সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৭:৩৯ পূর্বাহ্ন
Notice :
দৈনিক সাতক্ষীরার তথ্য

জনস্বাস্থ্য নির্বাহী প্রকৌশলী শহিদুল ইসলাম দুর্নীতি করেও বহাল তবিয়তে

নিজস্ব প্রতিনিধিঃ / ৩৯৫ Time View
Update : শনিবার, ৯ আগস্ট, ২০২৫
দুর্নীতিবাজ’ নির্বাহী প্রকৌশলী শহিদুল ইসলাম

★জনস্বাস্থ্যের উন্নয়নের নামে কোটি কোটি টাকার টেন্ডার দুর্নীতি

★জাতীয় নিরাপত্তা গোয়েন্দা মহাপরিচালক বরাবর অভিযোগ

★নিজের অবস্থান পাকা করতে ফ্যাসিস্ট সরকারের ফান্ডে দিয়েছেন অর্থ

★ধরেছেন নব্য দালাল যুবদলের সদস্য পরিচয়দানকারী আমিনুর রহমান তুহিন কে

★সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা

 

স্বৈরাচার আওয়ামী সরকারের শাসনামলে তিনি যেখানে দায়িত্ব পালন করেছেন, সেখানেই নানা অপকৌশলে ব্যাপক দুর্নীতি করেছেন। তাঁর বিরুদ্ধে সরকারি চাকরির আড়ালে ঠিকাদারি, ঘুষ বাণিজ্য, টেন্ডার টেম্পারিং, কমিশন বাণিজ্যসহ নানা অভিযোগ রয়েছে। জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের মাধ্যমে দেশে স্বৈরাচার সরকারের পতন হলেও তাঁর অবস্থানের কোনো হেরফের হয়নি। এখনো বহাল তবিয়তে থেকে দুর্নীতি করে যাচ্ছেন বলে জোরালো অভিযোগ রয়েছে।

‘দুর্নীতিবাজ’ নির্বাহী প্রকৌশলী শহিদুল ইসলাম এখনো বহাল। তিনি জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর সাতক্ষীরার সাবেক নির্বাহী প্রকৌশলী। বর্তমানে কুষ্টিয়া জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলী হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।

ভুক্তভোগীরা বলছেন, এমন কোনো অপকর্ম নেই, যা তিনি করেননি। অথচ তাঁর বিরুদ্ধে এখনো কোনো শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।
বড়জোর এক জায়গা থেকে আরেক জায়গায় বদলি করা হয়েছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, সাতক্ষীরায় দায়িত্ব পালনকালে জেলায় জনস্বাস্থ্যের উন্নয়নের নামে কোটি কোটি টাকার টেন্ডার দুর্নীতি, রাজনৈতিক প্রভাব, ঘুষ বাণিজ্য, অফলাইনে টেন্ডার করে বিপুল অঙ্কের অর্থ হাতিয়ে নিয়েছেন শহিদুল ইসলাম। এসব দুর্নীতির অভিযোগ ওঠার পর তাঁকে সাতক্ষীরা থেকে কুষ্টিয়া জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরে একই পদে বদলি করা হয়। এখন সেখানেই বহাল রয়েছেন।
শহিদুল ইসলামের দুর্নীতির বিষয়ে স্থানীয় সরকার বিভাগ, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়, স্থানীয় সরকার বিভাগের সচিব, দুুদক চেয়ারম্যান ও জাতীয় নিরাপত্তা গোয়েন্দা মহাপরিচালকের কাছে অভিযোগ করা হলেও এখনো আইনগত কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।

অভিযোগ রয়েছে, তিনি তাঁর পছন্দের ঠিকাদারদের কাজ পাইয়ে দিয়েছেন। আবার কিছু ঠিকাদার কাজ করেও তাঁর পছন্দের না হওয়ায় বিল নিয়ে তাঁরা দুর্ভোগ পোহায়েছেন।

অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, দুর্নীতি দমন কমিশন এর প্রধান কার্যালয় থেকে সাক্ষরিত ০০.০১০০০০.৬০১.০০৪৪.২৫. নং স্মারকের নোটিশে দেখা যায়, জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর, সাতক্ষীরার সাবেক নির্বাহী প্রকৌশলী শহিদুল ইসলাম এর বিরুদ্ধে দরপত্র অনিয়মের মাধ্যমে মোটা অংকের উৎকোচের বিনিময়ে ৩০০ কোটি টাকার ঠিকাদার নির্বাচন। সমগ্র দেশে নিরাপদ পানি সরবরাহ প্রকল্পের টেন্ডার আইডি নং- ৮৫৬৮৪০, ৮৫৬৮৫৪, ৮৫৬৮৫৯, ৮৫৬৮৬১, ৮৫৬৮৬২, ৮৫৬৮৬৩, ৮৫৬৮৬৬, ৮৫৬৮৬৮, ৮৫৬৮৬৯, ৮৫৬৮৭০, ৮৫৬৮৭১, ৮৫৬৮৭৩। পিডিপি প্রকল্পের টেন্ডার আইডি নং ৮৪৬৭০১, ৮৪৬৭০২, ৮৪৬৭০৪, ৮৪৬৭০৬, ৮৪৬৭০৮, এবং উপকূলীয় প্রকল্পের টেন্ডার আইডি নং ৮৫৫৪২২, ৮৫৫৪২৪, ৮৫৫৪২৭, ৮৫৫৪২৯। জিপিএস ও এনএনজিপিএস প্রকল্পের আওতায় টেন্ডার আইডি ৬৬৮৭৮৮ ও ৬৬৮৭৮৯। সমগ্র দেশে নিরাপদ পানি সরবরাহ প্রকল্পের টেন্ডার আইডি নং- ৭২১২৪৩ ও ৭২১২৪৪। টেন্ডার আইডি নং- ৯২৭৭৪৩ ও ৯২৭৭৪৪। সমগ্র দেশে নিরাপদ পানি সরবরাহ প্রকল্পের টেন্ডার আইডি নং – ৭২৩৯১০। জিসিএ প্রকল্পের আওতায় টেন্ডার আইডি নং- ৬৩৩৪৪১ এর ওপেনিং কমিটির প্রতিবেদন, সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারদের অভিজ্ঞতা সনদ যাচাইয়ের প্রমাণক সহ অন্যান্য অভিযোগের প্রেক্ষিতে অনুসন্ধান পূর্বক প্রতিবেদন দাখিলের জন্য দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) এর প্রধান কার্যালয় ঢাকা থেকে উপসহকারী পরিচালক জাকির হোসেনকে টিম লিডার করে দুই সদস্য বিশিষ্ট একটি টিম গঠন করা হয়েছে।

সাবেক ফ্যাসিস্ট সরকারের দলীয় ফান্ডে তিনি নিয়মিত মোটা অঙ্কের টাকা দিয়ে নিজের অবস্থা পাকা করে রেখেছিলেন। তাছাড়া পৌরসভার একটি প্রকল্প কার্যক্রমের শুরু থেকে তিনি নানা অনিয়মের মাধ্যমে বিপুল অঙ্কের টাকা নয়ছয় করলেও পৌরবাসীর ঘরে সুপেয় পানি পৌঁছানো সম্ভব হয়নি।

ভুক্তভোগী প্রথম শ্রেণির একজন ঠিকাদারের অভিযোগ থেকে জানা যায়, শহিদুল ইসলাম আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সাবেক সদস্য ও ছাত্রলীগের সাবেক ভারপ্রাপ্ত সভাপতির ছত্রচ্ছায়ায় থেকে বারবার দুর্নীতি করেও নিজের অবস্থান টিকিয়ে রাখেন। সে সময় তিনি প্রায় চার বছর সাতক্ষীরা জেলার নির্বাহী প্রকৌশলীর দায়িত্বে ছিলেন। এ সময় প্রায় প্রতিটি ওয়ার্ক অর্ডারের জন্য তিনি কমপক্ষে ৫ শতাংশ কমিশন নিতেন। তাঁর বাছাইকৃত ঠিকাদার ছাড়া সেখানে জনস্বাস্থ্যের কোনো কাজ হতো না।

ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, শহিদুল ইসলাম ৫% থেকে ৭% অর্থের বিনিময়ে দরপত্রের গোপন রেট পছন্দের ঠিকাদারকে দিয়ে কাজ বাগিয়ে নিতে সহায়তা করেন। এ ছাড়া টেন্ডার প্রক্রিয়া সম্পন্নের পর প্রাপ্ত ঠিকাদারকে নোটিফিকেশন অব অ্যাওয়ার্ড দিতে এক থেকে দেড় শতাংশ নেন তিনি। কোনো ঠিকাদার অতিরিক্ত টাকা দিতে আপত্তি জানালে প্রকল্প বাস্তবায়নে নানা প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করে তিনি কৌশলে অর্থ হাতিয়ে নেন। এ ছাড়া বিলের ক্ষেত্রে ৩% দিতে হবে বলে অলিখিত আদেশ জারি করেন তিনি। ফাইলের সঙ্গে টাকা না দিলে দিনের পর দিন ফাইল আটকে রাখেন। তাঁর কাজে সহায়তা করেন সিন্ডিকেট সদস্যরা।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক ঠিকাদার জানান, টেন্ডার কমিটি, টেন্ডার যাচাই-বাছাইসহ দরপত্র প্রক্রিয়ায়, রাজনৈতিক প্রভাব, ঘুষ বাণিজ্য, স্বজনপ্রীতি ও দুর্নীতির আশ্রয় নেন তিনি। তাঁর দুর্নীতি নিয়ে গণমাধ্যমে একাধিকবার সংবাদ প্রকাশ হলেও এখন পর্যন্ত কোনো ব্যবস্থা নেয়নি জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর কর্তৃপক্ষ।

