কলেজ বাঁচাও, অধ্যক্ষ হটাও স্লোগানে কালিগঞ্জ টেকনিক্যালে মানববন্ধন
নিজস্ব প্রতিনিধিঃ
/ ৪৭৪
Time View
Update :
সোমবার, ২২ জুন, ২০২৬
Share
সাতক্ষীরার কালিগঞ্জ সরকারি টেকনিক্যাল স্কুল অ্যান্ড কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ প্রকৌশলী মো. হুমায়ুন কবিরের বিরুদ্ধে স্বেচ্ছাচারিতা, শিক্ষার্থীদের সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণ, শিক্ষকদের অপমান, ভয়ভীতি প্রদর্শন এবং বিভিন্ন অনিয়ম-দুর্নীতির অভিযোগ তুলে তার অপসারণ ও পদত্যাগের দাবিতে মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেছেন শিক্ষার্থীরা।
সোমবার (২২ জুন) সকাল ১০টায় কলেজ ক্যাম্পাসের সামনে এ মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। এতে বিভিন্ন বিভাগের বিপুলসংখ্যক শিক্ষার্থী অংশগ্রহণ করে। কর্মসূচিতে অংশ নেওয়া শিক্ষার্থীরা অভিযোগ করেন, ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষের আচরণ ও কর্মকাণ্ডে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের স্বাভাবিক পরিবেশ নষ্ট হচ্ছে এবং শিক্ষার্থীদের মধ্যে চরম ক্ষোভ ও উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে।
মানববন্ধনে বক্তারা অভিযোগ করেন, অধ্যক্ষ শিক্ষার্থীদের নিয়ে কুরুচিপূর্ণ মন্তব্য করেছেন, একাদশ শ্রেণির কয়েকজন শিক্ষার্থীকে ভয়ভীতি প্রদর্শন করে আপত্তিকর হুমকি দিয়েছেন এবং শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের সামনেই শিক্ষকদের অপমানজনকভাবে হেয়প্রতিপন্ন করেছেন। তারা আরও দাবি করেন, সাতক্ষীরা জেলা ও জেলার মানুষ সম্পর্কে অবমাননাকর মন্তব্য করায় শিক্ষার্থী ও সাধারণ মানুষের মধ্যে ব্যাপক অসন্তোষের সৃষ্টি হয়েছে।
বক্তারা বলেন, একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শৃঙ্খলা ও মানবিক মূল্যবোধ প্রতিষ্ঠার পরিবর্তে আতঙ্ক ও দমন-পীড়নের পরিবেশ সৃষ্টি করা হয়েছে। ফলে শিক্ষক-শিক্ষার্থী সম্পর্ক ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে এবং শিক্ষার স্বাভাবিক পরিবেশ মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে।
মানববন্ধনে অংশগ্রহণকারীরা কলেজের বিভিন্ন খাতে আর্থিক অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগও তুলে ধরেন। তারা বলেন, এসব অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত সত্য উদঘাটন করে দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা প্রয়োজন।
মানববন্ধনে বক্তব্য দেন ইলেকট্রনিক্স বিভাগের শিক্ষার্থী সাজ্জাদ, ফুহাদ ও তানজিল এবং কম্পিউটার বিভাগের শিক্ষার্থী মোখলেছুর ও ফয়সাল। এ সময় উপস্থিত ছিলেন শরিফুল, মিরাজুল, আদৃত, তাসকিন, মাহাদী, রিশাদসহ বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষার্থীরা।
বক্তারা অবিলম্বে ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষকে অপসারণ, উত্থাপিত অভিযোগগুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত এবং শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে স্বাভাবিক পরিবেশ ফিরিয়ে আনার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেন। অন্যথায় আরও কঠোর কর্মসূচির হুঁশিয়ারিও দেন তারা।