সাতক্ষীরার আশাশুনি উপজেলার ০১ নং শোভনালী ইউনিয়নের বাঁকড়া এলাকার বাসিন্দা জলিল সরদারের ছেলে মোস্তফা সরদার। আ’লীগের পরিচয়ে বিগত আ’লীগ সরকারের আমলে হয়ে ওঠেন ভূমিদস্যু। তার নেতৃত্বে গড়ে ওঠা চক্রের ফাঁদে পড়ে বহু মানুষ সর্বস্বান্ত হয়েছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। এ নিয়ে হয়েছে মামলাও।
জানা যায়, সাবেক স্বাস্থ্যমন্ত্রী ও সাতক্ষীরা জেলা আ’লীগের সাধারণ সম্পাদক নিয়ন্ত্রিত আওয়ামী ক্যাডারবাহিনীর সদস্য হিসেবেই এতদিন তাকে চিনতেন এলাকাবাসী। আ’লীগের পতনের পরও সেই চাঁদাবাজি, দখলদারিত্ব ও ভূমিদস্যুপনা চালু রেখেছেন। শুধু পাল্টে গেছে আশ্রয়দাতা! আ’লীগের ক্যাডারবাহিনীর এ সদস্য এখন অপকর্ম করছেন বিএনপি নেতা আহসান ও জুলফিকার আলি ভুট্টোর আশ্রয়ে-প্রশ্রয়ে।
তথ্য অনুসন্ধানে জানা যায়, আ’লীগের ক্যাডার মোস্তফা সরদারের আশ্রয় দেওয়া ও তাকে দিয়ে অপকর্ম করার অভিযোগে বিএনপির পক্ষ থেকে আহসান ও ভুট্টো কে শোকজ করা হলেও তা থামেনি।
স্থানীয়দের অভিযোগ আ’লীগের রাজনীতি করে বিএনপি সাজা অপকর্মকারীদের দাবি—তারা একটা সময় বিএনপি করতেন। চাপে পড়ে আ’লীগে যোগ দিয়েছিলেন। এখন আবার শুধরে নিয়ে বিএনপিতে ফিরছেন।
অভিযোগ উঠেছে, বর্তমানে ‘বিএনপির আশাশুনি উপজেলার শোভনালী ইউনিয়নের সাবেক সভাপতি আহসান ও সাধারণ সম্পাদক জুলফিকার আলি ভুট্টোর ছত্রছায়ায় আ’লীগ নেতা মোস্তফা সরদারের কর্মকাণ্ডে অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছেন আশাশুনির শোভনালী ইউনিয়নের বাসিন্দারা। ৫ আগস্ট শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর তার চাঁদাবাজি ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের মাত্রা বেড়েই চলেছে। আ’লীগ নেতা মোস্তফা সরদারের সমিতির নামে সুদে ব্যবসা-বাণিজ্য রক্ষার দায়িত্ব নিয়েছেন বিএনপির এই দুই নেতা।
সরেজমিনে গিয়ে জানা যায়, সাবেক ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি এবং সাধারণ সম্পাদকের ছত্রছায়ায় চাঁদাবাজি, জমি দখল ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড পরিচালনা করছে ০৪ নং ওয়ার্ড আ’লীগের সহ সভাপতি মোস্তফা সরদার। সুদে ব্যবসা-বাণিজ্য করে মোস্তফা বাগিয়েছেন বিলাসবহুল বাড়ি। চলাচল শুরু করেছেন দামি গাড়িতে। নিঃস্ব হয়েছেন এলাকার সাধারণ মানুষ।
আওয়ামী শাসনামলে বিধি বহির্ভূতভাবে পেশি শক্তি ব্যবহার করে মসজিদ এবং মন্দিরের ডিসিআর কৃত সরকারি খাস জায়গা দখল করে করেছেন আলিশান বাড়ি। সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের বনমালী বাছাড়ের পৈত্রিক ৩ বিঘা জায়গা জোর জবরদস্তি করে রেখেছেন নিজ কব্জায়। এখানেই ক্ষান্ত নয়- অভিযোগ উঠেছে শোভনালী ইউনিয়নের বাঁকড়া গ্রামের বাসিন্দা জোহর আলী সরদারের ছেলে আবু সাঈদ কে হত্যার উদ্দেশ্যে দা দিয়ে কুপিয়ে জখম করেন আ’লীগ নেতা মোস্তফা সরদার।
স্থানীয়দের দাবি, আ’লীগ নেতা মোস্তফা সরদারের অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড থেমে নেই। শোভনালী ইউনিয়নের মানুষের শান্তির কথা বিবেচনা করে মোস্তফা কে গ্রেফতার করে আইনের আওতায় আনতে প্রশাসনের সুদৃষ্টি কামনা করছেন।
আ’লীগ নেতা মোস্তফা সরদারের ব্যবহারিত মুঠোফোন একাধিকবার কল দিলে আলাপ কলটি গ্রহণ না করায় বক্তব্য নেয়া সম্ভব হয়নি।