সরকারি খাল নিয়ে ঘুষ কেলেঙ্কারি: অভিযোগের কেন্দ্রে ইউনিয়ন ভূমি কর্মকর্তা
Reporter Name
/ ৫১৯
Time View
Update :
শনিবার, ২৮ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬
Share
সাতক্ষীরার শ্যামনগর উপজেলার আঁটুলিয়া ইউনিয়নে সরকারি খাল বন্দোবস্তের নামে ঘুষ গ্রহণের গুরুতর অভিযোগ উঠেছে ইউনিয়ন সহকারী ভূমি কর্মকর্তা ও স্থানীয় এক জনপ্রতিনিধির বিরুদ্ধে। অভিযোগে বলা হয়েছে, খোলপেটুয়া নদীর অন্তর্গত ১ নম্বর খাস খতিয়ানের ঝুরঝুড়িয়া খালের ১৫ শতাংশ জায়গা বন্দোবস্ত দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে ভুক্তভোগী পরিবারের কাছ থেকে ৬০ হাজার টাকা উৎকোচ নেওয়া হলেও দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও কোনো বন্দোবস্ত দেওয়া হয়নি।
ভুক্তভোগী আবু বকর সিদ্দিক, যিনি শ্যামনগর উপজেলার আঁটুলিয়া ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা এবং মৃত আ. লতিফের ছেলে, অভিযোগ করেন— ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য সিরাজুল ইসলামের মাধ্যমে আঁটুলিয়া ইউনিয়ন সহকারী ভূমি কর্মকর্তা আশরাফুজ্জামান তার কাছ থেকে টাকা গ্রহণ করেন। কিন্তু প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী সরকারি খাল বন্দোবস্ত না দিয়ে বরং টাকা ফেরত চাইলে নানাভাবে টালবাহানা করা হচ্ছে।
এ ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। এলাকাবাসীর দাবি, সরকারি সম্পত্তি ব্যক্তিগত মালিকানায় বন্দোবস্ত দেওয়ার কোনো আইনগত সুযোগ নেই। তারপরও এমন প্রতিশ্রুতি দিয়ে অর্থ আদায় করা প্রশাসনিক অনিয়ম ও দুর্নীতির স্পষ্ট উদাহরণ।
অভিযোগ আরও রয়েছে, আঁটুলিয়া ইউনিয়নের পশ্চিম বিড়ালক্ষী গ্রামের মৃত আবু আক্কাসের ছেলে মিজানুর রহমান ইউনিয়ন সহকারী ভূমি কর্মকর্তার ঘনিষ্ঠ ব্যক্তি হিসেবে দালালচক্র পরিচালনা করছেন এবং তার মাধ্যমেই ইউনিয়নের বিভিন্ন ঘুষ বাণিজ্য নিয়ন্ত্রণ করা হয়।
শ্যামনগর উপজেলা সহকারী কমিশনার ভূমি রাশেদ হোসাইন বলেন কোন অবস্থাতে নায়েব সরকারি খাল বন্দোবস্ত দিতে পারবে না। এটা বন্দোবস্ত হয় না, এটা ইজারা দিতে পারবে সেটা উপজেলা থেকে।
শ্যামনগর উপজেলা নির্বাহী অফিসার শামসুজ্জাহান কনকের সাথে কথা হলে তিনি এ প্রতিবেদককে বলেন, আমাকে উর্ধতন কর্তৃপক্ষ যে নির্দেশ দিবেন আমি সেটা ফলো করবো। বলে তড়িঘড়ি করে আলাপ কলটি কেটে দেন।
সাতক্ষীরা জেলা প্রশাসক মিস্ আফরোজা আক্তার বলেন, ভুক্তভোগী পরিবারকে আমার কাছে পাঠিয়ে দেন। তারা কেন টাকা ঘুষ দেবে? তাছাড়া সরকারি খাল বন্দোবস্ত দেওয়া যায় না। আপনি বলেছেন আমি তদন্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করছি।
সচেতন মহল বলছে, যদি অভিযোগ সত্য হয় তবে এটি কেবল ব্যক্তিগত প্রতারণা নয়, বরং সরকারি সম্পত্তি নিয়ে প্রভাব খাটিয়ে দুর্নীতির একটি ভয়াবহ চিত্র। বিষয়টি দ্রুত তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি।
এ ব্যাপারে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন স্থানীয়রা এবং নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত সত্য উদঘাটনের দাবি জানিয়েছেন।