বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৬:১৬ অপরাহ্ন
Notice :
দৈনিক সাতক্ষীরার তথ্য

নারী নির্যাতন মামলায় বাদী বন্দি: আসামি মুক্ত

হাফিজুর রহমান কালিগঞ্জ: / ১৭৬ Time View
Update : বুধবার, ১০ জুন, ২০২৬

*প্রেম-ভালোবাসা নাটকে বিয়ে
*মাদকে অস্বীকৃতি নারী নির্যাতন মামলা
*পরিবারকে রক্ষা করতে রাজনৈতিক প্রভাব,সোর্স পরিচয়ে মিথ্যা মামলায় ফাঁসানো
*সন্তানের পিতৃত্বের দাবি নিয়ে দ্বারে দ্বারে

সাতক্ষীরার প্রথম স্ত্রী মাসুরার দায়ের করা নারী ও শিশু নির্যাতন মামলা থেকে খালাস পেতে প্রভাব খাটিয়ে পুলিশকে ব্যবহার করে মিথ্যা মাদক, ডাকাতি মামলার বাদী স্ত্রী, নিজের শিশু সন্তানকে জেলে আটকে মামলা থেকে খালাস পেলেন মাদক সম্রাট ও অস্ত্র ব্যবসায়ী ছাত্রলীগ নেতা নাসির ও তার বাবা-মা ভাই। ঘটনা ধামাচাপা দিতে বিভিন্ন ভুইফোঁড়, অনলাইন সহ ২/১টি নিউজ পোর্টালে মামলার বাদী স্ত্রীকে লেডি ডাকাত মাদক উদ্ধার শিরোনামে সংবাদ প্রকাশ করিয়ে জন দৃষ্টি ভিন্ন খাতে নেওয়ার পায়তারা করেছে ওই আলোচিত ছাত্রলীগ নেতা। এ বিষয়ে তার প্রথম স্ত্রী শ্যামনগর থানার চন্ডিপুর গ্রামের আবুবক্কারের কন্যা মাসুরা খাতুন পুলিশের আইজিপি, বিভাগীয় পুলিশ কমিশনার, জেলা পুলিশ সুপার বরাবর লিখিত অভিযোগ ছাড়াও আলোচিত মাদক কারবারি ও অস্ত্র ব্যবসায়ী নাসিরের বিরুদ্ধে রয়েছে প্রায় ডজন খানিক জিডি, সাইবার, পর্নোগ্রাফির ,অভিযোগ ও গ্রেফতারি পরোয়ানা।

তবে অনেক অভিযোগের বিষয় থানায় ফাইল বন্দী হয়ে আটকা পড়ে আছে। যাহার অনেকগুলো বর্তমানে তদন্তাধীন আছে বলে জানা গেছে । বিষয়টি নিয়ে অনুসন্ধানে এমনই চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে এসেছে পুলিশ ও ছাত্রলীগ নেতা নাসির ও তার পরিবারের বিরুদ্ধে। অনুসন্ধানে জানা যায় কালিগঞ্জ উপজেলার দুদলি গ্রামের সোনালী ব্যাংকের সাবেক নৈশ প্রহরী সম্পত্তির লোভে নিজ ভাইকে খুলনার এরশাদ শিকদারকে দিয়ে হত্যা করে লাশ টুকরো টুকরো করা এস, এম বাসারাত উল্লাহার পুত্র এস ,এম নাসির উদ্দিন নবম শ্রেণী পর্যন্ত লেখাপড়া শেষ করে বাবার অবাধ্য ছিনতাই, চুরি সহ বখাটে ভবঘুরে হিসাবে ঘুরে বেড়াতো। পরে উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে পরীক্ষা দিয়ে এসএসসি পাসের সুবাদে কালিগঞ্জ কলেজে ভর্তি হয়। ২০১৫ সালে কালীগঞ্জ থানায় তৎকালীন ওসি এমদাদ যোগদান করে নাসিরকে ছাত্রলীগ বানানো এবং পরবর্তীতে ওসির প্রভাবে কালিগঞ্জ উপজেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক পদ কিনে দিয়ে নিজের অর্থ, ঘুষ আদায়ের ক্যাশিয়ার হিসাবে ব্যবহার করে আসছিল।

