বিএনপি করলে বোনাসে জমি দখল ফ্রি! শ্যামনগরে মিঠুর ‘রাজনৈতিক অফার’ নিয়ে তোলপাড়
নিজস্ব প্রতিনিধিঃ
/ ৭৯৫
Time View
Update :
বুধবার, ১৫ এপ্রিল, ২০২৬
Share
সাতক্ষীরার শ্যামনগরে দেশের অন্যতম বৃহৎ রাজনৈতিক দল বিএনপির ভাবমূর্তিকে প্রশ্নবিদ্ধ করে বেপরোয়া চাঁদাবাজি ও দখলবাজির অভিযোগে অভিযুক্ত হয়েছেন আসাদুজ্জামান মিঠু নামে এক নব্য বিএনপি নেতা, যাকে স্থানীয়রা ‘আওয়ামী লীগ ঘরানার দোসর’ হিসেবেই আখ্যা দিচ্ছেন।
সম্প্রতি তার দেওয়া একটি বিতর্কিত বক্তব্য সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে রাজনৈতিক অঙ্গনে শুরু হয়েছে তীব্র আলোচনা-সমালোচনা। ভিডিওতে দেখা যায়, তিনি কর্মীদের উদ্দেশ্যে সরাসরি বা পরোক্ষভাবে এমন ইঙ্গিত দিচ্ছেন “বিএনপির লোক হয়ে যদি জমি দখলই করতে না পারি, তাহলে দল করে লাভ কী?” যা মুহূর্তেই দলীয় নীতির সঙ্গে সাংঘর্ষিক হিসেবে চিহ্নিত হয়।
গত ২৬ মার্চ সন্ধ্যায় শ্যামনগরের নওয়াবেকি বাজার ফেরিঘাটে প্রকাশ্য জনসম্মুখে দেওয়া এই বক্তব্য ছড়িয়ে পড়ার পর তৃণমূল নেতাকর্মীদের মধ্যেও ক্ষোভের সঞ্চার হয়েছে। সাধারণ মানুষ থেকে শুরু করে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরাও বলছেন, এমন কাণ্ডজ্ঞানহীন ও আইনবিরোধী বক্তব্য বিএনপির দীর্ঘদিনের আন্দোলন-সংগ্রাম এবং সাম্প্রতিক ‘ক্লিন ইমেজ’ তৈরির প্রচেষ্টাকে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে।
বিশেষ করে, ৫ আগস্টের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বিএনপি যখন দখলদারিত্ব ও চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি ঘোষণা করেছে, ঠিক সেই সময়ে দলের একজন পরিচয়ধারীর মুখে এমন বক্তব্য দলটির অবস্থানকে প্রশ্নের মুখে ঠেলে দিয়েছে। অনেকেই প্রশ্ন তুলছেন আসাদুজ্জামান মিঠু কি ইচ্ছাকৃতভাবেই বিএনপির ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ করে ভিন্ন কোনো রাজনৈতিক উদ্দেশ্য হাসিলের চেষ্টা করছেন?
দলীয় সূত্রে জানা গেছে, বিএনপি ইতোমধ্যে একাধিকবার সতর্ক করেছে দলের নাম ব্যবহার করে কেউ দখলদারিত্ব বা চাঁদাবাজিতে জড়ালে তাকে কোনো ছাড় দেওয়া হবে না, বরং সরাসরি বহিষ্কারের মতো কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এ ঘটনায় অভিযুক্ত মিঠুর বিরুদ্ধে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়ার প্রস্তুতি চলছে বলেও জানা গেছে।
এদিকে সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা বলছেন, একটি গণতান্ত্রিক দলের নেতার মুখে এমন অগণতান্ত্রিক বক্তব্য শুধু অনভিপ্রেতই নয়, এটি আইন ও নৈতিকতার সরাসরি লঙ্ঘন। এর দায় ব্যক্তির মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকে না, পুরো দলকেই এর খেসারত দিতে হয়।
অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে আসাদুজ্জামান মিঠু দাবি করেন, “আমার বিরুদ্ধে আনা সব অভিযোগ ভিত্তিহীন। একটি মহল রাজনৈতিকভাবে আমাকে হেয় করার জন্য অপপ্রচার চালাচ্ছে।”
তবে সংশ্লিষ্ট ওই বক্তব্যের ভিডিও ইতোমধ্যে সংবাদমাধ্যমের হাতে এসেছে এবং তা সংরক্ষিত রয়েছে, যা নিয়ে নতুন করে বিতর্ক আরও ঘনীভূত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
দলীয় পরিচয় কি এখন ‘দখলবাজির লাইসেন্স’? শ্যামনগরের এই ঘটনাই যেন সেই প্রশ্নকে আবারও সামনে এনে দিয়েছে। এখন দেখার বিষয়, বিএনপি কথার সঙ্গে কাজ মিলিয়ে এই বিতর্কে কতটা কঠোর অবস্থান নেয়।