সাতক্ষীরা পৌরসভার 3 নম্বর ওয়ার্ড যুবলীগ কর্মী কামরুল ইসলামকে ঘিরে মাদক ও অবৈধ অস্ত্র ব্যবসার গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়দের দাবি, দীর্ঘদিন ধরে একটি সংঘবদ্ধ সিন্ডিকেটের মাধ্যমে তিনি এলাকায় মাদক বাণিজ্য ও অবৈধ কর্মকাণ্ড পরিচালনা করছেন। ফলে সাতক্ষীরা বিভিন্ন এলাকায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে এবং সাধারণ মানুষ নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন। সে সাতক্ষীরা পৌরসভা তিন নম্বর ওয়ার্ডের গহর আলী সরদারের ছেলে ।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, কামরুল ইসলামের নেতৃত্বে গড়ে ওঠা একটি চক্র নিয়মিতভাবে ইয়াবা, গাঁজা ও ফেনসিডিলসহ বিভিন্ন মাদকদ্রব্য সরবরাহ ও বিক্রি করে থাকে। অভিযোগ রয়েছে, সীমান্তবর্তী এলাকা ব্যবহার করে এসব মাদক আনা–নেওয়া করা হয় এবং পরে তা সাতক্ষীরা বিভিন্ন স্থানে ছড়িয়ে দেওয়া হয়। এ কাজে তার একাধিক সহযোগী সক্রিয়ভাবে জড়িত বলে দাবি এলাকাবাসীর।
দীর্ঘদিন ধরে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দের ছত্রছায়ায় থেকে মাদক বিক্রি করছে যুব লীগ কর্মী কামরুল। পুলিশের মাদক বিরোধী অভিযান চললেও অদৃশ্য কারণে ধরা-ছোঁয়ার বাইরে আছে এই সন্ত্রাসী ও মাদক ব্যবসায়ী।
অভিযোগ রয়েছে, শুধু মাদক ব্যবসাই নয় অবৈধ অস্ত্রের লেনদেনের সঙ্গেও কামরুল সংশ্লিষ্টতা রয়েছে। মাঝে মাঝে অস্ত্র প্রদর্শন করে এলাকায় প্রভাব বিস্তার, ভয়ভীতি দেখানো এবং প্রতিপক্ষকে দমিয়ে রাখার অভিযোগও উঠেছে তার বিরুদ্ধে। এসব কারণে সাধারণ মানুষ অনেক ক্ষেত্রে প্রকাশ্যে অভিযোগ জানাতে ভয় পাচ্ছেন।
কয়েকজন স্থানীয় বাসিন্দা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, কামরুল ইসলামের বিরুদ্ধে অতীতেও নানা অভিযোগ উঠেছিল। কিন্তু ততকালীন জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি ও ভাইস চেয়ারম্যান তানভীর হোসাইন সুজন ঘনিষ্ঠ সহযোগী হওয়ার কারণে দৃশ্যমান কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি তার বিরুদ্ধে। বরং সময়ের সঙ্গে সঙ্গে তার প্রভাব ও দৌরাত্ম্য আরও বেড়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে।
এলাকার সচেতন মহলের মতে, মাদকের কারণে তরুণ সমাজ মারাত্মক ঝুঁকির মুখে পড়ছে। অনেক তরুণ ইতোমধ্যে মাদকাসক্ত হয়ে পড়েছে এবং সামাজিক অপরাধও বৃদ্ধি পাচ্ছে। তারা মনে করছেন, সময়মতো কঠোর ব্যবস্থা না নিলে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠতে পারে।
পৌরসভা বাশির দাবি, পৌরসভা কে মাদক ও সন্ত্রাসমুক্ত রাখতে দ্রুত তদন্ত করে দোষীদের আইনের আওতায় আনা জরুরি। একই সঙ্গে প্রশাসনের কঠোর নজরদারি ও নিয়মিত অভিযান পরিচালনারও আহ্বান জানিয়েছেন তারা।