সেই সুবাদে ওসি এমদাদের জোগান দিতে এলাকার বহু মেয়ে, গৃহবধুর সংসার নষ্ট ছাড়াও শত শত বিএনপি, জামায়তের নেতা কর্মীদের গ্রেফতার, ক্রসফায়ার, মামলার ভয় দেখিয়ে কোটি কোটি টাকা ঘুষ, উৎকোচ আদায় করা হতো এই নাসিরকে দিয়ে। ঐ সময় সাতক্ষীরা জুড়ে টক অফ দ্যা টাউনে ছিল ছাত্রলীগ নেতা নাসিরের নাম। সেই সময় থেকে সাতক্ষীরার সীমান্তবর্তী অঞ্চলে মাদক ও অস্ত্র ব্যবসার সিন্ডিকেট গড়ে তোলে এই ছাত্রলীগ নেতা নাসির। আর এই সিন্ডিকেটের সেকেন্ড-ইন কমান্ড হিসেবে তার ভাই মোহনকে ব্যবহার করে আসছে। ঐ সময় থানার সামনে পানি উন্নয়ন বোর্ডের জায়গা দখল করে অবৈধ স্থাপনা নির্মাণ করে লক্ষ লক্ষ টাকা বিক্রি করে হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। তার মাদক ও অস্ত্র ব্যবসার পরিধি এবং এক স্থান থেকে অন্য স্থানে নেওয়ার হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহারের জন্য শ্যামনগর থানার চন্ডিপুর গ্রামের আবুবক্কারের কন্যা মাসুরার সঙ্গে প্রেমজ সম্পর্ক গড়ে তুলে পালিয়ে সাতক্ষীরা কাটিয়ায় বাসা ভাড়া নিয়ে থাকতো। সেখানে মাদক ব্যবসায়ীদের মনোরঞ্জন ও আড্ডাখানায় ব্যবহার করার পাঁয়তারা চালানো সহ এই সমস্ত অবৈধ কার্যক্রমের প্রতিবাদ করলে গর্ভে ৬ মাসের সন্তান থাকা অবস্থায় নাসির তার স্ত্রী, প্রেমিক মাসুরাকে পিটিয়ে বাসা থেকে তাড়িয়ে দেয়।

বিষয়টি নিয়ে ওসি ইমদাদের নিকট গেলে অভিযোগ না নিয়ে থানা থেকে তাড়িয়ে দেয়। পরে বিয়ে অস্বীকার করায় কোলে শিশু কন্যা সন্তান নিয়ে পিতৃত্বে ও বিচারের দাবিতে দ্বারে দ্বারে ঘুরে বেড়াতো থাকে। এরই মধ্যে ওসি এমদাদ বদলি হয়ে সাতক্ষীরা সদর থানায় যাওয়ার সুযোগে স্থানীয় গণমাধ্যম কর্মীদের সহায়তায় ছাত্রলীগ নেতা নাসিরের স্ত্রী মাসুরা বেগম বাদী হয়ে গত ২৬/১/১৮ ইং তারিখে স্বামী নাসির উদ্দিন, শশুর বাসারাতুল্লাহ, শাশুড়ি নুরুন্নাহার এবং দেবর মোহন সরদারকে আসামি করে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন সংশোধনী ২০০৩ ১১ (গ) ৩০ ধারায় কালীগঞ্জ থানায় একটি মামলা দায়ের করে। কালিগঞ্জ থানার মামলা নং- ১৬। জিআর ১৬/১৮। মামলা দায়েরে পুলিশ শ্বশুর, শাশুড়ি এবং দেবরকে গ্রেফতার করে জেলহাজতে পাঠালেও স্বামী ছাত্রলীগ নেতা নাসির থেকে যায় ধরাছোঁয়ার বাইরে।

মামলার তদন্তে সত্যতা পেয়ে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা তৎকালীন থানার উপ-পরিদর্শক ফণীভূষণ সরকার আসামিদের বিরুদ্ধে গত ১৬/৬/১৮ ইং তারিখে বিজ্ঞ আদালতে ৮৯ নং অভিযোগ পত্র দাখিল করেন। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে ছাত্রলীগ নেতা নাসির ও তার দোসর তৎকালীন ওসি এমদাদের সহায়তায় স্ত্রীর মামলা থেকে নিজেকে বাঁচাতে শ্যামনগর থানার বাধ ঘাটা গ্রামের মাদক ব্যবসায়ী গোলাম আযমের নিকট থেকে ৭০ পিস ইয়াবা উদ্ধারের ঘটনায় শ্যামনগর থানার এ এস আই রফিকুল ইসলামের দায়ের করা মাদক মামলায় আসামি দেখিয়ে স্ত্রী মাসুরাকে কোলের শিশু সন্তানসহ গ্রেফতার করে জেল হাজতে পাঠায়। এতেও খ্যান্ত না হয়ে পরবর্তীতে ২০২৩ সালে শ্যামনগর থানার এস,আই পিংকু মন্ডল কে মোটা অংকের টাকা ঘুষ দিয়ে আবারো ২০ পিস ইয়াবা উদ্ধার দেখাইয়া গত ৩০/১/২৩ ইং তারিখে এস আই পিংকু মন্ডল বাদী হয়ে আবারো একটি মাদক আইনে মামলা দায়ের করে মাসুরার বিরুদ্ধে।

মামলা নং ৩১। জিআর ৩১/২৩। এরপর ছাত্রলীগ নেতা নাসির অন্যের ছেড়ে দেওয়া স্ত্রী এবং প্রবাজপুর গ্রামের কানা অলিউল্লাহর কন্যা আজমিরা সুলতানা পাখিকে বিয়ে করে বিভিন্ন জায়গায় বাসা ভাড়া নিয়ে হানি ট্রাপ, মাদক ও অস্ত্র ব্যবসার আস্তানা গড়ে তোলে। এদিকে ছাত্রলীগ নেতা নাসিরের বিরুদ্ধে দায়ের করা নারী নির্যাতন মামলার বিচারের শেষ পর্যায়ে সাক্ষী গ্রহণের সময় উল্লিখিত মামলা গুলো ছাড়াও কালিগঞ্জ থানার বিষ্ণুপুর গ্রামের মধুসূধন কর্মকারের বাড়িতে একটি ডাকাতি মামলার অজ্ঞাত আসামীদের জায়গায় বাদি স্ত্রী মাসুরা খাতুনকে মামলায় প্রভাব এবং মোটা অংকের ঘুষ দিয়ে গ্রেফতার এবং মালামাল উদ্ধার নাটক দেখিয়ে মামলায় খালাস না হওয়া পর্যন্ত জেলহাজতে আটকে রাখা হয়। নারী ও শিশু নির্যাতন যমুন আইনের মামলায় দীর্ঘদিন বাদী অনুপস্থিত থাকার কারণ দেখিয়ে বিজ্ঞ আদালত গত ১৭/৭/২৫ ইং তারিখে নারী নারী ও শিশু নির্যাতন মামলার আসামি ছাত্রলীগ নেতা নাসির উদ্দিন ও তার বাবা, মা ভাই মামলা থেকে খালাস পান। এ দিকে দ্বিতীয় স্ত্রী জেলা যুবলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক আজমিরা সুলতানাকে নিয়ে ফূর্তি করে বেড়ালেও ৭ বছরের শিশু কন্যা নেহাকে নিয়ে প্রথম স্ত্রী মাসুরা স্বামী ও সন্তানের পিতৃত্বের দাবিতে দ্বারে দ্বারে ঘুরে বেড়াচ্ছে।

গত জুলাই আন্দোলন ৫ আগস্টের পরে প্রকাশ্যে না আসলেও পুরানো বন্ধু পুলিশ সদস্যের সঙ্গে সখ্যতা রেখে মাদক ও বিভিন্ন সহিংসতা, দখল, চাঁদাবাজি কাজে অস্ত্র বিক্রিও ভাড়া দিয়ে আসছে নিষিদ্ধ সংগঠনের ছাত্রলীগ নেতা নাসির। কৃষ্ণনগরের আওয়ামী লীগ নেতা অমল মাস্টারের জমি দখলের জন্য রওশন কাগুজি,ডাকাত ইয়ার আলী, ইদ্রিসকে সাথে নিয়ে মৌতলায় এসে একটি মৎস্য ঘেরের বাসায় বসে ১ লক্ষ ২০ হাজার টাকা দিয়ে নাইন এমএম পিস্তল ও গুলি নাসিরের নিকট থেকে কিনে নেওয়ার বিষয়টি বিজ্ঞ আদালতের ম্যাজিস্ট্রেটের নিকট দেওয়া ডাকাত ইয়ার আলীর ১৬৪ ধারার স্বীকারোক্তিতে এদের নাম উঠে আসলেও পুলিশ আজ পর্যন্ত নাসির সহ তার সহযোগীদের গ্রেফতার না করায় জনমনে আতঙ্ক ক্ষোভ বিরাজ করছে। এছাড়াও দীর্ঘদিন ধরে নাসিরের বিক্রয় করা এবং ভাড়া দেওয়া অস্ত্রের ঝনঝনানিতে কৃষ্ণনগরের আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি চরম অবনতিতে পৌঁছেছে। ২০১৮ সালের ৮ সেপ্টেম্বর নাসিরের ভাড়া করা অস্ত্রে কৃষ্ণনগর ইউনিয়ন পরিষদের জনপ্রিয় চেয়ারম্যান জাতীয় পার্টির নেতা কে,এম মোশারফ হোসেনকে কৃষ্ণনগর বাজারের যুবলীগ অফিসের সামনে বসা অবস্থায় প্রকাশ্য গুলি ও কুপিয়ে হত্যা করে। উক্ত মামলায় ইয়ার আলী ,বাহার আলী, রেজাউল, ইদ্রিস দীর্ঘদিন জেলহাজতে থাকে।

জামিনে বেরিয়ে এসে মামলার বাদী মোশারফ কন্যা বর্তমান চেয়ারম্যান সাফিয়া পারভিনকে হত্যা ও অস্ত্রের ভয় দেখিয়ে এলাকা ছাড়া করেছে। এর পরও নিষিদ্ধ সংগঠন ছাত্র লীগ নেতা নাসির ধরাছোঁয়ার বাইরে থেকে প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়ালেও পুলিশ তাকে আটক করতে পারেনি।বিষয়টি নিয়ে উপজেলা বাসী মাননীয় পুলিশের আইজিপি, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও প্রধানমন্ত্রীর আশু হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

add-nolta

আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category
Theme Created By ThemesDealer.Com