বহিষ্কারের পরও বেপরোয়া ‘ভূমিদস্যু’ হাবিবুল্লাহ; দখল নাটকের নতুন পর্ব!
নিজস্ব প্রতিনিধিঃ
/ ৭৭১
Time View
Update :
শুক্রবার, ১০ এপ্রিল, ২০২৬
Share
সাতক্ষীরার শ্যামনগর উপজেলার আটুলিয়া ইউনিয়নে বহিষ্কৃত কথিত যুবদল নেতা হাবিবুল্লাহর দৌরাত্ম্য যেন থামছেই না। দলীয় পদ হারিয়েও তার নেতৃত্বে গড়ে ওঠা ‘পেটুয়া বাহিনী’ একের পর এক জমি দখল ও নিরীহ মানুষকে উচ্ছেদের অভিযোগে অভিযুক্ত হচ্ছে। সর্বশেষ এক হৃদয়বিদারক ঘটনায়, এক অসহায় বিধবা বৃদ্ধার বসতভিটা জোরপূর্বক দখল করে তাকে পরিবারসহ রাস্তায় ফেলে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে।
ভুক্তভোগী মোছাঃ রনজিনা খাতুন (৫২) অভিযোগ করে জানান, পশ্চিম বিড়ালক্ষী মৌজায় সরকারের কাছ থেকে ৯৯ বছরের বন্দোবস্ত পাওয়া ২১ শতক জমিতে তিনি প্রায় এক দশক ধরে বসবাস করে আসছিলেন। নিজের শ্রমে গড়ে তোলা সেই বাড়িতেই মেয়ে মিনারা খাতুন ও দুই নাতিকে নিয়ে কষ্টে-সৃষ্টে জীবনযাপন করছিলেন তিনি।
অভিযোগ অনুযায়ী, গত ১৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ তারিখ দুপুর আনুমানিক ২টার দিকে হাবিবুল্লাহ (৩৬) তার সহযোগী খোকন (৫০), ইদ্রিস (৩৫) এবং আরও ৯-১০ জন সশস্ত্র ব্যক্তিকে সঙ্গে নিয়ে ওই বাড়িতে অনধিকার প্রবেশ করে। এসময় তারা বৃদ্ধা ও তার নাতিদের টেনে-হিঁচড়ে বাড়ি থেকে বের করে দেয় এবং প্রধান ফটকসহ ঘরের দরজায় তালা ঝুলিয়ে দখল নেয়।
চোখের পানি ধরে রাখতে না পেরে রনজিনা খাতুন বলেন, “আমার স্বামী নেই, মেয়েরও স্বামী নেই। ছোট ছোট বাচ্চা নিয়ে দিনমজুরি করে ওই ঘরে থাকতাম। হাবিবুল্লাহর লোকজনের ভয়ে আমরা কিছুই বলতে পারিনি। এখন আমরা পথে পথে ঘুরছি। প্রতিবাদ করলে মেরে ফেলার হুমকি দিচ্ছে।”
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, হাবিবুল্লাহর বিরুদ্ধে পূর্ব থেকেই একাধিক জমি দখল ও দখলবাজির অভিযোগ রয়েছে। এসব অভিযোগ গণমাধ্যমে প্রকাশিত হওয়ার পর বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটি তাকে দল থেকে বহিষ্কার করে। কিন্তু বহিষ্কার তার দৌরাত্ম্য কমাতে পারেনি—বরং আরও বেপরোয়া হয়ে উঠেছে বলে অভিযোগ স্থানীয়দের।
এলাকাবাসীর দাবি, হাবিবুল্লাহর নেতৃত্বে একটি শক্তিশালী ভূমিদস্যু চক্র গড়ে উঠেছে, যারা সাধারণ মানুষকে জিম্মি করে ভয়ভীতি দেখিয়ে জমি দখল করছে। তার বিরুদ্ধে কেউ মুখ খুললেই শারীরিক নির্যাতন ও প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে।
এ ঘটনায় রনজিনা খাতুন বাদী হয়ে শ্যামনগর থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। ঘটনার সাক্ষী হিসেবে স্থানীয় সুজন হোসেন ও বুলবুলি খাতুনসহ একাধিক ব্যক্তি জবরদখলের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
শ্যামনগর থানার পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, অভিযোগটি তদন্তাধীন রয়েছে এবং দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
সাতক্ষীরা পুলিশ সুপার আরেফিন জুয়েল বলেন, “কোন অবস্থাতেই অপরাধীরা ছাড় পাবে না। একজন অসহায় নারীর বসতভিটা জোরপূর্বক দখলের বিষয়টি আমরা গুরুত্বসহকারে দেখছি। তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
সাতক্ষীরা জেলা প্রশাসক আফরোজা আক্তার বলেন, “ভুক্তভোগীকে জেলা প্রশাসকের কাছে লিখিত অভিযোগ দিতে বলা হয়েছে। বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
অপরদিকে, খুলনা রেঞ্জের ডিআইজি মোঃ রেজাউল হকের ব্যবহৃত মোবাইল নম্বরে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
এলাকাবাসীর জোর দাবি, এই দখলবাজ সিন্ডিকেটের লাগাম টেনে ধরতে এবং অসহায় বৃদ্ধার বসতভিটা ফিরিয়ে দিতে প্রশাসনকে অবিলম্বে কঠোর ও দৃশ্যমান পদক্ষেপ নিতে হবে। অন্যথায়, যেকোনো সময় বড় ধরনের সামাজিক অস্থিরতা সৃষ্টি হতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন তারা।