মঙ্গলবার, ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৯:২৬ পূর্বাহ্ন
Notice :
দৈনিক সাতক্ষীরার তথ্য

যশোর পানি উন্নয়ন বোর্ডের তত্ত্বাবধানে অনিয়মের মহোৎসব

নিজস্ব প্রতিনিধিঃ / ২০১ Time View
Update : শনিবার, ২৪ জানুয়ারী, ২০২৬

যশোর পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) অধীনে কপোতাক্ষ নদীর ভাঙন রোধে নির্মাণাধীন নদী রক্ষা বাঁধের ব্লক তৈরিতে ব্যাপক অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। সাতক্ষীরা জেলার তালা উপজেলার মেলার বাজার এলাকায় চলমান এই প্রকল্পে নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহার করে ব্লক তৈরি করায় স্থানীয়দের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, নদী রক্ষা বাঁধের জন্য যে ব্লক তৈরি করা হচ্ছে, সেখানে মাটিযুক্ত বালু, ধুলোবালিযুক্ত ও মরা পাথর, ইটের খোয়া, ছোট পাথরের স্থলে বড় ও গোটা পাথর ব্যবহার করা হচ্ছে। এমনকি পাথর না ধুয়েই সরাসরি ঢালাই দেওয়া হচ্ছে, যা প্রকল্পের মান ও স্থায়িত্ব নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন তুলেছে।

নিয়ম অনুযায়ী ব্লক তৈরিতে ব্যবহৃত বালুর ফাইননেস মডুলাস (এফএম) ১.৫০ হওয়ার কথা থাকলেও অভিযোগ রয়েছে, ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান আমিন এন্ড কোং যশোর পানি উন্নয়ন বোর্ডের সংশ্লিষ্ট কিছু কর্মকর্তার যোগসাজশে মাত্র ১.৩৭ এমএম বালু ব্যবহার করছে। ফলে তৈরি হওয়া ব্লক মানসম্মত হচ্ছে না এবং অচিরেই ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

এলাকাবাসীর অভিযোগ, অনিয়মের বিষয়টি একাধিকবার জানানো হলেও ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের শ্রমিকরা কোনো নিয়ম-কানুনের তোয়াক্কা না করেই হাজার হাজার নিম্নমানের ব্লক তৈরি করে ফেলেছে। এতে ক্ষুব্ধ হয়ে স্থানীয়রা কাজ বন্ধের দাবি জানালে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের লোকজন গায়ের জোরে ও পাউবো’র কিছু অসাধু কর্মকর্তার মদদে কাজ চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে।

স্থানীয়দের আশঙ্কা, এভাবে নিম্নমানের ব্লক দিয়ে বাঁধ নির্মাণ সম্পন্ন হলে সরকারের কোটি কোটি টাকা অপচয় হবে এবং অল্প সময়ের মধ্যেই বাঁধটি আবারও ঝুঁকির মুখে পড়বে। তারা অবিলম্বে কাজ বন্ধ রেখে সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন।

এ বিষয়ে তালা উপজেলার এক ইউপি সদস্য বলেন, “এলাকাবাসীর অভিযোগের প্রেক্ষিতে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে দেখা গেছে, কাজের মান অত্যন্ত নিম্নমানের। ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মনে করেছে গ্রামাঞ্চলে নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহার করে সহজেই লাখ লাখ টাকা লুট করা যাবে। কিন্তু স্থানীয়রা সচেতন বলেই কাজ বন্ধের দাবি জানিয়েছে। বিষয়টি দ্রুত তদন্ত করা প্রয়োজন।”

তিনি আরও জানান, একই ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ইতোমধ্যে আরও দুটি স্থানে ব্লক তৈরির কাজ পেয়েছে। এখনই ব্যবস্থা না নিলে সেখান থেকেও সরকারের বিপুল অর্থ লুটের আশঙ্কা রয়েছে।

এদিকে অভিযোগের বিষয়ে যশোর পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী পলাশ কুমার ব্যানার্জি এবং প্রকল্প পরিচালক জি, এম আব্দুল মোমিনে ব্যবহারিত মোবাইল নাম্বারে একাধিকবার কল দিলে আলাপ কলটি গ্রহণ না করায় বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।

এ বিষয়ে প্রকল্পের দায়িত্বে উপসহকারী প্রকৌশলী এস, এম সাইদুজ্জামান (রনি) বলেন, “অনিয়মের বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে।”

জানা গেছে, চলতি অর্থবছরে ৩ কোটি ৪৭ লাখ টাকা ব্যয়ে একটি প্যাকেজের আওতায় তিনটি স্থানে কাজ পায় ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান আমিন এন্ড কোং। প্রকল্পটির মেয়াদ শেষ হওয়ার কথা ২০২৬ সালের ২০ জুন।
এমন অবস্থায় সংশ্লিষ্ট দপ্তরের দায়িত্বশীল ভূমিকা ও দ্রুত তদন্ত না হলে কপোতাক্ষ নদী রক্ষা বাঁধ প্রকল্পটি দুর্নীতির আরেকটি দৃষ্টান্তে পরিণত হবে বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।

add-nolta

আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category
Theme Created By ThemesDealer.Com