শুক্রবার, ৩১ জুলাই ২০২৬, ১০:৪০ অপরাহ্ন
Notice :
দৈনিক সাতক্ষীরার তথ্য

ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগের দোসর সন্ত্রাসী শাহ আলমের গ্রেফতার দাবি

নিজস্ব প্রতিনিধিঃ / ৩০৭ Time View
Update : শুক্রবার, ১৭ এপ্রিল, ২০২৬

সাতক্ষীরার শ্যামনগর উপজেলার কৈখালী ইউনিয়নে গাজী শাহ আলমকে ঘিরে চাঁদাবাজি, জমি দখল, সীমান্তপথে অবৈধ কর্মকাণ্ড ও নানা অনিয়মের অভিযোগে চরম উদ্বেগ ও আতঙ্ক বিরাজ করছে। স্থানীয়দের দাবি, তার ধারাবাহিক সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছে সাধারণ মানুষ, এবং দ্রুত তাকে গ্রেফতার করে আইনের আওতায় আনার জোর দাবি উঠেছে। অভিযোগ রয়েছে, আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে সাতক্ষীরা-৪ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য জগলুল হায়দারের ঘনিষ্ঠ আত্মীয় পরিচয়ে এলাকায় প্রভাব বিস্তার করেন শাহ আলম। সে সময় আওয়ামী লীগের প্রাথমিক সদস্যপদ গ্রহণ করে রাজনৈতিক পরিচয়ের আড়ালে দীর্ঘদিন ধরে জমি দখল, চাঁদাবাজি ও ক্ষমতার অপব্যবহারের মাধ্যমে আধিপত্য বিস্তার করেন বলে স্থানীয়রা অভিযোগ করেন।

তবে ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর হঠাৎ করেই দলীয় পরিচয় বদলে নিজেকে বিএনপির নেতা হিসেবে পরিচয় দিতে শুরু করেন তিনি। এমনকি সাতক্ষীরা জেলা জাসাসের কমিটিতেও অনুপ্রবেশের অভিযোগ ওঠে। পরবর্তীতে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড, চাঁদাবাজি ও জমি দখলের অভিযোগে তাকে ওই কমিটির যুগ্ম আহ্বায়ক পদ থেকে বহিষ্কার করা হয়। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বহিষ্কারের পরও থেমে নেই তার তৎপরতা। তার নেতৃত্বে আগ্নেয়াস্ত্র ও দেশীয় অস্ত্রে সজ্জিত একটি সংঘবদ্ধ চক্র গড়ে উঠেছে, যারা কৈখালী ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকায় লুটপাট, জমি দখল ও চাঁদাবাজি চালিয়ে যাচ্ছে। গত ৫ আগস্টের পরপরই পরানপুর বাজারে তিনটি দোকানে লুটপাটের ঘটনাতেও তার সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ রয়েছে।

এছাড়া সীমান্তবর্তী কালিন্দী নদীপথ ব্যবহার করে ভারত থেকে মাদক ও অস্ত্র চোরাচালানের সঙ্গেও তার সম্পৃক্ততার অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়দের দাবি, স্থলপথের ঝুঁকি এড়াতে নৌপথ ব্যবহার করে বিজিবির নজর ফাঁকি দিয়ে এসব অবৈধ কার্যক্রম পরিচালিত হয়। একইসঙ্গে সীমান্তপথে অবৈধভাবে গরু পারাপারের সঙ্গেও তার জড়িত থাকার অভিযোগ রয়েছে। অতীতে বিভিন্ন গণমাধ্যমে এ ধরনের অভিযোগে তাকে “গরু চোর” হিসেবেও আখ্যায়িত করা হয়েছে। অনুসন্ধানে আরও জানা গেছে, সাবেক এমপি জগলুল হায়দারের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতার বিভিন্ন ছবি ব্যবহার করে দীর্ঘদিন এলাকায় প্রভাব বিস্তার করেন শাহ আলম। যদিও সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম থেকে এসব ছবি সরিয়ে ফেলেছেন তিনি।

প্রতিবেদকের হাতে তার আওয়ামী লীগের প্রাথমিক সদস্যপদ গ্রহণের একটি রশিদও এসেছে। স্থানীয় বিএনপির একাংশের নেতাকর্মীরা অভিযোগ করে বলেন, শাহ আলম একজন সুবিধাবাদী ব্যক্তি, যিনি ক্ষমতাসীন দলের পরিচয় ব্যবহার করে ব্যক্তিস্বার্থ হাসিল করেন। তাদের ভাষ্য, “যে দল ক্ষমতায় থাকে, তিনি সেই দলের নাম ব্যবহার করে এলাকায় প্রভাব বিস্তার করেন।” এলাকাবাসীর অভিযোগ, তার কর্মকাণ্ডে জনমনে চরম আতঙ্ক সৃষ্টি হয়েছে এবং রাজনৈতিক দলগুলোর ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হচ্ছে। তারা দ্রুত তাকে গ্রেফতার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।

তবে এ বিষয়ে প্রশাসনের পক্ষ থেকে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি। অন্যদিকে, অভিযুক্ত শাহ আলম তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।

add-nolta

আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category
Theme Created By ThemesDealer.Com