বুধবার, ২৯ জুলাই ২০২৬, ০৮:৪৯ অপরাহ্ন
Notice :
দৈনিক সাতক্ষীরার তথ্য

তালা সদরের নায়েব মিজানুরের রেট চার্ট: মিস কেস ৫ হাজার, ১৪৪ ধারা ৩ হাজার, হয়রানি ফ্রি

নিজস্ব প্রতিনিধিঃ / ১৮৫ Time View
Update : রবিবার, ২৬ এপ্রিল, ২০২৬

🔴ঘুষ না দিলে কাজ নয়: এটাই নাকি তালা ভূমি অফিসের আইন!
🔴টাকা দেখলেই রিপোর্ট: আইন গেছে ছুটিতে!
🔴ডিজিটাল সেবা? বাস্তবে ‘ক্যাশ অ্যান্ড দালাল’ সিস্টেম!
🔴খাজনা কমে, ঘুষ বাড়ে: সরকার ঠকে, পকেট ভরে!
🔴অভিযোগের জবাব চা: দুর্নীতির নতুন স্টাইল!

সাতক্ষীরা তালা উপজেলার ০৬নং সদর ইউনিয়ন ভূমি অফিসের ভূমি সহকারী কর্মকর্তা (নায়েব) মিজানুর রহমানের বিরুদ্ধে জমি নামজারি (মিউটেশন), খাজনা আদায়সহ বিভিন্ন সেবা দিতে ঘুষ গ্রহণ, দুর্নীতি, অসৌজন্যমূলক আচরণ এবং সরকারি নিয়ম-নীতি লঙ্ঘনের গুরুতর অভিযোগ উঠেছে।

স্থানীয় সেবাগ্রহীতাদের অভিযোগ, ইউনিয়ন ভূমি অফিসে দায়িত্বপ্রাপ্ত নায়েব মিজানুর রহমান টাকা ছাড়া কোনো কাজ করেন না। অর্থের বিনিময়ে তিনি জমির কাগজপত্র যাচাই-বাছাই না করেই প্রতিবেদন তৈরি করেন। এতে প্রতারিত হচ্ছেন অসংখ্য সাধারণ ভূমি মালিক, যারা পরবর্তীতে জমি সংক্রান্ত মামলা ও জটিলতায় পড়ছেন।

ভুক্তভোগীরা জানান, গ্রামের সহজ-সরল মানুষজন ভূমি অফিসে গেলে প্রতিটি ধাপে ধাপে তাদের কাছ থেকে অতিরিক্ত টাকা আদায় করা হয়। নায়েবের এই ঘুষ বাণিজ্যে অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছেন তালা সদর ইউনিয়নের সেবাগ্রহীতারা।

ইউনিয়ন ভূমি অফিস থেকে জমির খাজনা আদায়, দাখিলা প্রদান, নামজারি (মিউটেশন)সহ ভূমি সংক্রান্ত বিভিন্ন সরকারি সেবা প্রদান করা হয়। সরকার ভূমি সেবা সহজীকরণ ও ডিজিটাল কার্যক্রম জোরদার করলেও তালা সদর ইউনিয়ন ভূমি অফিসে তার উল্টো চিত্র দেখা যাচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে।

সূত্র জানায়, ঘুষ ছাড়া সেবা নিতে গেলে সেবাগ্রহীতাদের হয়রানির শিকার হতে হয়। অনেক ক্ষেত্রে আবেদনপত্র জমা দেওয়ার পর তা আর খুঁজে পাওয়া যায় না। দালাল চক্রের বাইরে গিয়ে সেবা নিতে চাইলে আবেদন বাতিলসহ নানা কৌশলে ভোগান্তিতে ফেলা হয়।

ভুক্তভোগীদের দাবি, দালালদের মাধ্যমে এবং অফিসের সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে ঘুষের বিষয়ে সমঝোতা না করলে ফাইল দীর্ঘদিন টেবিলেই পড়ে থাকে। কিন্তু নায়েবের চাহিদামতো টাকা দিলেই মুহূর্তের মধ্যে সমস্যার সমাধান হয়ে যায়।

অনুসন্ধানে জানা গেছে, প্রতিটি নামজারি (খারিজ) ফাইলের জন্য নায়েবকে গড়ে ২ হাজার টাকা দিতে হয়। এছাড়া বিভিন্ন মিস কেস, ১৪৪ ধারাসহ অন্যান্য মামলার প্রতিবেদনের জন্য ৩ থেকে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত আদায় করা হয়। খাজনা আদায়ের ক্ষেত্রেও প্রথমে বেশি টাকা নির্ধারণ করে পরে ঘুষের বিনিময়ে কমিয়ে দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে, যার ফলে সরকার রাজস্ব থেকে বঞ্চিত হচ্ছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

স্থানীয়রা আরও জানান, নায়েব মিজানুর রহমান দালাল চক্রের সহায়তায় অবৈধভাবে জমি সংক্রান্ত কাজের অনুমোদন দিচ্ছেন। এতে ভূমি মালিকরা প্রতারণার শিকার হচ্ছেন এবং এলাকায় ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।

অভিযোগ রয়েছে, ঘুষ গ্রহণের জন্য নায়েবের নিয়োজিত দুইজন ব্যক্তি অফিসে সক্রিয়ভাবে কাজ করছেন। তাদের মাঝে একজন হচ্ছে অফিস পিয়ন (কামাল হোসেন) ও একজন হচ্ছে কম্পিউটার অপারেটর (ওসমান)।

এ বিষয়ে জানতে ইউনিয়ন ভূমি কর্মকর্তা মিজানুর রহমানের সাথে কথা হলে তিনি অভিযোগের বিষয়ে অস্বীকার করেন। এবং তিনি তার অফিসে চায়ের দাওয়াত দেন।

এই পরিস্থিতিতে স্থানীয় বাসিন্দারা তালা সদর ইউনিয়ন ভূমি অফিসের অনিয়মের সুষ্ঠু তদন্ত এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। তারা মনে করেন, যথাযথ তদারকি ও কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ না করলে সাধারণ মানুষের ভোগান্তি আরও বাড়বে।

add-nolta

আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category
Theme Created By ThemesDealer.Com