শুক্রবার, ৩১ জুলাই ২০২৬, ০৯:৩১ অপরাহ্ন
Notice :
দৈনিক সাতক্ষীরার তথ্য

শ্যামনগরে তিন দোকানে কোটি টাকার লুটের অভিযোগ: সন্ত্রাসী গডফাদার শাহ আলমের বিরুদ্ধে ক্ষোভ

নিজস্ব প্রতিনিধিঃ / ৬৮৫ Time View
Update : মঙ্গলবার, ৭ এপ্রিল, ২০২৬

সাতক্ষীরার শ্যামনগর উপজেলার কৈখালী ইউনিয়নে গাজী শাহ আলমকে কেন্দ্র করে দোকান লুটপাট, চাঁদাবাজি, জমি দখলসহ নানা সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। বিশেষ করে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট রাতে পরানপুর বাজারে তিনটি ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে সংঘটিত লুটপাটের ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, ওইদিন রাত ৮টা থেকে ৯টার মধ্যে শাহ আলমের নেতৃত্বে ৩০ থেকে ৪০ জনের একটি সশস্ত্র দল বাজারের তিনটি দোকানের শাটার ভেঙে প্রবেশ করে ব্যাপক লুটপাট চালায়। এতে প্রায় এক কোটি টাকার বেশি মালামাল এবং ক্যাশবাক্সে থাকা নগদ অর্থ লুট হয়ে যায়।

ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ী কওছার আলী গাজী জানান, তার ‘বিসমিল্লাহ গার্মেন্টস’ নামীয় দোকান থেকে প্রায় ৩৫ থেকে ৪০ লাখ টাকার রেডিমেড তৈরিকৃত পোশাক ও কাপড়ের মালামাল সহ নগদ ১৬-১৭ হাজার টাকা লুট করা হয়। একইভাবে ব্যবসায়ী নিমাই রপ্তান ও পরেশ গাইনের দোকানেও হামলা চালিয়ে মালামাল ও নগদ অর্থ নিয়ে যায় দুর্বৃত্তরা। ভুক্তভোগী কওছার আলী অভিযোগ করে বলেন, ঘটনার পর সেনাবাহিনীসহ প্রশাসনের বিভিন্ন দপ্তরে অভিযোগ দিয়েও কোনো প্রতিকার পাননি। তিনি দাবি করেন, রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে শাহ আলম বিষয়টি ধামাচাপা দিয়েছেন। এমনকি সাম্প্রতিক সময়ে বিভিন্ন গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশের পর অন্য ভুক্তভোগীদের ভয়ভীতি ও মারধরের শিকার হতে হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি। স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, শাহ আলম দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক পরিচয় পরিবর্তনের মাধ্যমে এলাকায় প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। আওয়ামী লীগ সরকারের সময় তিনি সাবেক এমপি জগলুল হায়দারের ঘনিষ্ঠ পরিচয়ে সক্রিয় ছিলেন এবং ৫ আগস্টের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর নিজেকে বিএনপির নেতা হিসেবে পরিচয় দিতে শুরু করেন।

পরে জেলা জাসাসের একটি কমিটিতে যুক্ত হলেও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের অভিযোগে তাকে বহিষ্কার করা হয়। এলাকাবাসীর অভিযোগ, বহিষ্কারের পরও তার কার্যক্রম থেমে নেই। বরং তার নেতৃত্বে একটি সশস্ত্র সিন্ডিকেট গড়ে উঠেছে, যারা এলাকায় লুটপাট, জমি দখল ও চাঁদাবাজির সঙ্গে জড়িত। এছাড়া সীমান্তবর্তী কালিন্দী নদীপথ ব্যবহার করে মাদক ও অস্ত্র চোরাচালানের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। স্থানীয় বিএনপির একাংশের নেতাকর্মীরা তাকে ‘সুবিধাবাদী’ আখ্যা দিয়ে বলেন, তিনি সবসময় ক্ষমতাসীন দলের নাম ব্যবহার করে ব্যক্তিগত প্রভাব বিস্তার করেন। এদিকে এলাকাবাসী ও ভুক্তভোগীরা দ্রুত শাহ আলম ও তার সহযোগীদের আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।

এ বিষয়ে অভিযুক্ত শাহ আলমের মুঠোফোনে একাধিকবার ভিন্ন ভিন্ন নম্বর থেকে তার ব্যবহৃত নম্বরে কল দিয়ে আলাপের চেষ্টা কালে আলাপ কলটি গ্রহণ না করায় বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।

add-nolta

আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category
Theme Created By ThemesDealer.Com