রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৪:০৮ পূর্বাহ্ন
Notice :
দৈনিক সাতক্ষীরার তথ্য

আমাদের ল্যাবে পরীক্ষা না করালে রোগী দেখবো না!

নিজস্ব প্রতিনিধিঃ / ৩৩৭ Time View
Update : শুক্রবার, ২৮ আগস্ট, ২০২৬

রোগীর পছন্দের স্থান থেকে ল্যাব পরীক্ষা করানোর অপরাধে ফি পরিশোধ করার পরও ব্যবস্থাপত্র ও চিকিৎসা সেবা না দিয়ে তাড়িয়ে দেওয়ার গুরুতর অভিযোগ উঠেছে শ্যামনগরের তট প্যাথলজি ও কর্মরত চিকিৎসক ডাঃ কানিজ ফাতিমার বিরুদ্ধে। রোগীদের নির্দিষ্ট প্রতিষ্ঠানে ডায়াগনস্টিক সেবা গ্রহণে বাধ্য করা এবং তথাকথিত টেস্ট বাণিজ্য বন্ধের দাবিতে সাতক্ষীরা জেলা সিভিল সার্জন বরাবর লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। ​ঘটনা সূত্রে জানা যায়, গত ২৬ আগস্ট ২০২৬ খ্রিষ্টাব্দ তারিখে এক ভুক্তভোগী তাঁর অসুস্থ স্ত্রীকে চিকিৎসার জন্য শ্যামনগর তট প্যাথলজিতে নিয়োজিত ডাঃ কানিজ ফাতিমার কাছে নিয়ে যান। নির্ধারিত ৪০০ টাকা ভিজিট প্রদান করার পর চিকিৎসক রোগীকে দেখে কিছু রক্ত পরীক্ষা ও একটি আল্ট্রাসনোগ্রাম করার পরামর্শ দেন। ভুক্তভোগী রোগী সরকারি বা অন্য কোনো স্বনামধন্য ও সরকার স্বীকৃত ডায়াগনস্টিক সেন্টার থেকে রক্ত পরীক্ষা করানোর সিদ্ধান্ত নেন।​

অভিযোগে উল্লেখ করা হয়, অন্য ডায়াগনস্টিক সেন্টারের উদ্দেশ্যে রওনা হতেই তট প্যাথলজির রিসেপশন থেকে ফোন করে হুমকি রূপ বার্তা দেওয়া হয়। অন্য কোথাও থেকে পরীক্ষা করালে ডাক্তার রোগী দেখবেন না। পরবর্তীতে ভুক্তভোগী সরাসরি ডাক্তারের মুখোমুখি হয়ে অন্য স্বীকৃত ক্লিনিকের রিপোর্টের নির্ভরযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন তুললে তিনি সরাসরি ক্লিনিক কর্তৃপক্ষের দোহাই দিয়ে সেবা প্রদানে অস্বীকৃতি জানান।​ পরবর্তীতে নাটকীয়ভাবে ডাক্তারের সহকারী মহিলা এসে জানান যে রক্ত পরীক্ষা বাইরে করালেও আল্ট্রাসনোগ্রাম তাদের প্রতিষ্ঠানেই করতে হবে। ভুক্তভোগী এতে সম্মতি জানিয়ে আল্ট্রাসনোগ্রামের জন্য ৬০০ টাকা রিসেপশনে জমা দিলেও, রিসেপশনিস্ট অচিন্ত্য ডাক্তারের কক্ষ থেকে ঘুরে এসে সাফ জানিয়ে দেন তট প্যাথলজি থেকে সব পরীক্ষা না করালে কোনোভাবেই রোগী দেখা হবে না।

এরপর ডাক্তার দেখানোর ভিজিট ও আল্ট্রাসনোগ্রাম ফি বাবদ মোট ১,০০০ টাকা ফেরত দিয়ে চরম দুর্ব্যবহারের মাধ্যমে অসুস্থ রোগীকে ফিরিয়ে দেওয়া হয়।​ ভুক্তভোগীর অভিযোগ, একজন অসুস্থ রোগী কোথা থেকে পরীক্ষা করাবেন তা তাঁর সম্পূর্ণ ব্যক্তিগত অধিকার। কোনো নির্দিষ্ট প্যাথলজিতে পরীক্ষা করাতে বাধ্য করা এবং কথামতো না চললে চিকিৎসা সেবা থেকে বঞ্চিত করা চরম বেআইনি, অমানবিক এবং চিকিৎসা নীতিশাস্ত্রের (Medical Ethics) ঘোর পরিপন্থী। এর পেছনে ডাক্তার ও নির্দিষ্ট কিছু ডায়াগনস্টিক সেন্টারের অনৈতিক কমিশন বা টেস্ট বাণিজ্য জড়িত থাকার প্রবল আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন স্থানীয় সচেতন মহল।​

অসুস্থ রোগীকে হয়রানি, অপমান ও সেবা বঞ্চিত করার এ ঘটনায় ফুঁসে উঠেছে এলাকা। সিভিল সার্জনের কাছে দায়ের করা আবেদনে কেবল এই ঘটনার সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্তই চাওয়া হয়নি, বরং শ্যামনগর উপজেলার আনাচে-কানাচে গড়ে ওঠা ডাক্তার-ক্লিনিকের এহেন সিন্ডিকেট ও কমিশন বাণিজ্য চিরতরে বন্ধে কঠোর প্রশাসনিক ব্যবস্থার দাবি জানানো হয়েছে।​ সাধারণ রোগীদের স্বার্থ রক্ষা ও চিকিৎসাসেবার মতো মৌলিক অধিকার অক্ষুণ্ণ রাখতে দোষী চিকিৎসক, ক্লিনিক কর্তৃপক্ষ ও সংশ্লিষ্ট কর্মচারীদের বিরুদ্ধে প্রচলিত আইনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির প্রত্যাশা করছেন ভুক্তভোগী পরিবারসহ এলাকার সাধারণ মানুষ।

এ বিষয়ে অভিযুক্ত ক্লিনিক ম্যানেজার অচিন্ত্য বৈদ্য বলেন, বিষয় টা তো সামান্য ব্যাপার। এ বিষয়ে পত্র পত্রিকায় না লিখে আসুন আমাদের ক্লিনিকে। বলে তড়িঘড়ি করে আলাপ কলটির সংযোগ বিচ্ছিন্ন করেন।

এবিষয়ে তট প্যাথলজির ডায়াগনস্টিক সেন্টারের মালিক দেবনাথ বৈদ্য বলেন, আমাদের সব কাগজপত্র আছে তাছাড়া কোন পক্ষ আমাদেরকে ফাঁসাতে ষড়যন্ত্র করে চলেছে।

এ বিষয়ে সাতক্ষীরা সিভিল সার্জন ডা. আব্দুস সালাম বলেন, কোনো রোগীকে নির্দিষ্ট কোনো ডায়াগনস্টিক সেন্টার থেকে পরীক্ষা করাতে বাধ্য করা বা পরীক্ষার স্থান পছন্দের কারণে চিকিৎসাসেবা না দেওয়া অনাকাঙ্ক্ষিত। অভিযোগের সত্যতা প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্ট চিকিৎসক, ক্লিনিক বা প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে প্রচলিত আইন ও বিধি অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। রোগীর অধিকার ও চিকিৎসাসেবার মান নিশ্চিত করতে আমরা বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখব।

add-nolta

আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category
Theme Created By ThemesDealer.Com