পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা এবং প্রাণীকুলের অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখার ক্ষেত্রে বৃক্ষরোপণ একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও প্রশংসনীয় কাজ। ইসলামে বৃক্ষরোপণকে শুধু প্রাকৃতিক বা অর্থনৈতিক কাজ হিসেবে দেখা হয়নি, বরং এটিকে অন্যতম শ্রেষ্ঠ ইবাদাত সাদকায়ে জারিয়া হিসাবে বিবেচনা করা হয়।
এমনই একজন বৃক্ষ প্রেমিক ২৪ বছরের বৃক্ষ রোপনের বিশাল কর্মযজ্ঞ থেকে নিজেকে গুটিয়ে নিয়ে অবসর জীবন যাপন করতে চায়। ৬০ ঊর্ধ্ব এ ব্যক্তি যশোর সদরের দেয়াড়া ইউনিয়নের তেঘরিয়া গ্রামের মৃত আব্দুল আজিজ সরকারের ছেলে। দুই সন্তানের এ জনক বৃক্ষরোপণকে জীবনের ব্রত হিসাবে দীর্ঘ ২৪ বছর এ জনপদের প্রত্যন্ত অঞ্চলে বৃক্ষরোপণ করে আসছে।
২০০২ সালে কোমল ৯০টি আম গাছ লাগানোর মাধ্যমে বৃক্ষরোপণ শুরু করেন। সে সময় তিনি নতুনহাট বাজার এলাকার রাস্তার ধারে এ আম গাছ রোপণ করেছিলেন। এ বিষয় রীতিমতো জেলা প্রশাসকের কাছ গাছ লাগানো ও পরিচর্যার অনুমতি সাপেক্ষে বৃহৎ পরিসরে গাছ লাগানো শুরু করেন। এ বছরও জেলা প্রশাসক বরাবর আবেদনে তিনি উল্লেখ করেছেন, ঝিকরগাছা হাসপাতাল রোড হতে কপোতাক্ষ নদ পর্যন্ত তিন’শ টি ফলজ গাছের চারা রোপণ ও পরিচর্যা করতে চান। তিনি আবেদনে আরও উল্লেখ করেন, আমার বয়স ৬০ হয়েছে, এ বছর আমি বৃক্ষরোপণ আনুষ্ঠানিকভাবে শেষ করতে চাই। তবে রোপণকৃত গাছগুলো আগামী পাঁচ-ছয় বছর পর্যন্ত দেখাশুনা করবো। সেলিম শাহ্ কোমল প্রতি বছর বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও রাস্তার দুপাশে প্রায় ২০ হাজার টাকার ফলজ বৃক্ষরোপন করে আসছেন।যশোর সদরের নতুনহাট বাজার, বাজে দুর্গাপুর বাজার, বাজে দুর্গাপুর মাধ্যমিক ও প্রাথমিক বিদ্যালয় প্রাঙ্গণ, বাজে দুর্গাপুর রাস্তা, এড়েন্দা বাজার, এড়েন্দা রাস্তা, নারাঙ্গালি বাজার, নারাঙ্গালি রাস্তা, হালসা বাজার ও রাস্তা, নতুনহাট-ডুমদিয়া রাস্তা, তেঘরিয়া-ধোপাখোলা রাস্তা, ঝিকরগাছা উপজেলার জয়কৃষ্ণপুর প্রাথমিক বিদ্যালয় প্রাঙ্গণ ও রাস্তা, যশোর-বেনাপোল মহাসড়কের নতুনহাট-লাউজানি, গাজীর দরগাহ ইয়াতিম কমপ্লেক্স এ বৃক্ষ রোপণ করেছেন । তিনি এ বছর ঝিকরগাছা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স থেকে কপোতাক্ষ নদ পর্যন্ত রাস্তার দুই ধারে ফলজ বৃক্ষ রোপণ ও পরিচর্যার জন্য জেলা প্রশাসক বরাবর আবেদন করেছেন।
১৪ অক্টোবর বুধবার সকাল ১০টায় যশোর বেনাপোল মহাসড়কের লাউজানি রেল ক্রসিং
চত্বরে গণমাধ্যম কর্মী ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গের উপস্থিতিতে একটি আলোচনা সভায় তিনি অবসর গ্রহণের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা প্রদান করেন। এসময় উপস্থিত ছিলেন জৈষ্ঠ সাংবাদিক দৈনিক আজকের পত্রিকার ঝিকরগাছা প্রতিনিধি এম আর মাসুদ, ঝিকরগাছা প্রেসক্লাবের সহ-সভাপতি আতাউর রহমান জসি, দপ্তর সম্পাদক মফস্বল সাংবাদিক ফোরামের সভাপতি সহকারী অধ্যাপক কে এম ইদ্রিস আলী, ডেইলি ঢাকা পোস্টের যশোর প্রতিনিধি রেজওয়ান বাপ্পি, লাউজানি মাধ্যমিক স্কুলের প্রধান শিক্ষক সেলিম রেজা, জেলা পরিষদের সার্ভেয়ার এম এ মঞ্জু, গাজীর দরগাহ সিনিয়র মাদ্রাসার সহকারী শিক্ষক মাওলানা আশরাফুল ইসলাম, দেয়াড়া ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক মহিলা মেম্বর শাহনাজ বেগম ,বাজে দুর্গাপুর দাখিল মাদ্রাসার মন্টু মাস্টার , কনটেন্ট ক্রিয়েটার নাজমুল হক, বৃক্ষ প্রেমিক কমলের পুত্র সহ স্থানীয় কৃষক, প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক্স মিডিয়ার সাংবাদিকবৃন্দ, কন্টেন্ট ক্রিয়েটার
সহ অন্যান্য সুধিবৃন্দ।
আলোচনা সভায় বক্তারা বৃক্ষ রোপনের গুরুত্ব উল্লেখ করে বলেন পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা,বায়ুমণ্ডল থেকে বিষাক্ত কার্বন ডাই অক্সাইড গ্রহণ করে মানুষের বেঁচে থাকার জন্য অপরিহার্য অক্সিজেন ত্যাগ করা, পর্যাপ্ত গাছপালা রোপনে তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখা, নিয়মিত বৃষ্টিপাতে সাহায্য এবং অতিবৃষ্টি বা খরা প্রতিরোধ করা, উপকূলীয় ঘূর্ণিঝড়, নদীভাঙন ও ভূগর্ভস্থ মাটির ক্ষয় রোধে গাছপালা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
বৃক্ষরোপণ কেবল একটি সামাজিক দায়িত্ব বা পরিবেশ বাঁচানোর আন্দোলন নয়, এটি মহান সৃষ্টিকর্তা আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের এক মহান মাধ্যম। একটি গাছ রোপণ করা মানে পৃথিবীর প্রাণীকুলকে জীবন রক্ষায় সাহায্য করা এবং পরকালের জন্য অনন্ত সওয়াবের ব্যবস্থা করা।” রাসূল সাঃ বলেছেন কোন মুসলমান বৃক্ষ বা শস্য রোপন করলে সেটা তার জন্য সদকা হিসেবে গণ্য হবে। মৃত্যুর পর সব মানুষের সকল আমল বন্ধ হয়ে যাবে কিন্তু তিনটি আমল জারি থাকবে তার ভিতরে অন্যতম আমল হলো সাদকায়ে জারিয়া।অনুষ্ঠানের বক্তারা বৃক্ষ প্রেমিক কমলকে পরিবেশ পদকে মনোনীত করার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন।