সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৭:০৫ পূর্বাহ্ন
Notice :
দৈনিক সাতক্ষীরার তথ্য

ছাত্রদল নেতা প্রণোদনার ভাগ না পাওয়ায় কৃষি কর্মকর্তাকে মারধর

নিজস্ব প্রতিনিধিঃ / ৪১৬ Time View
Update : শুক্রবার, ৭ নভেম্বর, ২০২৫

শেরপুরের নকলা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তাকে তাঁর অফিস কক্ষে কিল-ঘুসি মেরে লাঞ্ছিত করা হয়েছে। গত বুধবার বিকেলে উপজেলা ছাত্রদলের সদস্য সচিবসহ দুজন এই ঘটনা ঘটিয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। একটি ভিডিও রাতে ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়লে বিষয়টি জানাজানি হয়। এ ঘটনায় থানায় মামলা করেছেন ভুক্তভোগী। কৃষি প্রণোদনার ভাগ না পাওয়ায় এই ঘটনা ঘটেছে বলে জানান স্থানীয়রা। উপজেলা বিএনপির শীর্ষ এক নেতা এ ঘটনাকে অস্বাভাবিক মনে করছেন। গভীর যড়যন্ত্রের গন্ধ পাচ্ছেন বলে দাবি তাঁর।

কর্মকর্তাকে লাঞ্ছিত করার ঘটনায় দোষীদের শাস্তির দাবিতে গতকাল বৃহস্পতিবার উপজেলা পরিষদ প্রাঙ্গণে মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সভা করেছেন সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। এ ঘটনার নিন্দা জানিয়ে বিবৃতি দিয়েছে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) কৃষিবিদ উইং।

ভাইরাল ভিডিওতে দেখা গেছে, বুধবার উপজেলা পরিষদের সরকারি অফিস কক্ষে কাজ করছিলেন কৃষি কর্মকর্তা শাহরিয়ার মোরসলিন মেহেদী। এ সময় সেখানে ঢুকে চেয়ারে বসেন ছাত্রদল নেতা রাহাত হাসান কাইয়্যুম। কথা বলার এক পর্যায়ে কর্মকর্তার গালে চড় দেন তিনি। তাঁর চোখের চশমা খুলে যায়। হতভম্ব কৃষি কর্মকর্তা চেয়ার থেকে উঠে বের হতে চাইলে তাঁর জামার কলার ধরে যেতে বাধা দেন ওই ছাত্রনেতা। এক পর্যায়ে তাঁকে জাপটে ধরেন। অফিসের লোকজন ছুটে এসে পরিস্থিতি সামাল দেন। কিছুক্ষণ পরে ওই কর্মকর্তাকে তাঁর কক্ষে ঢুকে ফোন করতে দেখা যায়। এদিকে খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে আসেন ইউএনও, ওসিসহ বিএনপি নেতারা।

বিষয়টি নিয়ে কথা হয় উপজেলা বিএনপির সাবেক আহ্বায়ক খোরশেদুর রহমানের সঙ্গে। তাঁর ভাষ্য, কোনো বিষয় নিয়ে কৃষি কর্মকর্তাকে চাপ দিলে তাৎক্ষণিক তাঁকে ফোন করে ঘটনা জানান। তিনি ছাত্রদল নেতা কাইয়্যুমের বড় ভাই যুবদল নেতা লোটাসকে বিষয়টি জানালে তিনি কাইয়্যুমকে ফোন করেন। লোটাস কেন ফোন করলেন এই কারণে ক্ষিপ্ত হয়ে কৃষি কর্মকর্তাকে মারধর শুরু করেন কাইয়্যুম। এক পর্যায়ে হাউমাউ করে কেঁদে উঠে ফোন করে তিনি বলেন, ‘খোরশেদ ভাই আমাকে মেরে ফেলল।’ পরে তারা গিয়ে কৃষি কর্মকর্তাকে উদ্ধার করেন।
খোরশেদুর রহমান জানান, মনোনয়ন ঘোষণার পর হঠাৎ করে এমন ঘটনা ঘটায় বিষয়টিকে যড়যন্ত্র হিসেবে দেখছেন তিনি। প্রণোদনা নিয়ে এত বড় ঘটনা হওয়ার কথা নয়। তাঁর দাবি, তাদের এমপি প্রার্থীকে বিব্রত করা ও বিএনপির বিরুদ্ধে জনগণকে ক্ষেপিয়ে তোলার জন্য এই ঘটনা ঘটানো হতে পারে। কারণ ছাত্রনেতা কাইয়্যুমের বাবা মাওলানা সুরুজ্জামান উপজেলা জামায়াতের আমির। এটি নিয়ে মানসিকভাবে অশান্তিতে আছেন উপজেলা বিএনপির নেতাকর্মীরা। একজন বিসিএস কর্মকর্তার গায়ে হাত দেবে এটা কাম্য নয়। এ ঘটনার বিচার চান তারা।
কৃষি কর্মকর্তা শাহরিয়ার মোরসলিন মেহেদী বলেন, ‘ওই ছাত্রনেতা আমার অফিস কক্ষে এসে প্রশ্ন করেন, আমি কেন বদলি হচ্ছি না। পরে প্রণোদনার ভাগ চান। বিষয়টি উপজেলা বিএনপির শীর্ষ নেতা খোরশেদকে জানানোর কিছুক্ষণ পর তারা আমাকে লাঞ্ছিত করেন।’

