দীর্ঘ দিন ধরে মানুষের কল্যানে নিরবে নিভৃতে কাজ করে যাচ্ছেন প্রচার বিমুখ আল. আব্দুল মান্নান। তিনি সাতক্ষীরা সদর উপজেলার ধুলিহর ইউনিয়নের কোমরপুর গ্রামের মৃত আমিনউদ্দীনের পুত্র, ৭ ভাইয়ের মধ্যে তিনি ৫ম।তিনি ১পুত্র ২কন্যা সন্তানের জনক।তার পুত্র একজন মেরিনার এবং ২জামাতা মেরিন ইন্জিনিয়ার হিসেবে কর্মরত। সদাহাস্যজ্বল এই মানুষটি ২০১১ সাল থেকে সাতক্ষীরা জেলার ৮টি থানাসহ খুলনা জেলার পাইকগাছা ও কয়রা উপজেলার বিভিন্ন জায়গায় মানব সেবার মহান ব্রত নিয়ে সমাজের অবহেলিত সুবিধা বঞ্চিত গরীব অসহায়,হতদরিদ্র ও দুস্থ ৫ হাজারের বেশি চোখের ছানিপড়া রোগীদের সম্পুর্ন বিনামূল্যে চোখের ছানি অপারেশন, প্রয়োজনীয় ঔষধপত্র ও চশমা প্রদানসহ চক্ষু পরীক্ষা করে আরও ৩ হাজারের বেশি মানুষের মধ্যে চশমা বিতরণ করে মানব সেবার বিরল দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন।
একজন ছানিপড়া চোখের রোগীর অপারেশন ও চিকিৎসা এবং ঔষধসহ যাবতীয় খরচ মিলে ২০ থেকে ৩০ হাজার টাকা খরচ করতে হয়।অথচ ইতোমধ্যে তিনি ৫ হাজারের বেশি চোখের ছানিপড়া রোগীর সম্পুর্ন বিনাখরচায় সফল ভাবে অপারেশন,চিকিৎসা চশমা, যাতায়াত ও ঔষধসহ যাবতীয় ব্যবস্থা মানব সেবায় বিরল দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন। এছাড়া বিনামূল্যে চক্ষু পরীক্ষা করে চশমা বিতরণ করেছেন আরও ২/৩ হাজার রোগীদের।তিনি একান্ত আলাপচারিতায় বলেন- ইংল্যান্ডের জন উইলসন অন্ধ ছিলেন। তিনি অন্ধ মানুষের কষ্ট লাঘবের জন্য তার সমস্ত সম্পদ ব্যয় করার উদ্যোগ নেন।এরই ফলশ্রুতিতে ১৯৭৩ সাল থেকে বাংলাদেশের অন্ধ মানুষের কল্যানে কাজ করা শুরু করেন।
তার প্রতিষ্ঠিত সাইট সেভার্স এর অর্থায়নে খুলনার শিরোমণি বিএনএসবি চক্ষু হাসপাতালের তত্বাবধানে এবং আমার সার্বিক ব্যবস্থাপনায় সাতক্ষীরার প্রত্যন্ত অঞ্চলের হতদরিদ্র, অসহায়, গরীব ও দুস্থ মানুষের কল্যানে নিরবচ্ছিন্ন ভাবে কাজ করে যাচ্ছি। এসময় তিনি আজীবন আত্ম মানবতার সেবায় নিজেকে উৎসর্গ করে মানুষের কল্যাণে কাজ করার দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেন। তিনি এলাকায় বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, মসজিদ, মাদ্রাসা, সামাজিক সংগঠনের সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িত আছেন। তিনি ধুলিহর জাহানাবাজে অবস্থিত মোহাম্মদী(সা:) ওয়েলফেয়ার ট্রাষ্টের সাধারণ সম্পাদক, মানবাধিকার সুরক্ষা দলের সভাপতি,স ম আ: রউফ কমপ্লেক্স এর সাধারণ সম্পাদক, সুমাইয়া খাতুন হাফিজিয়া মাদ্রাসার উপদেষ্টাসহ অসংখ্য প্রতিষ্ঠানের সাথে জড়িয়ে আছেন এবং আজীবন এভাবেই কাজ করে যেতে চান।তিনি ১৯৮৯ সালে ভালুকা চাঁদ পুর গ্রামের কৃতি সন্তান আল: ক্যাপ্টেন রবিউল ইসলামের জাহাজে মেরিনার হিসেবে যোগদান করেন।
