সাতক্ষীরার কালিগঞ্জ সরকারি টেকনিক্যাল স্কুল অ্যান্ড কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ হুমায়ুন কবীরের বিরুদ্ধে শিক্ষার্থীদের মানববন্ধনে বাধা দেওয়া, ব্যানার জোরপূর্বক ছিনিয়ে নেওয়া, একাডেমিক জীবন নষ্ট করে দেওয়ার হুমকি প্রদান এবং শিক্ষকদের দিয়ে জোরপূর্বক প্রতিবাদপত্রে স্বাক্ষর করিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, গত কয়েকদিন ধরে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানটির বিভিন্ন অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ স্থানীয় ও জাতীয় সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত হওয়ার পর শিক্ষার্থীরা বিষয়গুলোর জবাবদিহিতা দাবি করে মানববন্ধনের উদ্যোগ নেয়। এ সময় শিক্ষার্থীদের অফিস কক্ষে ডেকে নিয়ে ভয়ভীতি প্রদর্শন করা হয় এবং মানববন্ধন না করার জন্য চাপ সৃষ্টি করা হয় বলে অভিযোগ রয়েছে। একই সঙ্গে তাদের কাছ থেকে মানববন্ধনের জন্য প্রস্তুত করা ব্যানার জোরপূর্বক কেড়ে নেওয়া হয় বলেও অভিযোগ করেছেন শিক্ষার্থীরা।
শিক্ষার্থীদের দাবি, সোমবার ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ হুমায়ুন কবীর ও আইটি শিক্ষক শিমুল হোসেন তাদের একাডেমিক জীবন ক্ষতিগ্রস্ত করে দেওয়ার হুমকি দেন। এতে ভীতসন্ত্রস্ত হয়ে অনেক শিক্ষার্থী ক্যাম্পাস ত্যাগ করে।
এদিকে একই দিন বিকেলে ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ প্রতিষ্ঠানের শিক্ষকদের অফিস কক্ষে ডেকে তার বিরুদ্ধে প্রকাশিত সব অভিযোগকে ‘মিথ্যা, বানোয়াট ও ভিত্তিহীন’ উল্লেখ করে একটি প্রতিবাদপত্রে স্বাক্ষর করার জন্য চাপ দেন বলে অভিযোগ উঠেছে। কয়েকজন শিক্ষক এতে আপত্তি জানালে তাদের শোকজ দেওয়ার ভয় দেখানো হয় বলে অভিযোগ রয়েছে। পরবর্তীতে চাকরির নিরাপত্তার কথা বিবেচনা করে অধিকাংশ শিক্ষক ওই প্রতিবাদপত্রে স্বাক্ষর করতে বাধ্য হন বলেও একাধিক সূত্র দাবি করেছে।
এসব ঘটনার পর শিক্ষা প্রতিষ্ঠানটিতে ভয়, আতঙ্ক ও অস্থিরতার পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের একাংশ। তাদের ভাষ্য, এ পরিস্থিতির কারণে প্রতিষ্ঠানের স্বাভাবিক শিক্ষা কার্যক্রম মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে এবং শিক্ষকরা চাকরির নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগের মধ্যে রয়েছেন।
সচেতন অভিভাবক, শিক্ষার্থী ও স্থানীয়দের দাবি, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের স্বাভাবিক পরিবেশ ফিরিয়ে আনতে অভিযোগগুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ এবং ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ হুমায়ুন কবীরকে দ্রুত অপসারণ করা হোক।
এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে প্রতিবেদক ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ হুমায়ুন কবীরের সঙ্গে যোগাযোগ করলে তিনি অভিযোগ অস্বীকার করেন বলে জানা গেছে। তবে প্রতিবেদকের দাবি, আলোচনার একপর্যায়ে তিনি বিষয়টি সমঝোতার মাধ্যমে নিষ্পত্তির প্রস্তাব দেন এবং ব্যক্তিগতভাবে সাক্ষাৎ করার আগ্রহ প্রকাশ করেন।
স্থানীয়দের মতে, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে সুষ্ঠু ও স্বাভাবিক পরিবেশ ফিরিয়ে আনতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দ্রুত ও কার্যকর হস্তক্ষেপ এখন সময়ের দাবি।