শ্যামনগরে অনলাইন জুয়ার বিস্তার নিয়ে প্রকাশিত সংবাদের পর নতুন করে সামনে আসছে আরও চাঞ্চল্যকর তথ্য। স্থানীয়দের দাবি, রাজনৈতিক ছত্রচ্ছায়ায় পরিচালিত কথিত জুয়ার সিন্ডিকেট শুধু অর্থ হাতিয়ে নিচ্ছে না, ধ্বংস করে দিচ্ছে অসংখ্য তরুণের ভবিষ্যৎ, ভেঙে দিচ্ছে পরিবার, বাড়াচ্ছে সামাজিক অস্থিরতা।
অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে থাকা শ্যামনগর উপজেলা মৎস্যজীবী দলের সাধারণ সম্পাদক শেখ মিলন হোসেনের বিরুদ্ধে এবার আরও কয়েকজন ভুক্তভোগী মুখ খুলতে শুরু করেছেন। যদিও অধিকাংশই নিরাপত্তার কারণে প্রকাশ্যে নাম বলতে রাজি হননি, তবে তাদের অভিযোগের ধরন প্রায় একই। প্রথমে সহজে লাভের প্রলোভন, পরে মোবাইল অ্যাপভিত্তিক বাজির জালে আটকে ফেলা, আর শেষে দেনা ও মানসিক চাপে বিপর্যস্ত জীবন।
স্থানীয় এক যুবক জানান, শুরুতে কয়েক হাজার টাকা জিতিয়ে বিশ্বাস তৈরি করা হয়। পরে বড় অঙ্কের বাজিতে নামিয়ে সর্বস্বান্ত করা হয়। অনেকে এনজিও থেকে ঋণ নিয়েছে, কেউ জমি বিক্রি করেছে, আবার কেউ পরিবার ছেড়ে পালিয়েও গেছে।
এলাকাবাসীর অভিযোগ, শ্যামনগরের বিভিন্ন বাজার, চায়ের দোকান ও নির্দিষ্ট আড্ডাকেন্দ্র থেকে গোপনে পরিচালিত হচ্ছে অনলাইন বেটিং কার্যক্রম। কিছু যুবককে ‘সাব-এজেন্ট’ বানিয়ে পুরো নেটওয়ার্ক বিস্তৃত করা হয়েছে বলেও দাবি তাদের। এসব এজেন্টদের মাধ্যমে বিকাশ, নগদ ও ব্যাংকিং চ্যানেলে লেনদেন করা হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
নাহিদ হাসানের পরিবারের ঘটনার পর নতুন করে আলোচনায় আসে জুয়ার টাকা আদায়ে চাপ প্রয়োগের বিষয়টি। স্থানীয়দের প্রশ্ন, যদি এটি বৈধ ব্যবসা না হয়, তাহলে পাওনা আদায়ে এত প্রভাব কোথা থেকে আসে? অনেকেই আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেন, ভয় ও প্রভাবের কারণে প্রকৃত তথ্য সামনে আসছে না।
এদিকে, অভিযোগ অস্বীকার করে শেখ মিলন হোসেন পুনরায় দাবি করেছেন, তার বিরুদ্ধে একটি মহল পরিকল্পিত অপপ্রচার চালাচ্ছে। তিনি বলেন, আমি রাজনৈতিকভাবে সক্রিয় থাকায় আমাকে সামাজিকভাবে হেয় করার চেষ্টা করা হচ্ছে। আমার কোনো জুয়ার সিন্ডিকেট নেই।
তবে স্থানীয় সচেতন মহল বলছে, অস্বীকার করলেই দায় এড়ানো যাবে না। তারা প্রশাসনের কাছে আর্থিক লেনদেন, মোবাইল ব্যাংকিং হিসাব, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের যোগাযোগ ও অনলাইন কার্যক্রম খতিয়ে দেখার দাবি জানিয়েছেন।
সামাজিক বিশ্লেষকদের মতে, উপকূলীয় অঞ্চলে বেকারত্ব ও প্রযুক্তির সহজলভ্যতাকে কাজে লাগিয়ে অনলাইন জুয়া ভয়াবহ সামাজিক ব্যাধিতে পরিণত হচ্ছে। দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা না নিলে আগামী দিনে এর প্রভাব আরও ভয়ঙ্কর হতে পারে।
অভিযোগের গভীরে গিয়ে কি সত্য উদঘাটন করবে প্রশাসন, নাকি প্রভাবশালীদের ছায়ায় চাপা পড়ে যাবে শ্যামনগরের আলোচিত এই জুয়ার অধ্যায়?