১৯৯০ সালের ২৮ জুন ইন্দোনেশিয়া, মালেশিয়া ও ব্রুনাই থেকে কাঠ নিয়ে সিঙ্গাপুর হয়ে মাদ্রাজ যাওয়ার পথে বঙ্গোপসাগরের আন্দামান গ্রেট নিকবরের কাছাকাছি গেলে জাহাজটি পানিতে ডুবে যায়। এসময় ওই জাহাজে থাকা ৩২ জনের মধ্যে ১জন নিখোঁজ হন,১৭ জন মারা যান তিনিসহ বাকীরা অলৌকিক ভাবে বেঁচে যান।কর্মজীবনে মেরিনার হিসেবে সফল ভাবে কাজ শেষ করেন।এরপর অবসর নিয়ে বাড়িতে এসে ২০১১ সাল থেকে আত্ম মানবতার সেবায় এগিয়ে আসেন এবং নিরবে নিভৃতে মানুষের কল্যানে নিরলস ভাবে কাজ করে যাচ্ছেন প্রচার বিমুখ সদাহাস্যজ্বল সকলের প্রিয় এই মানুষটি। ইতোমধ্যে তিনি বিশ্বের শতাধিক দেশ ভ্রমণ করেছেন। তাকে নিয়ে ইংল্যান্ডের একাধিক পত্রিকায় এভাবেই আর্টিকেল লেখা হয়। লেখাগুলো আমাদের পাঠকদের জন্য হুবহু তুলে ধরা হলো।
তিনি বাংলাদেশের মানুষ। মি: আবদুল মান্নান, আমার জীবনে অনেক মানুষের মানবিক কাজ দেখেছি। অনেক মানুষের জীবনাবসান ঘটেছে। অনেকে এখনো গরীব অসহায় মানুষের সেবার কাজে নিজেকে নিয়োজিত রেখেছেন।তার মধ্যে আমি অনেক অনেক খোঁজ নিয়ে জেনেছি, বাংলাদেশের দক্ষিণাঞ্চলের সাতক্ষীরার এক পল্লী গাঁয়ের আবদুল মান্নান তার জীবনে দীর্ঘ ১৫ বছর যাবত হত দরিদ্র অসহায় মানুষের জন্য অনেক অনেক সাহায্য সহযোগিতা করেছেন।
তার মধ্যে যেসব গরীব অসহায় মানুষেরা তাদের চোখের ছানি অপারেশন করতে পারছে না তাদেরকে খুলনা বিএনএসবি শিরোমণি চক্ষু হাসপাতালে নিয়ে তাদেরকে সম্পূর্ণ ফ্রি চোখের ছানি অপারেশন করায়ে এক মানবিক কাজের প্রশংসা কুড়িয়েছেন।
জানা যায়, তিনি বিগত ১৫ বছর যাবত এই মানবিক সেবা করে যাচ্ছেন সাতক্ষীরা জেলার বিভিন্ন স্থানে সমন্বয়কারী হিসেবে।
ইংল্যান্ডের সাইট সেভার্স সংস্থার অর্থায়নে ও ব্র্যাক বাংলাদেশের সহযোগিতায় তিনি এই মানবিক কাজে নিয়োজিত রয়েছেন।
অর্থের অভাবে যারা মানব দেহের সবচেয়ে মুল্যবান চোখের ছানি অপারেশন করতে পারেননা তাদেরকে সম্পূর্ণ ফ্রি চোখের ছানি অপারেশন করার জন্য বিশেষভাবে সহযোগিতা করে থাকেন।
এসব অসহায় মানুষের কাছে তিনি চির স্মরণীয় হয়ে থাকবেন।
তার এই মহতী কাজের জন্য ভূয়সি প্রশংসা করি।
সৃষ্টিকর্তা তাকে আরো উচ্চতর মর্যাদায় অধিষ্ঠিত করুন এই আশির্বাদ রইল।
জন রাসেল,
ইংল্যান্ড থেকে।
ইংল্যান্ডের দি টাইমস ও দি সানডে টাইমস নিউজ পেপারে বাংলাদেশের সাতক্ষীরা সদর উপজেলার এক সমাজ সেবক মোঃ আব্দুল মান্নানকে নিয়ে বেশ একটি আর্টিকেল ছাপানো হয়।
তাতে উল্লেখ করা হয় ২০১২ সাল থেকে জনাব মোঃ আব্দুল মান্নান সাতক্ষীরা জেলার বিভিন্ন স্থানে গরীব অসহায়,হত দরিদ্র মানুষের সেবায় নিয়োজিত রয়েছে। তিনি প্রায় চার পাঁচ হাজার অসহায় মানুষের চোখে ছানি পড়া রোগীদের ছানি অপারেশনের জন্য বিভিন্ন স্থানে সমন্বয়কারী হিসেবে কয়েক হাজার মানুষকে স্বল্প মূল্যে ও বিনামূল্যে চোখের ছানি অপারেশন করায়ে এক অসম্ভব ভূমিকা পালন করেছেন।
কত অসহায় রোগীদের পাশে থেকে এই মানবিক কাজের প্রশংসা করেছেন ইংল্যান্ডের দি টাইমস ও দি সানডে টাইমসের সাংবাদিক ও বাংলাদেশের বহু নীরিহ মানুষেরা ও গন্যমান্য ব্যক্তিবর্গ। সাতক্ষীরা জেলার বিভিন্ন স্থানে সমন্বয়কারী হিসেবে তিনি বহু সুনাম অর্জন করেছেন।
এহেন মানবতার সেবক হিসেবে তিনি আরো বিভিন্ন মাদরাসা, এতিমখানা,হাফিজিখানার সেবামূলক কাজে জড়িত আছেন।
আমরা তার এই মানবিক কাজের জন্য ভূয়সি প্রশংসা করি।