মামলার ভয় দেখিয়ে চাঁদাবাজিসহ নানা অভিযোগের কারণে দীর্ঘদিন ধরেই আলোচিত-সমালোচিত সাতক্ষীরার আশাশুনি উপজেলার ০১ নং শোভনালী ইউনিয়নের ০৪ নং ওয়ার্ডের আ’লীগের সহ সভাপতি মোস্তফা সরদার। ৫ আগস্টের রাজনৈতিক পট পরিবর্তন ঘটেছে, কিন্তু তার বিরুদ্ধে অভিযোগ কমেনি। সম্প্রতি ভোল বদলে বিএনপির সঙ্গে মিলে যাওয়ার চেষ্টা করছেন বলে অভিযোগ তার বিরুদ্ধে।
স্থানীয়রা জানান, কিশোর বয়স থেকেই অপরাধে হাত পাকান মোস্তফা। এরপর একে একে নানা অপরাধে যুক্ত হন তিনি। বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে মামলায় নাম ঢুকিয়ে দেওয়ার ভয় দেখিয়ে চাঁদাবাজির বিস্তর অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে।
সূত্র বলছে, এক সময় সাতক্ষীরা জেলা আ’লীগের সাধারণ সম্পাদকের নিজস্ব বাহিনীর সেকেন্ড ইন কমান্ড ছিলেন মোস্তফা সরদার। এরই পুরষ্কার স্বরুপ আশাশুনি শোভনালী ইউনিয়ন আ’লীগের ৪নং ওয়ার্ড কমিটির সহ সভাপতির পদ বাগিয়ে নেন। সখ্যতা ছিল সাবেক স্বাস্থ্যমন্ত্রী আ ফ ম রুহুল হকের সঙ্গেও।
শোভনালী ইউনিয়নের বাঁকড়া গ্রামের বাসিন্দারা বলছেন, মোস্তফা দীর্ঘ দিন ধরেই এলাকাবাসীকে হয়রানি করে আসছেন। ভয় দেখিয়ে অর্থ আদায়, চাঁদাবাজিসহ নানাভাবে আতঙ্কের পরিবেশ তৈরি করে রেখেছেন তিনি। তবে তার ভয়ে স্থানীয়রা মুখ খুলছেন না। তিনি আশাশুনি উপজেলার শোভনালী ইউনিয়নের বাঁকড়া গ্রামের মৃত জলিল সরদারের ছেলে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বাঁকড়া গ্রামের স্থানীয় এক বাসিন্দা বলেন, মোস্তফার অত্যাচারে এলাকায় থাকা দায় হয়ে পড়েছে। সে আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ও আমাদের জ্বালিয়ে খেয়েছে, এখন আবার নিজের খোলস পাল্টে বিএনপির সঙ্গে মিশে গিয়ে আমাদের আতঙ্কে পরিণত হয়েছে। অবৈধ উপায়ে অর্জিত তার অঢেল সম্পত্তি ও টাকা পয়সা রয়েছে। এসব টাকা পয়সা বিভিন্ন পর্যায়ের গুন্ডা পান্ডা এবং নেতাদের মধ্যে বিলিয়ে দিয়ে নিজেই এখন অঘোষিত সম্রাটে পরিণত হয়েছে। স্থানীয় বিএনপি নেতা কর্মীদের ম্যানেজ করে সে এলাকায় ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করছে। আমরা তার অত্যাচার থেকে মুক্তি চাই।
এদিকে ৫ আগস্ট স্বৈরাচার আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর রীতিমতো ভোল বদলেছেন মোস্তফা। সরকার পতনের পর আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীরা গা ঢাকা দিলে মোস্তফা সরদার সেই সময় রাতারাতি হাওয়া হয়ে যান। সাম্প্রতিক সময়ে তিনি আবারও অবাধে পুরনো অপরাধ কার্যক্রম চালু করেছেন।
সূত্র বলছে, সাতক্ষীরা জেলা শহরে বিএনপির শীর্ষস্থানীয় এক নেতার বাসায় অবাধে যাতায়াত বেড়েছে মোস্তফার। সেই নেতার প্রভাবকে কাজে লাগিয়ে আবারও সক্রিয় হয়েছেন তিনি। বিএনপির বিভিন্ন নেতাদের সঙ্গে ছবি উঠিয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে দিয়ে নিজেকে বিএনপি নেতা হিসেবে পরিচিত করানোর অপচেষ্টায় লিপ্ত রয়েছেন।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক বিএনপি নেতা বলেন, মোস্তফা আগে আ’লীগ করতো। এখন বিএনপির সঙ্গে মিশে গেছে। সে আবারও চাঁদাবাজি, হয়রানিসহ সব কর্মকাণ্ড চালু করেছে। তার নিজের রয়েছে বিশাল সুদের কারবার। লাখে প্রতি মাসে ২০ হাজার টাকা প্রফিটে দেওয়া হয় সুদের টাকা। কেউ সঠিক সময়ে সুদের টাকা পরিশোধ না করতে পারলে তার উপর নেমে আসে নির্যাতন।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক আরেক ভুক্তভোগী এ প্রতিবেদক কে বলেন, সুদের টাকা নিয়ে সময় মতো পরিশোধ করতে না পারায় তাকে মারধর সহ শারীরিক নির্যাতন করা হয়েছিল। এসব ঘটনা থেকে রক্ষা পেতে ও মোস্তফা কে যথাযথ শাস্তির আওতায় আনতে স্থানীয় প্রশাসন ও বিএনপির হাইকমান্ডের নজর দেওয়ার দাবি জানান স্থানীয় বাসিন্দারা।
এসব বিষয়ে মোস্তফা সরদারের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি কল ধরেননি। এছাড়া মুঠোফোনে ক্ষুদে বার্তা পাঠালেও কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি।