বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০২:৩২ অপরাহ্ন
Notice :
দৈনিক সাতক্ষীরার তথ্য

আশাশুনির প্রতাপনগরে উদ্যোক্তার বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগের তদন্ত শুরু

বিএম আলাউদ্দীন আশাশুনি / ১৮৫ Time View
Update : শুক্রবার, ১৭ অক্টোবর, ২০২৫

আশাশুনি উপজেলার প্রতাপনগর ইউপির উদ্যোক্তা আসমাউল হুসনা আসমার বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগের তদন্ত শুরু হয়েছে। স্থানীয় নূরে আলম সিদ্দিকীসহ ৩ জন বাদী হয়ে ইউপি চেয়ারম্যান বরাবর লিখিত অভিযোগের প্রথম অভিযোগ গোকুলনগর গ্রামের আঃ সালাম মোড়লের স্ত্রী নার্গিস পারভীনের প্রতিবন্ধী ভাতার টাকা আত্মসাত করা। ইউপি চেয়ারম্যান হাজী আবু দাউদ ঢালী জানান, গত ৬ অক্টোবর অভিযোগটি তার দপ্তরে পৌছায়। আমি ইউএনও মহোদয়ের সাথে কথা বলে ১৪ অক্টোবর নার্গিসের বাড়িতে তদন্তে যাই। প্যানেল চেয়ারম্যান, কয়েকজন ইউপি সদস্য, স্থানীয় বিএনপি নেতাসহ গন্যমান্য ব্যক্তিদের উপস্থিতিতে তদন্ত করা হয়। সকলের সামনে নার্গিসের স্বামী ও ভাশুরের উপস্থিতিতে শান্তিপূর্ণ তদন্ত শেষে লিখিত জবানবন্ধী নিয়ে স্বেচ্ছায় নার্গিসের, নার্গিসের স্বামী ও স্বাক্ষীদের স্বাক্ষর গ্রহন করা হয়। অন্য কোন কাগজে স্বাক্ষর নেয়া হয়নি।

প্যানেল চেয়ারম্যান সোহরাব হোসেন, ইউপি সদস্য রাহানুজ্জামান, উজ্জল হোসেন, খাদিজা খাতুন, ইউপি সদস্য শহিদুল ইসলাম, আইয়ুব আলী, মোকসেদুর রহমান, কামরুল ইসলাম জানান, নার্গিস নাহারের বয়স্ক ভাতার টাকা তার মোবাইল ফোনে যায় না এমনটাই স্থানীয়দের অভিযোগের ভিত্তিতে আমরা প্রথমে নার্গিসকে ইউনিয়ন পরিষদে ডেকেছিলাম। উনি আসেননি বলে আমরা চেয়ারম্যান মেম্বার তান বাড়িতে তদন্তে গিয়েছিলাম। ওখানে গিয়ে নার্গিস নাহার কি প্রকৃতির প্রতিবন্ধী প্রশ্ন করলে নার্গিস বলেন, ২০২২ সালে ভ‍্যান থেকে পড়ে গাছের ডালের সঙ্গে আঘাত লাগলে ডান পা ভেঙে গিয়ে আহত হয়। সেই থেকে একটা প্রতিবন্ধী কার্ড করা হয়েছিল। কার্ডে নাম্বার দেয়া ছিল নার্গিসের মায়ের। ওই নাম্বারে তার মায়ের বয়স্ক ভাতার টাকা আসে যে কারণে একই নাম্বারে দুই জনের ভাতার টাকা আসেনি। তবে ওখানে নার্গিস সহ স্থানীয়দের সম্মতিতে ইউনিয়ন পরিষদের প্যাডে সমস্ত লেখা পড়ে নার্গিস সই সম্পাদন করে। ওখানে কোন হুমকি-ধামকি হয়নি, যার ভিডিও ফুটেজ প্রথম থেকে শেষ পর্যন্ত রয়েছে। মহিলা মেম্বার খাদিজা খাতুন জানান, আমি দীর্ঘ পাঁচ পিরিয়ড এই পরিষদে নির্বাচিত হয়েছি।

কেন যে এরা আসমার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করছে এটা আমি জানিনা তবে এই পর্যন্ত আসমার বিরুদ্ধে কোন অভিযোগের কথা আমি শুনিনি। আমি বলতে পারি উদ্যোক্তা হিসেবে আসমা একজন ভালো মানুষ। অন্য মেম্বাররা জানান, তার বিরুদ্ধে মানববন্ধন ও বিভিন্ন দপ্তরে অভিযোগ করা হচ্ছে। যা সম্পূর্ণ মিথ্যা ও ভিত্তিহীন। মোকসেদুর রহমান জানান, প্রতাপনগর মাদ্রাসার পাশে একটি প্রকল্পের কাজ দেয় মাসুমের স্ত্রী মহিলা মেম্বারের কাছে। প্রকল্পের কাজের টাকা দেয় ইউপি চেয়ারম্যান। পরবর্তীতে কাজ মানসম্মত না হওয়ায় এলাকাবাসীর অভিযোগে ইউপি চেয়ারম্যান আমাকে সহ তিন সদস্যের কমিটি গঠন করে দেয়। অনিয়ম প্রমানিত হলেও সম্পূর্ণ টাকাটা উত্তোলন করে খেয়ে ফেলেছিল। একাধিকবার চাওয়ায় ২০ হাজার টাকা দিয়েছিল বাকি টাকা দেয়নি। ওই টাকা ইউপি চেয়ারম্যান চাওয়ায় চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে বিভিন্নভাবে ইউনিয়ন পরিষদের মান ক্ষুন্ন করার জন্য ষড়যন্ত্রমূলক মানববন্ধন সহ বিভিন্নভাবে পায়তারা করে যাচ্ছে বলে তারা অভিযোগ করেন।

সমাজসেবক আমিরুল ইসলাম, ভাতাভোগি ছালমিন নাহার, দফাদার অলিউল্লাহ ও গ্রাম পুলিশ আনোয়ারুল ইসলাম জানান, প্রতিবন্ধী ভাতার কার্ড নিয়ে সকল ইউপি সদস্য ও আমরা চেয়ারম্যান সাহেবের সঙ্গে ছিলাম। ওখানে বিএনপি নেতৃবৃন্দ ছিল। চেয়ারম্যান সাহেব আমাদের সবার সামনে নার্গিসের মুখের ভাষা ও স্থানীয়দের বক্তব্য অনুযায়ী তদন্ত প্রতিবেদনে সই করে নিয়ে আসে। ওখানে কোন অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি।

add-nolta

আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category
Theme Created By ThemesDealer.Com