অভিযোগের ব্যাপারে বক্তব্য জানতে উপজেলা ছাত্রদলের বহিষ্কৃত সদস্য সচিব রাহাত হাসান কাইয়্যুমকে ফোন করে তাঁর নম্বরটি বন্ধ পাওয়া গেছে। তাঁর চাচাতো ভাই নকলা শহর যুবদলের আহ্বায়ক নেতা মশিউর রহমান লোটাসের ভাষ্য, ঘটনা শুনে তিনি ফোন করে তাঁর ভাইকে বকাঝকা করেছেন এবং অফিস থেকে চলে আসতে বলেছেন। দুঃখ করে তিনি জানান, সম্পূর্ণ ভিডিও ফুটেজ দেখার জন্য ইউএনও এবং কৃষি কর্মকর্তার কাছে অনুরোধ করেছেন। বুঝতে চেয়েছেন, সেখানে কোনো কাটছাঁট হয়েছে কিনা, কিন্তু তারা দেখাননি। দুজনের মধ্যে কি এমন হলো যে, গায়ে টাচ করল। এক হাতে তো তালি বাজে না। তিনি বলেন, ‘আমার ভাই যদি কোনো অপরাধ করে থাকে, তাহলে পরিবার ও বিএনপি নেতাকর্মী বসে সঠিক তদন্ত করে সমাধান করা যেত। কিন্তু তা না করে আত্মপক্ষ সমর্থনের সুয়োগ না দিয়ে তাঁকে বহিষ্কার করা হলো।’

কাইয়্যুমের বাবা মাওলানা সুরুজ্জামান বলেন, তিনি নকলা জামায়াতের আমির নন। আমির সারোয়ার। তিনি কোনো পদে নেই। কিন্তু বিএনপি নেতা খোরশেদুর রহমান যে বললেন আপনি আমির, এর জবাবে বলেন, না। তিনি বলেন, ‘ভিডিও দেখেছি। আর কিছু জানি না।’
মাওলানা সুরুজ্জামানকে চেনেন না বলে দাবি করেছেন শেরপুর ১-(সদর) আসনের জামায়াতে ইসলামী মনোনীত এমপি প্রার্থী হাফেজ রাশেদুল ইসলাম। তিনি বলেন, ‘আমাদের দূরভিসন্ধি থাকলে তাদের তাঁকে (রাহাত) বহিষ্কার করা লাগছে কেন? এ প্রশ্ন আমাদের না করে তাদের করেন। মূল প্রশ্ন তাদের দিকে।’ তিনি বলেন, ‘কথার কথা আমার সন্তান ছাত্রদল করেন। ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সংসদ তাকে বহিষ্কার করেছে। এর চেয়ে আর বড় প্রমাণ কি হতে পারে। তিনি (খোরশেদুর) কি এ কথা বলতে পারেন। তাঁর একজন কর্মী যার পদ পর্যন্ত বাতিল করতে হয়েছে কেন্দ্রীয় কমিটির পক্ষ থেকে। এ থেকে কোনো সন্দেহ আছে কিনা সে ছাত্রদল করত।’

নকলা থানার পরিদর্শক (তদন্ত) আবুল কাশেম বলেন, কৃষি কর্মকর্তা বাদী হয়ে দুজনের নামে মামলা করেছেন। তাদের গ্রেপ্তারে পুলিশ অভিযান চালাচ্ছে।

অভিযুক্ত ছাত্রদল নেতা বহিষ্কার
কৃষি কর্মকর্তা লাঞ্ছিতের ঘটনায় বৃহস্পতিবার দুপুরে ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সংসদের তরফ থেকে একটি সংবাদ বিজ্ঞপ্তি দেওয়া হয়েছে। দপ্তর সম্পাদক জাহাঙ্গীর আলম স্বাক্ষরিত বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, নকলা উপজেলা ছাত্রদলের সদস্য সচিব রাহাত হাসান কাইয়্যুমকে প্রাথমিক সদস্যসহ দলের সব সাংগঠনিক পদ থেকে বহিষ্কার করা হলো। সংগঠনের নেতাকর্মীদের তাঁর সঙ্গে কোনো সম্পর্ক না রাখার জন্য নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

add-nolta

আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category
Theme Created By ThemesDealer.Com