সাতক্ষীরা আ’লীগ নেতাদের সাথে ছিল নিয়মিত ওঠাবসা। নিজের এলাকায় দাঁপিয়ে বেড়াতেন আ’লীগ নেতা পরিচয়ে। তবে এখন বিএনপি নেতা পরিচয়ে ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পালন করছেন।
সম্প্রতি গণঅভ্যুত্থানে আ’লীগ সরকারের পতনের পর ভোল পাল্টে তিনি হয়ে গেছেন বিএনপির নেতা। বলছি সাতক্ষীরা আশাশুনি উপজেলার ৮নং খাজরা ইউনিয়নের চেওটিয়া গ্রামের প্রয়াত আঃ সামাদের ছেলে সাইফুল ইসলাম বাচ্চু’র কথা। খাজরা ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান ও আ’লীগ নেতা শাহনেওয়াজ ডালিমের ঘনিষ্ঠজন হিসেবেও পরিচিত তিনি।
সাতক্ষীরার সাবেক সংসদ সদস্য ও স্বাস্থ্যমন্ত্রী আ ফ ম রুহুল হকের সাথেও ছিল তার সখ্যতা। তাদের সাথে ছবি তুলেই নিজেকে জাহির করতেন আ’লীগের নেতা হিসেবে। বর্তমানে আশাশুনি উপজেলার এক সিনিয়র আ’লীগ নেতার সাথে করেন মাছের ব্যবসা।
গত ৫ আগস্ট শেখ হাসিনার পতনের পরের দিন কয়েকজন বিএনপির কর্মীকে ডেকে নেন বাচ্চু। আর্থিক সুবিধা দিয়ে তাদের নিয়ে এলাকায় কাজ করারও প্রস্তাব দেন।
স্থানীয়রা জানান, সাইফুল ইসলাম বাচ্চুর থেকে ইউনিয়ন পরিষদের বরাদ্দের টিআর/কাবিখা প্রকল্পের সরকারি বরাদ্দ কাজ পেতে হলে মেম্বারদের দিতে হয় প্রতি কাজের কমিশন।কমিশন না দিলে মেম্বারদের কাজ দেওয়া হয়না। নাম প্রকাশ্যে অনিচ্ছুক খাজরা ইউপির একাধিক মন্দিরের সভাপতি জানান ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান সাইফুল ইসলাম বাচ্চু দায়িত্ব পাওয়ার পর থেকে করছে ক্ষমতার অপব্যবহার মন্দিরে বরাদ্দ পেতে হলে দিতে হবে কমিশন। ইউনিয়নের একাধিক ইউপি সদস্য জানান আমাদের টিআর/কাবিখার প্রতি কাজে তাকে ১০ থেকে ১৫ হাজার টাকা দিতে হয়েছে। না দিলে কাজ দিবে না বলে হুমকি দেন। পরবর্তীতে কাজ শেষে উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার নাম করে আরোও টাকা চেয়েছে।
বাচ্চু’র বিরুদ্ধে রয়েছে অনলাইন জুয়ার মাস্টার এজেন্ট ব্যবসা নিয়ন্ত্রণের অভিযোগ। তাছাড়া খাজরা ইউনিয়নে বালু ব্যবসায়ীরা বাচ্চুকে মাসোয়ারা দিয়ে ব্যবসা করে আসছে বলে বিশ্বস্ত সূত্রে জানা যায়।
নিজেকে বিএনপি নেতা দাবি করলেও তার পূর্বের ইতিহাস পর্যালোচনা করলেই স্পষ্ট একসময়ের আ’লীগের রাজনীতির সাথে সম্পৃক্ত। বর্তমানে তার সাথে রয়েছেন যুবলীগ ও ছাত্রলীগের পদধারী অনেকেই।
এসব অভিযোগের বিষয়ে জানতে সাইফুল ইসলাম বাচ্চু’র মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করে কলটি গ্রহণ না করায় বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।
আশাশুনি খাজরা ইউনিয়নের বিএনপি নেতাকর্মীরা জানান, বাচ্চুকে কোনদিন বিএনপির কোনো কর্মসূচীতে দেখা যায়নি। এতদিন তাকে আ’লীগের সাথেই দেখা গেছে। এখন হঠাৎ পরিচয় দেন বিএনপির নেতা হিসেবে। এমন সুবিধাবাদী লোক বিএনপিতে আসলে বিএনপির বদনাম হবে।
আশাশুনি উপজেলা বিএনপির এক নেতা বলেন, স্বৈরাচার আ’লীগ সরকারের পতনের পর ছাত্র-জনতাকে হত্যার ঘটনায় জড়িত অনেক লোকজন এখন বিএনপিতে প্রবেশের চেষ্টা করছে। এদের বিষয়ে আমরা সতর্ক আছি।