জাতীয় নিরাপত্তা গোয়েন্দা মহাপরিচালকের কাছে অভিযোগ করা হলেও এখনো আইনগত কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের ভাষ্য, শহিদুল ইসলাম ২০ মে ২০২১ সালে সাতক্ষীরা জেলা জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলী হিসেবে যোগদান করেন। যোগদানের পর থেকে শুরু হয় প্রকৌশলী মো. শহিদুল ইসলাম এর লাগামহীন ঘুষ বানিজ্য।
সাতক্ষীরায় সুপেয় পানি প্রকল্পের নামে শহিদুল ইসলাম ৪ বছরে শতকোটি টাকা আত্মসাৎ করেছে।

এছাড়া দরপত্র অনিয়মের মাধ্যমে ঠিকাদার নির্বাচন করে শহিদুল ইসলাম হাতিয়ে নেন ৩ শত কোটি টাকা। এসব ঘুষের টাকা দিয়ে শহিদুল ইসলাম নামে বেনামে গড়েছেন অঢেল সম্পদের পাহাড়। যশোর জেলার নিউমার্কেট সংলগ্ন এলাকায় রয়েছে ৫ তলা বিশিষ্ট আলিশান বাড়ি। যশোরের আবাসিক এলাকায় শহিদুল ইসলামের রয়েছে ৮/১০ টি জমির প্লট। এছাড়া গোপালগঞ্জ জেলার কাশিয়ানিতে রয়েছে বিলাসবহুল বাড়ি, দামী গাড়ি সহ অঢেল সম্পদ।

অভিযোগ রয়েছে, তিনি তাঁর পছন্দের ঠিকাদারদের কাজ পাইয়ে দিয়েছেন। আবার কিছু ঠিকাদার কাজ করেও তাঁর পছন্দের না হওয়ায় বিল নিয়ে তাঁরা দুর্ভোগ পোহায়েছেন।

ঠিকাদাররা বলছেন, তাঁর পছন্দের ঠিকাদারদের অগ্রিম বিল এবং নানাভাবে কাজ পাইয়ে দিয়ে দুই কোটি টাকা আত্মসাৎ করেছেন। এ ছাড়া তিনি পৌরসভা প্রকল্পের কাজের ঠিকাদারের বিলের টাকা চেকের মাধ্যমে নিজের নামে উত্তোলন করেছেন। এসব অনিয়ম ও দুর্নীতির মাধ্যমে তিনি প্রায় ৩শ কোটি টাকা আত্মসাৎ করেন।

অভিযোগ উঠেছে, শহিদুল ইসলাম সম্প্রতি যশোর রাইতা ইউনিয়ন যুবদলের সভাপতি পদপ্রার্থী পরিচয়দানকারী নব্য দালাল আমিনুর রহমান তুহিন কতৃক বিভিন্ন মানুষের হয়রানি সহ নানাবিধ ভয় ভীতি প্রদর্শনের।

ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, শহিদুল ইসলাম ৫% থেকে ৭% অর্থের বিনিময়ে দরপত্রের গোপন রেট পছন্দের ঠিকাদারকে দিয়ে কাজ বাগিয়ে নিতে সহায়তা করেন। এ ছাড়া টেন্ডার প্রক্রিয়া সম্পন্নের পর প্রাপ্ত ঠিকাদারকে নোটিফিকেশন অব অ্যাওয়ার্ড দিতে এক থেকে দেড় শতাংশ নেন তিনি। কোনো ঠিকাদার অতিরিক্ত টাকা দিতে আপত্তি জানালে প্রকল্প বাস্তবায়নে নানা প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করে তিনি কৌশলে অর্থ হাতিয়ে নেন। এ ছাড়া বিলের ক্ষেত্রে ৩% দিতে হবে বলে অলিখিত আদেশ জারি করেন তিনি। ফাইলের সঙ্গে টাকা না দিলে দিনের পর দিন ফাইল আটকে রাখেন। তাঁর কাজে সহায়তা করেন সিন্ডিকেট সদস্যরা। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক ঠিকাদার জানান, টেন্ডার কমিটি, টেন্ডার যাচাই-বাছাইসহ দরপত্র প্রক্রিয়ায়, রাজনৈতিক প্রভাব, ঘুষ বাণিজ্য, স্বজনপ্রীতি ও দুর্নীতির আশ্রয় নেন তিনি। তাঁর দুর্নীতি নিয়ে গণমাধ্যমে একাধিকবার সংবাদ প্রকাশ হলেও এখন পর্যন্ত কোনো ব্যবস্থা নেয়নি জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর কর্তৃপক্ষ।

এসব বিষয়ে জানতে প্রকৌশলী শহিদুল ইসলামের মোবাইল ফোনে একাধিবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি কল রিসিভ করেননি।

এ বিষয়ে জনস্বাস্থ্য অধিদপ্তরের খুলনা বিভাগীয় তত্তাবধায়ক প্রকৌশলী মোঃ বাহার উদ্দিন মৃধা মুঠো ফোনে জানান মুক্তিযোদ্ধা কোটায় চাকরি পেয়েছে এটা সত্য। তবে ভুয়া সনদ ব্যবহার করছে আমিও শুনেছি। এ বিষয়ে সত্যতা পেলে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

add-nolta

আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category
Theme Created By ThemesDealer.Com