সাতক্ষীরায় বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে জোর পূর্বক ধর্ষণ, চাঁদাবাজি, লুটপাট সহ নানা অভিযোগ উঠেছে। জানা গেছে, ৫ আগস্ট সরকারের পটপরিবর্তনের পর থেকে তালা উপজেলায় বসবাসরত বিভিন্ন সংখ্যালঘু হিন্দু সম্প্রদায়ের নারীদের ঘরে ঢুকে জোর করে ধর্ষণ, জমি দখল, নিরীহ মানুষের বাড়িঘরে লুটপাট, ভাংচুর, জমি দখল, অন্যের জমিতে সীমানা প্রাচীর নির্মাণ, হাট বাজারে চাঁদাবাজি ও আধিপত্য বিস্তারে বেপরোয়া বিএনপির জিয়া মঞ্চ নেতা পরিচয় দানকারী খান মোঃ আব্দুল আহাদ। খোজ নিয়ে জানা গেছে, চাঁদাবাজি, দখলবাজি, নারী লোভী ও লুটপাটের সাথে জড়িত ঐ ব্যক্তি সাতক্ষীরা তালা উপজেলা জিয়া মঞ্চের সাংগঠনিক সম্পাদক।
সে তালা উপজেলার পাটকেলঘাটা ৪ নং কুমিরা ইউনিয়নের রাড়িপাড়া গ্রামের আব্দুর রউফ খান এর ছেলে। খান আব্দুল আহাদ এর এসব অপরাধ,অপকর্ম আর সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে এলাকার মানুষ অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছেন। তাছাড়া তালা উপজেলায় বসবাসকারী সংখ্যালঘু হিন্দু সম্প্রদায়ের নারী ও পুরুষ এখন রীতিমতো আতঙ্ক গ্রস্ত।
এদিকে ৫ আগষ্টের পর বিএনপির কিছু সংখ্যক নেতা কর্মীরা চাঁদাবাজি থেকে শুরু করে জমি দখল সহ নানাবিধ অপরাধের সাথে জড়িয়ে পড়ায় দলের ভাবমূর্তি ও শৃঙ্খলা বজায় রাখার নিমিত্তে অনেক নেতা কর্মীকে দল থেকে স্থায়ীভাবে বহিষ্কার করেছেন কেন্দ্রীয় নেতারা। বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান দলীয় নেতাকর্মীদের চাঁদাবাজি, দখলবাজি ও লুটপাটের রাজনীতি ছেড়ে জনগণের ভালোবাসা অর্জনের নির্দেশ দিয়েছেন। কিন্তু সেই নির্দেশনা অমান্য করে চাঁদাবাজি ও লুটপাটে মেতেছেন তালা উপজেলা জিয়া মঞ্চের সাংগঠনিক সম্পাদক খান মোঃ আব্দুল আহাদ। আব্দুল আহাদের টার্গেট থেকে বাদ পড়েনি সরকারি কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা।
তার কথা মতো কাজ না করলে আ. লীগের দোসর ট্যাগ দিয়ে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নানাভাবে হুমকি-ধামকি দিয়ে চাঁদা আদায় করছেন। আব্দুল আহাদের বেপরোয়া সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে দলের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হচ্ছে বলে জানিয়েছেন বিএনপির একাধিক নেতা কর্মীরা। এসব বন্ধে তারা দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন। নাম প্রকাশ না করার শর্তে একাধিক সংখ্যালঘু হিন্দু সম্প্রদায়ের নারীরা জানান, আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের দিন ৫ আগস্ট মধ্যরাতে আমাদের বাড়িতে ঢুকে আমাদের নারীদের জোর করে ধরে ধর্ষণ করেন খান মোঃ আব্দুল আহাদ। আমরা তার কাছে হাত জোড় করে ক্ষমা চাইলেও ক্ষমা করেনি লম্পট আব্দুল আহাদ। তালা উপজেলা কুমিরা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আজিজুর রহমানের বাসায় যেয়েও লুটপাট চালিয়েছেন খান মোঃ আব্দুল আহাদ ও তার অনুসারী সন্ত্রাসী সিন্ডিকেট। ওই বাসা থেকে ৩৫ ভরি স্বর্ণ, পাঁচটি মোবাইল ফোন ও মূল্যবান জিনিসপত্র লুটপাট করে নিয়ে যান তারা।
৬ আগস্ট তালা উপজেলার কুমিরা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আজিজুর রহমান এর গরুর খামার থেকে ৫০ লাখ টাকার গরু লুট করে নিয়ে যায় খান মোঃ আব্দুল আহাদ। একই দিন ওই এলাকার আরেক ব্যক্তির দোকান থেকে আব্দুল আহাদের নেতৃত্বে মাছের খাদ্য লুটপাট করে নিয়ে যায়। খুন জখমের ভয়ে থানায় কোন অভিযোগ দেয়নি ভুক্তভোগীরা। তালা উপজেলার কুমিরা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আজিজুর রহমান আজিজ বলেন, আমি ক্লিন ইমেজের রাজনীতি করছি। বিগত ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচনে আমাকে বিপুল ভোটে চেয়ারম্যান নির্বাচিত করেছেন। কখনও কারও ক্ষতি করিনি। তবু গত ৫ আগস্ট রাতে বিএনপির নেতা পরিচয় দানকারী খান মোঃ আব্দুল আহাদ দলবল নিয়ে এসে আমার বাড়িতে যে লুটপাট ও ভাংচুর চালিয়েছে তা দুঃখ জনক। খান মোঃ আব্দুল আহাদ এর নেতৃত্বে একদল যুবক আমার বাসায় ঢুকে ৩৫ ভরি স্বর্ণ, পাঁচটি অ্যান্ড্রয়েড মোবাইল, ঘড়ি সহ ঘরের মূল্যবান জিনিসপত্র লুটপাট করে নিয়ে যায়।
তিনি বলেন, রাজনীতিতে ভালো সময় খারাপ সময় সবারই আসবে। তবে সবচেয়ে বেশি কষ্ট পেয়েছি তখন যখন দেখেছি খান মোঃ আব্দুল আহাদ আমার স্ত্রীর গলা থেকে সোনার চেইন ছিনিয়ে নিয়ে গেছে। এটা কোন রাজনৈতিক চর্চা হতে পারে না। এ বিষয় তালা উপজেলা জিয়া মঞ্চের সাংগঠনিক সম্পাদক খান মোঃ আব্দুল আহাদ এর সাথে মুঠোফোনে আলাপকালে তার বিরুদ্ধে আনিত অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, ৫ আগষ্টের পর আমি হিন্দু সম্প্রদায়ের মানুষ কে নিজের বুক পেতে দিয়ে আগলে রেখেছিলাম। লুটপাট, দখলবাজি, চাঁদাবাজির ব্যাপারে জানতে চাইলে তিনি সব অভিযোগ অস্বীকার করেন। এ বিষয় পাটকেলঘাটা থানার অফিসার ইনচার্জ মোঃ মাইনউদ্দিন মুঠোফোনে আলাপকালে বলেন, আমি এ ব্যাপারে অবগত নয়। যদি কেউ লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন তা হলে তদন্ত সাপেক্ষে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।