বৃহস্পতিবার, ৩০ জুলাই ২০২৬, ০৭:৪৫ অপরাহ্ন
Notice :
দৈনিক সাতক্ষীরার তথ্য

অন্ধকার জগতের নিয়ন্ত্রক গডফাদার শাহ আলমকে ঘিরে চরম আতঙ্ক

নিজস্ব প্রতিনিধিঃ / ২৫৯ Time View
Update : শনিবার, ২৫ এপ্রিল, ২০২৬

সাতক্ষীরার শ্যামনগর উপজেলার কৈখালী ইউনিয়নে কুখ্যাত সন্ত্রাসী হিসেবে পরিচিত গাজী শাহ আলমকে ঘিরে বাড়ছে উদ্বেগ ও আতঙ্ক। তার বিরুদ্ধে একের পর এক গুরুতর অপরাধের অভিযোগ উঠলেও কার্যকর ব্যবস্থা না নেওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। অনুসন্ধানমূলক বিভিন্ন তথ্য ও ভুক্তভোগীদের বক্তব্যে উঠে এসেছে অস্ত্র ও মাদক চোরাচালান, লুটপাট, চাঁদাবাজি, হামলা, ছিনতাইসহ নানা অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের চিত্র। স্থানীয় বাসিন্দা কওছার আলী গাজীর অভিযোগ, ২০২৩ সালে ব্যবসায়িক কাজে যাওয়ার পথে শাহ আলমের নেতৃত্বে একদল সশস্ত্র দুর্বৃত্ত তাকে পথরোধ করে মারধর করে এবং অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে তার কাছ থেকে ১ লাখ ৮০ হাজার টাকা ছিনিয়ে নেয়। এ ঘটনায় থানায় অভিযোগ করা হলেও তিনি কোনো প্রতিকার পাননি।

তার দাবি, রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে ঘটনাটি ধামাচাপা দেওয়া হয়। এরপর ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট রাতে পরানপুর বাজারে সংঘটিত হয় বড় ধরনের লুটপাট। অভিযোগ রয়েছে, শাহ আলমের নেতৃত্বে ৩০-৪০ জনের একটি দল তিনটি দোকানের শাটার ভেঙে প্রায় এক কোটি টাকার মালামাল ও নগদ অর্থ লুট করে নেয়। ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীদের মধ্যে কওছার আলী গাজীর দোকান থেকেই প্রায় ৩৫-৪০ লাখ টাকার মালামাল লুট হয়েছে বলে তিনি দাবি করেন। একই ঘটনায় নিমাই রপ্তান ও পরেশ গাইনের দোকান থেকেও বিপুল ক্ষয়ক্ষতির অভিযোগ উঠেছে।

ভুক্তভোগীরা জানান, এ ঘটনায় সেনাবাহিনীসহ বিভিন্ন দপ্তরে অভিযোগ দেওয়া হলেও এখনো কোনো দৃশ্যমান ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। বরং অভিযোগ উঠেছে, এসব ঘটনা রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে বারবার আড়াল করা হচ্ছে। এছাড়া সংবাদ প্রকাশের জেরে ভুক্তভোগীদের ওপর হামলা ও মব সৃষ্টি করে মারধরের অভিযোগও রয়েছে শাহ আলম ও তার সহযোগীদের বিরুদ্ধে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০১৮ সালে আওয়ামী লীগ সরকারের সময় সাতক্ষীরা ০৪ আসনের সাবেক  সংসদ সদস্য জগলুল হায়দার এর ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত শাহ আলম আওয়ামী লীগের প্রাথমিক সদস্য পদ গ্রহণ করে এলাকায় প্রভাব বিস্তার করেন। সেই সময় জমি দখল, চাঁদাবাজি, অস্ত্র ও মাদক চোরাচালান এবং সীমান্ত দিয়ে অবৈধ গরু পারাপারের মতো কর্মকাণ্ড চালাতেন বলে অভিযোগ রয়েছে। পরবর্তীতে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর তিনি নতুন করে প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা করছেন বলেও অভিযোগ উঠেছে।

অভিযোগ রয়েছে, সীমান্তবর্তী কালিন্দী নদীপথ ব্যবহার করে দীর্ঘদিন ধরে একটি সংঘবদ্ধ চক্রের মাধ্যমে অস্ত্র ও মাদক পাচার করছেন তিনি। এসব অস্ত্র স্থানীয় সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে ব্যবহৃত হচ্ছে বলেও দাবি করেছেন স্থানীয়রা। এমনকি শ্যামনগর থানায় হামলা, ভাঙচুর ও অস্ত্র লুটের ঘটনাতেও তার সম্পৃক্ততার অভিযোগ উঠেছে। এদিকে চলতি বছরের ২৬ জানুয়ারি যৌথ বাহিনীর অভিযানে তার এক সহযোগীকে অস্ত্রসহ আটক করা হলেও থেমে নেই তার সিন্ডিকেটের কার্যক্রম। ৫ আগষ্ট আওয়ামী লীগ সরকার পতনের পর ২০ কোটি টাকা চুক্তিতে সাবেক এমপি জগলুল হায়দার ও শেখ পরিবারের সদস্যদের কৈখালী ইউনিয়নের নৈকাটি সীমান্তবর্তী কালিন্দী নদী পথ ব্যবহার করে নৌকা যোগে ভারতে পলায়নের সহায়তা করেন শাহ আলম। যদিও অভিযুক্ত শাহ আলম তার বিরুদ্ধে আনিত অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। কুখ্যাত সন্ত্রাসী শাহ আলমের রাজনৈতিক পরিচয় নিয়েও রয়েছে বিতর্ক।

একসময় আওয়ামী লীগের সঙ্গে যুক্ত থাকলেও বর্তমানে তিনি নিজেকে বিএনপির নেতা হিসেবে পরিচয় দিচ্ছেন বলে জানা গেছে। তবে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের অভিযোগে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী সামাজিক সাংস্কৃতিক সংস্থা “জাসাস” সাতক্ষীরা জেলা কমিটি থেকে ২০২৪ সালের ১৬ নভেম্বর শাহ আলমকে বহিষ্কার করা হয়। অন্যদিকে, সম্প্রতি এক নারীর সঙ্গে কথোপকথনের একটি অডিও ক্লিপ সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ায় তার ব্যক্তিগত আচরণ নিয়েও সমালোচনা তৈরি হয়েছে। ইতিপূর্বে গণমাধ্যমে শাহ আলমকে গরু চোর, নারী খেগো এবং কুখ্যাত সন্ত্রাসী হিসেবে আখ্যায়িত করা হয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে স্থানীয় ব্যবসায়ী, সাধারণ মানুষ ও সচেতন মহল দ্রুত নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে শাহ আলম ও তার সহযোগীদের আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন।

তাদের মতে, দীর্ঘদিন ধরে চলমান এসব অপরাধের বিচার না হলে এলাকায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি আরও অবনতি ঘটতে পারে।

add-nolta

আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category
Theme Created By ThemesDealer.Com