মঙ্গলবার, ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৭:৫৯ পূর্বাহ্ন
Notice :
দৈনিক সাতক্ষীরার তথ্য

শিক্ষক মফিদুল কাণ্ড: তদন্ত নয়, কি চলছে ধামাচাপা!!

নিজস্ব প্রতিনিধিঃ / ২১৫ Time View
Update : মঙ্গলবার, ২৭ জানুয়ারী, ২০২৬

সাতক্ষীরার তালা উপজেলার ঘোনা পল্লীমঙ্গল মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ধর্মীয় বিষয়ক শিক্ষক মফিদুল ইসলামের ভাইরাল অশালীন ভিডিও কাণ্ডে দিন যত গড়াচ্ছে, ততই ঘনীভূত হচ্ছে রহস্য। প্রথম দফার তথাকথিত ‘সিমেন অ্যানালাইসিস’ ব্যাখ্যায় জনমনে যে অবিশ্বাস তৈরি হয়েছিল, এখন তা রূপ নিচ্ছে ক্ষোভে। স্থানীয়দের অভিযোগ এটি আর নিছক একটি ব্যক্তিগত কেলেঙ্কারি নয়, বরং একটি সংঘবদ্ধ ধামাচাপা দেওয়ার প্রক্রিয়া।

ঘটনার প্রায় এক মাস পার হলেও প্রশাসনের পক্ষ থেকে দৃশ্যমান কোনো কঠোর পদক্ষেপ নেই। অভিযুক্ত শিক্ষক এখনো বহাল তবিয়তে, নেই সাময়িক বরখাস্তের আদেশ, নেই কোনো বিভাগীয় ব্যবস্থা। উল্টো তদন্তের নামে সময়ক্ষেপণ ও দায়সারা তৎপরতা পরিস্থিতিকে আরও সন্দেহজনক করে তুলেছে।

সূত্র বলছে, তালা উপজেলা নির্বাহী অফিসারের নির্দেশে উপজেলা মাধ্যমিক একাডেমিক সুপারভাইজার প্রভাস কুমার দাসকে তদন্তের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। এখানেই উঠছে বড় প্রশ্ন, একই শিক্ষা প্রশাসনের একজন কর্মকর্তা কীভাবে একজন শিক্ষকের বিরুদ্ধে নিরপেক্ষ তদন্ত করবেন?

স্থানীয় অভিভাবক ও সচেতন নাগরিকদের ভাষ্য, এটি স্পষ্ট স্বার্থের সংঘাত (Conflict of Interest)। তারা বলছেন, “রক্ষকই যদি অভিযুক্ত পক্ষের অংশ হন, তাহলে ন্যায়বিচার আসবে কোথা থেকে?”

আরও বিস্ফোরক অভিযোগ উঠেছে অর্থ লেনদেন ঘিরে। এলাকাজুড়ে গুঞ্জন, লক্ষাধিক টাকার ‘ম্যানেজমেন্টে’ বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা চলছে। যদিও প্রশাসনের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে বিষয়টি অস্বীকার করা হয়েছে, তবে তদন্তের গতি ও প্রকৃতি দেখে সাধারণ মানুষ মোটেও আশ্বস্ত নয়।

অভিযোগকারীদের দাবি, তদন্ত কর্মকর্তারা ঘটনার মূল আলামত, ভিডিও ধারণের স্থান, সময়, সংশ্লিষ্ট ফার্মেসি, সম্ভাব্য ডিজিটাল ট্রেইল কিংবা প্রত্যক্ষদর্শীদের বক্তব্য, এসব গুরুত্বপূর্ণ দিক উপেক্ষা করছেন। বরং অভিযুক্তের বক্তব্যকেই প্রাধান্য দিয়ে প্রতিবেদন তৈরির প্রস্তুতি চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

একজন ধর্মীয় বিষয়ক শিক্ষকের বিরুদ্ধে এমন অশালীন ভিডিও ছড়িয়ে পড়ার পরও যদি প্রশাসন কেবল নীরব দর্শকের ভূমিকা পালন করে, তবে সেটি শুধু একটি প্রতিষ্ঠানের নয় পুরো শিক্ষা ব্যবস্থার জন্য অশনিসংকেত বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

অভিভাবকদের প্রশ্ন? যে শিক্ষক নৈতিকতা ও ধর্মীয় মূল্যবোধ শেখাবেন, তার বিরুদ্ধেই যখন এমন অভিযোগ, তখন আমাদের সন্তানরা নিরাপদ কোথায়?

তারা স্পষ্ট করে জানিয়েছেন, অবিলম্বে অভিযুক্ত শিক্ষককে সাময়িক বরখাস্ত করতে হবে, শিক্ষা প্রশাসনের বাইরে থেকে উচ্চপর্যায়ের স্বাধীন তদন্ত কমিটি গঠন করতে হবে, ডিজিটাল ফরেনসিক তদন্তের মাধ্যমে ভিডিওর উৎস ও প্রেক্ষাপট যাচাই করতে হবে, আর যদি অর্থ লেনদেনের অভিযোগ সত্য হয়, তবে সংশ্লিষ্ট সকলকে আইনের আওতায় আনতে হবে।

এখন প্রশ্ন একটাই প্রশাসন কি সত্য ও ন্যায়ের পাশে দাঁড়াবে, নাকি আরেকটি ঘটনা ‘ম্যানেজ’ হয়ে হারিয়ে যাবে ফাইলের স্তূপে?

এই কাণ্ডের পরিণতি শুধু একজন শিক্ষকের ভাগ্য নির্ধারণ করবে না। এটি বলে দেবে, আমাদের প্রশাসন দুর্নীতির বিরুদ্ধে কতটা কঠোর, আর শিক্ষা ব্যবস্থার মর্যাদা রক্ষায় কতটা আন্তরিক।

add-nolta

আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category
Theme Created By ThemesDealer.Com