সাতক্ষীরার শ্যামনগরে নীলডুমুর খেয়াঘাটের ইজারা দেওয়ার নামে এক মাঝির কাছ থেকে নগদ ৫০ হাজার টাকা গ্রহণ করে প্রতারণার অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় এক প্রভাবশালী ব্যক্তির বিরুদ্ধে। টাকা নেওয়ার পর দীর্ঘ সময় পার হলেও ঘাট বুঝিয়ে দেওয়া তো দূরের কথা, টাকা ফেরত দিতেও গড়িমসি করে এখন সম্পূর্ণ যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন করে দিয়েছেন অভিযুক্ত এমন অভিযোগ ভুক্তভোগীর।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, শ্যামনগর উপজেলার ডুমুরিয়া গ্রামের বাসিন্দা মো. মোহর আলী মোল্যা, পিতা মৃত সোহরাব মোল্যা, দীর্ঘদিন ধরে মাঝি হিসেবে খেয়াঘাট পরিচালনার সঙ্গে জড়িত। তিনি অভিযোগ করেন, গাবুরা ইউনিয়নের ১২ নম্বর ওয়ার্ড জামায়াতে ইসলামীর আমীর মো. দিদারুল ইসলাম তার অনুকূলে নীলডুমুর খেয়াঘাটের ডাক (ইজারা) পাইয়ে দেওয়ার আশ্বাস দেন।
এ প্রলোভনে পড়ে চলতি রমজান মাসে মোহর আলী মোল্যা নগদ ৫০ হাজার টাকা প্রদান করেন। এ সময় স্থানীয় ব্যক্তি মো. আনোয়ার হোসেন (চকবারা গ্রামের বাসিন্দা) সাক্ষী হিসেবে উপস্থিত ছিলেন। শর্ত ছিল, ডাকের অফিসিয়াল পরচা বাদী নিজেই বহন করবেন।
কিন্তু অভিযোগ অনুযায়ী, টাকা গ্রহণের পর অভিযুক্ত দিদারুল ইসলাম আর কোনো ধরনের কার্যক্রম গ্রহণ করেননি। বরং সময়ক্ষেপণ করে একপর্যায়ে ভুক্তভোগীকে হয়রানি করতে থাকেন এবং বর্তমানে সম্পূর্ণভাবে যোগাযোগ বন্ধ করে দিয়েছেন।
ভুক্তভোগী মোহর আলী মোল্যা বলেন, “আমি বারবার যোগাযোগ করেছি, কিন্তু তিনি আজ-কাল করে ঘুরিয়েছেন। এখন ফোনও ধরেন না। আমি আমার কষ্টের টাকা ফেরত চাই।”
এ ঘটনায় ক্ষোভ ও উদ্বেগ প্রকাশ করে স্থানীয়রা বলেন, খেয়াঘাট ইজারার মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে এ ধরনের প্রতারণা সাধারণ মানুষের জন্য মারাত্মক ক্ষতির কারণ হয়ে দাঁড়াচ্ছে। তারা দ্রুত তদন্ত করে দোষীদের আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন।
এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট সংসদ সদস্যের নিকট লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। ভুক্তভোগী আশা করছেন, যথাযথ তদন্তের মাধ্যমে তার পাওনা টাকা উদ্ধারসহ অভিযুক্তের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।