ঢাকা থেকে প্রকাশিত জাতীয় দৈনিক আলোকিত প্রতিদিন পত্রিকার বিশেষ প্রতিনিধি মো. ইব্রাহিম খলিল এবং তাঁর পরিবারের সদস্যদের বিরুদ্ধে সাতক্ষীরার শ্যামনগর আমলী ০৫ নং আদালতে দায়ের করা সি.আর. মামলা নং-১৯/২৬ সম্পূর্ণ মিথ্যা, বানোয়াট, ভিত্তিহীন ও হয়রানিমূলক বলে আমরা তীব্র প্রতিবাদ জানাচ্ছি।
সাংবাদিক মো. ইব্রাহিম খলিল দীর্ঘদিন ধরে পেশাগত দায়িত্ব পালনের মাধ্যমে দেশ, সমাজ ও রাষ্ট্রের স্বার্থে বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ পরিবেশন করে আসছেন। তাঁর সাংবাদিকতাকে প্রশ্নবিদ্ধ করা এবং ব্যক্তিগত ও পারিবারিক সম্মান ক্ষুণ্ন করার উদ্দেশ্যে জমি-জমা সংক্রান্ত বিরোধকে কেন্দ্র করে এই উদ্দেশ্যপ্রণোদিত মামলা দায়ের করা হয়েছে বলে প্রতীয়মান হয়।
মামলার সবচেয়ে বিস্ময়কর ও অযৌক্তিক দিক হলো, এতে ৩ নম্বর আসামী আব্দুল কাদেরের নেতৃত্বে চাঁদাবাজি, হামলা ও মারপিট সংঘটিত হওয়ার অভিযোগ আনা হয়েছে। অথচ আব্দুল কাদের প্রায় ১৩ বছর ধরে ব্রেন স্ট্রোকে আক্রান্ত। তিনি দীর্ঘদিন ধরে ডান হাত ও ডান পা প্যারালাইজড অবস্থায় রয়েছেন এবং স্বাভাবিকভাবে চলাফেরা বা শারীরিক কর্মকাণ্ড পরিচালনায় অক্ষম। এমন একজন শারীরিকভাবে অসুস্থ ও প্যারালাইজড ব্যক্তির নেতৃত্বে সংঘবদ্ধ হামলা, চাঁদাবাজি ও সহিংস অপরাধ সংঘটিত হওয়ার দাবি সাধারণ বিবেচনাতেই অত্যন্ত প্রশ্নবিদ্ধ ও বাস্তবতাবিবর্জিত।
এ ধরনের অসংগতিপূর্ণ অভিযোগ থেকেই স্পষ্টভাবে প্রতীয়মান হয় যে, মামলাটি প্রকৃত ঘটনার ভিত্তিতে নয়; বরং প্রতিহিংসা, সামাজিকভাবে হেয় প্রতিপন্ন করা এবং সাংবাদিক মো. ইব্রাহিম খলিল ও তাঁর পরিবারের সদস্যদের হয়রানির উদ্দেশ্যে দায়ের করা হয়েছে।
আমরা মনে করি, স্বাধীন সাংবাদিকতার পথ রুদ্ধ করতে কিংবা কোনো সাংবাদিককে ব্যক্তিগত বিরোধে জড়িয়ে মিথ্যা মামলায় হয়রানি করা শুধু একজন সাংবাদিকের ওপর আঘাত নয়, এটি গণমাধ্যমের স্বাধীনতার ওপরও আঘাত।
অতএব, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি আমাদের জোর দাবি, সাংবাদিক মো. ইব্রাহিম খলিল ও তাঁর পরিবারের বিরুদ্ধে দায়েরকৃত মিথ্যা, বানোয়াট ও ভিত্তিহীন এই মামলা অবিলম্বে নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করে প্রত্যাহার করা হোক। একই সঙ্গে মিথ্যা মামলা দিয়ে একজন পেশাদার সাংবাদিক ও তাঁর পরিবারকে হয়রানির সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণেরও আহ্বান জানাচ্ছি।
সত্য ও ন্যায়বিচারের স্বার্থে, স্বাধীন সাংবাদিকতার স্বার্থে এবং নিরপরাধ মানুষের সম্মান রক্ষায় এই মিথ্যা মামলা অবিলম্বে প্রত্যাহার করা সময়ের দাবি।