন্য একটি ইতিবাচক দৃষ্টান্ত হয়ে উঠতে পারে।