শ্যামনগরের আটুলিয়ায় দোকান দখলের অভিযোগ; কাঠগড়ায় যুবদল নেতা হাবিবুল্লাহ
নিজস্ব প্রতিনিধিঃ
/ ১০২৪
Time View
Update :
সোমবার, ১৬ মার্চ, ২০২৬
Share
সাতক্ষীরার শ্যামনগর উপজেলার ১০ নম্বর আটুলিয়া ইউনিয়নে যুবদল নেতা হাবিবুল্লাহ ও তার সহযোগীদের বিরুদ্ধে জোরপূর্বক দোকান ঘর দখলের অভিযোগ উঠেছে।
এ ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে এবং স্থানীয় সচেতন মহল দোষীদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন। অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, আটুলিয়া ইউনিয়নের পশ্চিম বিড়ালক্ষী গ্রামের প্রয়াত জহুর আলী মোল্যা ও উত্তর আটুলিয়া গ্রামের মো. জোনাব আলী মোল্যা প্রায় ৩৫–৩৬ বছর ধরে সরকারি খাস খতিয়ানের জমিতে কাপড়ের ব্যবসা পরিচালনা করে আসছিলেন।
পরবর্তীতে একই স্থানের আটুলিয়া মৌজার দাগ নং ৫১৫৮ এর ১২.৬৬ বর্গমিটার জমি ভুক্তভোগী মেহেদী হাসান বৈধভাবে উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) অফিস থেকে চান্দিনা লাইসেন্স নিয়ে ব্যবহার করে আসছিলেন। তিনি ১৪২১ থেকে ১৪৩২ বাংলা সন পর্যন্ত নিয়মিত ভাড়া পরিশোধ করেছেন।
তার চান্দিনা লাইসেন্স নম্বর ২০৬/২৫-২৬ এবং চেক নং ৮০৯৯০/১৫, তারিখ ৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬। মেহেদী হাসান এর বাবা জোনাব আলী একই স্থানের আটুলিয়া মৌজার দাগ নং ৫১৫৮ এর ১২.৬৬ বর্গমিটার জমি বৈধভাবে উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) অফিস থেকে চান্দিনা লাইসেন্স নিয়ে ব্যবহার করে আসছিলেন।
তিনিও ১৪২১ থেকে ১৪৩২ বাংলা সন পর্যন্ত নিয়মিত ভাড়া পরিশোধ করেছেন। তার চান্দিনা লাইসেন্স নম্বর ২০৫/২৫-২৬ এবং চেক নং ৮০৯৯০/১৪ তারিখ ০৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬। সরকারি নীতিমালা অনুযায়ী ভাড়া পরিশোধ করে ওই স্থানে ব্যবসার উদ্দেশ্যে দোকান ঘর নির্মাণ করেন মেহেদী হাসান ও তার বাবা জোনাব আলী।
কিন্তু অভিযোগ রয়েছে, আটুলিয়া ইউনিয়নের সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক ও শ্যামনগর উপজেলা যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক হাবিবুল্লাহ এবং তার সহযোগী ১ নম্বর ওয়ার্ডের আক্তারুজ্জামান (লিটিল), আবুল হাসানের ভাই আবু সাঈদসহ কয়েকজন জোরপূর্বক দোকানটি দখল করে নেয়।
স্থানীয়দের অভিযোগ, হাবিবুল্লাহ ও তার সহযোগীরা প্রায়ই সংঘবদ্ধভাবে বাজার এলাকার সরকারি খাস খতিয়ানভুক্ত জমিতে নির্মিত অন্যের দোকান বা জায়গা দখল করে পরে তা অন্যত্র বিক্রি করে থাকে।
এ কারণে এলাকায় তাদের বিরুদ্ধে আতঙ্কের পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন অনেকেই। উল্লেখ্য, চান্দিনা লাইসেন্স হলো সরকারি হাট-বাজারের খাসজমিতে অস্থায়ীভাবে দোকান বা স্থাপনা তৈরি করে ব্যবসা করার জন্য ভূমি অফিস থেকে দেওয়া বাৎসরিক অনুমতি।
নিয়ম অনুযায়ী প্রতি বছর ফি পরিশোধ করে লাইসেন্স নবায়ন করতে হয়। এদিকে ভুক্তভোগী মেহেদী হাসান জানান, গত ১২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ তারিখে নির্বাচনী ব্যস্ততার কারণে প্রশাসনের নজরদারি কম থাকার সুযোগে হাবিবুল্লাহ ও তার সহযোগীরা তার নির্মিত দোকান ঘরটি জোরপূর্বক দখল করে নেয়।
তিনি প্রশাসনের হস্তক্ষেপে দ্রুত তার দোকানটি ফেরত পাওয়ার দাবি জানিয়েছেন।