রাজনীতির আড়ালে জুয়ার সাম্রাজ্য; শ্যামনগরে গডফাদার শেখ মিলনের কীর্তিতে তোলপাড়!
নিজস্ব প্রতিনিধিঃ
/ ৯৮৩
Time View
Update :
রবিবার, ১২ এপ্রিল, ২০২৬
Share
সাতক্ষীরা জেলার শ্যামনগর উপজেলার আটুলিয়া ইউনিয়নে অনলাইন জুয়ার ভয়াল থাবায় একটি পরিবার নিঃস্ব হয়ে পড়ার ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে। অভিযোগ উঠেছে, স্থানীয় এক রাজনৈতিক পরিচয়ধারী ব্যক্তি দীর্ঘদিন ধরে অনলাইন জুয়ার সিন্ডিকেট পরিচালনা করে সাধারণ মানুষকে সর্বস্বান্ত করছেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, আটুলিয়া ইউনিয়ন মৎস্যজীবী দলের সাধারণ সম্পাদক শেখ মিলন হোসেন বিভিন্ন অনলাইন জুয়ার সাইট ওয়ান এক্স বেট, বেট ৩৬৫, মোস্ট বেট বিডি, ৯ উইকেটসহ একাধিক প্ল্যাটফর্মের ‘মাস্টার এজেন্ট’ হিসেবে কাজ করছেন। তার প্রলোভন ও কৌশলের ফাঁদে পড়ে বহু সাধারণ মানুষ আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
এমনই এক ভুক্তভোগী শ্যামনগর উপজেলার আটুলিয়া এলাকার বাসিন্দা আবদুল হাকিমের ছেলে মোঃ নাহিদ হাসান। অভিযোগ অনুযায়ী, শেখ মিলন হোসেনের মাধ্যমে অনলাইন জুয়ার সঙ্গে জড়িয়ে পড়ে নাহিদ ধীরে ধীরে প্রায় ৬ লক্ষ টাকার দেনায় জড়িয়ে পড়েন। পরিস্থিতি এতটাই ভয়াবহ হয়ে ওঠে যে, শেষ পর্যন্ত নাহিদের পিতা আবদুল হাকিম নিজের জমি বিক্রি করে ৫ লক্ষ ৩০ হাজার টাকা পরিশোধ করতে বাধ্য হন।
তবে বাকি ৭০ হাজার টাকা পরিশোধে অপারগতা প্রকাশ করলে, উল্টো পাওনা আদায়ের জন্য শেখ মিলন হোসেন শ্যামনগর থানার অফিসার ইনচার্জ বরাবর অভিযোগ দায়ের করেন। এ ঘটনায় সাধারণ মানুষের মাঝে তীব্র ক্ষোভ ও প্রশ্নের সৃষ্টি হয়েছে। জুয়ার মাধ্যমে অর্থ লেনদেন বৈধ না হলেও, সেই অর্থ আদায়ে অভিযোগ গ্রহণ কতটা যৌক্তিক?
স্থানীয় সচেতন মহল বলছেন, অনলাইন জুয়ার এই ভয়াবহ বিস্তার সমাজে নৈতিক অবক্ষয় ও অর্থনৈতিক বিপর্যয় ডেকে আনছে। প্রশাসনের নীরবতা ও কার্যকর পদক্ষেপের অভাবকে দায়ী করে তারা অবিলম্বে জুয়ার সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
অভিযুক্ত মৎস্যজীবী দলের সাধারণ সম্পাদক শেখ মিলন হোসেনের নিকট জানতে চাইলে তিনি এ প্রতিবেদক কে বলেন, আপনি যা বলছেন ঠিক আছে। তাছাড়া রাজনৈতিক প্রতিহিংসা হিসেবে আমার প্রতিপক্ষরা সামাজিকভাবে আমাকে হেয় করতে এই নীল নকশা তৈরি করেছে। আমি নাহিদ এর কাছে ধান বিক্রির টাকা পাবো। এটা কোন জুয়ার টাকা না।
এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করে এলাকাবাসী বলছেন, এখনই ব্যবস্থা না নিলে আরও বহু পরিবার এভাবে সর্বস্বান্ত হবে। অনলাইন জুয়ার বিরুদ্ধে কঠোর অভিযান এবং জড়িতদের আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করার জোর দাবি উঠেছে সর্বস্তরে।