সাতক্ষীরার কালিগঞ্জ উপজেলার কৃষ্ণনগর ইউনিয়নের পূর্ব কালিকাপুর মৌজায় ডিসিআরকৃত সরকারি জমি জবরদখলের চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কাছে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন পূর্ব কালিকাপুর গ্রামের মৃত মোজাম ঢালীর ছেলে মো. হাবিবুর রহমান। বুধবার (২ আগস্ট ২০২৬) দুপুরে সরেজমিনে গিয়ে অভিযোগ সংশ্লিষ্ট জমি পরিদর্শন করা হয়। লিখিত অভিযোগে হাবিবুর রহমান উল্লেখ করেন, তার বাকপ্রতিবন্ধী ভাই মো. মেহের আলীর নামে ২০২৩ সালে বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ থেকে ওই সরকারি জমির ডিসিআর (ডিসট্রিক্ট কালেক্টর রেন্ট) প্রদান করা হয়। এরপর থেকে আদালতের নির্দেশনা ও প্রচলিত আইনগত প্রক্রিয়া অনুসরণ করে তারা জমিটি ভোগদখলে রেখে পরিবেশসম্মত উপায়ে বাণিজ্যিকভাবে বালুর ব্যবসা পরিচালনা করে আসছেন।অভিযোগে আরও বলা হয়, একপর্যায়ে ডিসিআর বাতিল হলে মো. মেহের আলী আদালতে দেওয়ানি মামলা নং-৩৭০/২০২৫ দায়ের করেন।
পরবর্তীতে বিজ্ঞ আদালত মামলাটিতে অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞা (স্টে অর্ডার) জারি করেন। আদালতের ওই আদেশের ভিত্তিতে বর্তমানে তারা জমিটি আইনগতভাবে ভোগদখলে রয়েছেন বলে অভিযোগে দাবি করা হয়েছে।লিখিত অভিযোগে বাবুর আলী মোল্লার ছেলে মো. গিয়াস উদ্দীন নাসির (৪৩), মৃত কয়সার গাজীর ছেলে মো. ফজর আলী (৪০) এবং অজ্ঞাতনামা আরও ৭-৮ জনের বিরুদ্ধে ডিসিআরকৃত জমি জবরদখলের চেষ্টা করার অভিযোগ আনা হয়েছে। অভিযোগ অনুযায়ী, তারা জমিতে জোরপূর্বক গাছ রোপণ, হাট-বাজার স্থাপনের উদ্যোগ গ্রহণ এবং বিভিন্নভাবে জমির দখল নেওয়ার হুমকি দিচ্ছেন। এ কারণে যে কোনো সময় অপ্রীতিকর ঘটনা ও আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটতে পারে বলে অভিযোগকারী আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন।অভিযোগে সাতক্ষীরা জেলার কালিগঞ্জ উপজেলার কালিকাপুর (বড়) মৌজার জে.এল. নং-২৪৪, খতিয়ান নং-১, দাগ নং-৪৫৫৫-এর ১.০০ একর ডিসিআরকৃত জমির শান্তিপূর্ণ ভোগদখল নিশ্চিত করা এবং সম্ভাব্য জবরদখল প্রতিরোধে প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করা হয়েছে।
এ বিষয়ে অভিযোগে নাম উল্লেখ থাকা অভিযুক্তদের সঙ্গে মোবাইল ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাদের ব্যবহৃত মোবাইল নম্বর বন্ধ পাওয়ায় বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।এ বিষয়ে কালিগঞ্জ উপজেলা ভারপ্রাপ্ত নির্বাহী কর্মকর্তা মিলন সাহা সাংবাদিকদের বলেন, “লিখিত অভিযোগটি পেয়েছি। বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।