বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০২:৩০ অপরাহ্ন
Notice :
দৈনিক সাতক্ষীরার তথ্য

আশাশুনি হিসাব রক্ষণ কর্মকর্তার চাহিদা মাফিক ঘুষ না দিলেই বন্ধ থাকে সার্ভার

নিজস্ব প্রতিনিধিঃ / ১৭৬ Time View
Update : বুধবার, ৫ নভেম্বর, ২০২৫

সাতক্ষীরা আশাশুনি উপজেলার হিসাব রক্ষণ কর্মকর্তা মোমিন আহম্মদের বিরুদ্ধে ব্যাপক অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। ঘুষ ছাড়া নড়ে না ফাইল, বন্ধ থাকে সার্ভার। ফলে চরম ভোগান্তিতে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষকরা। জানা গেছে, আশাশুনি হিসাব রক্ষণ অফিসে বিল ভাউচার এবং অবসরপ্রাপ্ত সরকারি কর্মকর্তাদের পেনশনের টাকা উত্তোলনে ব্যাপক হয়রানির শিকার হতে হয়। অডিটর সাহারাত হোসেনের মাধ্যমে ঘুষ নেন হিসাব রক্ষণ কর্মকর্তা মোমিন আহম্মদ। ঘুষ দিতে অস্বীকৃতি জানালে সার্ভার বন্ধ থাকে বলে দিনের পর দিন ঘুরানো হয়। অবসরপ্রাপ্ত সরকারি কর্মকর্তাদের পেনশন উত্তোলনে প্রথমেই মোটা অংকের টাকা চুক্তি করতে হয়। না হলে ঘুরানো হয় দিনের পর দিন। নির্দিষ্ট হারে কমিশনে ঘুষ না দিলে উপজেলা পরিষদের বিভিন্ন দপ্তর ও অবসরপ্রাপ্ত ব্যক্তিদের বিল আটকে দেন হিসাব রক্ষণ কর্মকর্তা। এ ঘুষ দুর্নীতির হোতা অডিটর সাহারাত হোসেন। তার মাধ্যমে টাকা নেন হিসাব রক্ষণ কর্মকর্তা মোমিন আহম্মদ। অডিটর সাহারাত কালিগঞ্জের স্থানীয় হওয়ায় দীর্ঘদিন ধরে এই অফিসে কর্মরত। তিনি অনিয়ম এবং দুর্নীতি করে বনে গেছেন কোটি টাকার মালিক। সেবা নিতে আসা ব্যক্তিদের অভিযোগ সাহারাত হোসেন তার নিজের এবং হিসাব রক্ষণ কর্মকর্তার চাহিদা মতো ঘুষ না দিলে সার্ভার সমস্যা বলে হয়রানি করেন। তবে টাকা দিলেই মুহূর্তেই সার্ভার ঠিক হয়ে যায়। জেলায় মিটিংয়ের কথা বলে ঠিক মতো অফিসে আসেন না হিসাব রক্ষণ কর্মকর্তা, সুযোগ টা কাজে লাগিয়ে পরিবার নিয়ে ব্যস্ত থাকেন। অবসরপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক আবুল কালাম বলেন, হিসাব রক্ষণ অফিসের দুর্নীতি আর কেউ বন্ধ করতে পারলেন না। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক আরেক প্রধান শিক্ষক বলেন, তিনি ৬০ হাজার টাকা ঘুষ দিয়ে ফাইলে স্বাক্ষর করে নিয়েছেন। উপজেলা পরিষদের একাধিক কর্মকর্তা জানান, বিলের সময় এলে হিসাব রক্ষণ কর্মকর্তা অফিসে আসেন না। ১০ লাখ টাকার বিল করাতে দুই লাখ টাকা ঘুষ চেয়ে বসেন। দিনের পর দিন চলছে এ অরাজকতা। দেখার যেন কেউ নেই।

অডিটর সাহারাত হোসেন বলেন, আপনি আমার এলাকার মানুষ স্যার আপনাকে চা খেতে দাওয়াত দিয়েছে। আসুন চা খায়।

উপজেলা হিসাব রক্ষণ কর্মকর্তা মোমিন আহম্মদ এ ব্যাপারে বলেন, আমার কোনো পাবলিক সেবা নেই, বিভিন্ন দপ্তরের বিল করা হয়, এখানে হয়রানি হয় না। তাছাড়া তিনি ব্যস্ততা দেখিয়ে আলাপ কলটি কেটে দেন।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা কৃষ্ণা রায় এ ব্যাপারে বলেন, তিনি খোঁজ নিয়ে দেখবেন, দুর্নীতি করলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

add-nolta

আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category
Theme Created By ThemesDealer.Com