সাতক্ষীরার আশাশুনি উপজেলার ১ নং শোভনালী ইউনিয়নের ৪ নং ওয়ার্ডের আ’লীগের সহ সভাপতি মোস্তফা সরদার এখনো ধরাছোঁয়ার বাইরে। দীর্ঘ ১৭ বছর ধরে স্বৈরাচার আ’লীগ সরকারের আমলে সাবেক এমপি রুহুল হক ও জেলা আ’লীগের সাধারণ সম্পাদকের ছত্রছায়ায় থেকে জমি দখল, ভোট ডাকাতি, বিএনপি -জামায়াত নেতাদের দমন-পীড়ন সহ সন্ত্রাসী কর্মকান্ড চালিয়েছিল শোভনালী ইউনিয়নের আ’লীগ নেতা মোস্তফা সরদার।পট পরিবর্তনের পরও প্রকাশ্যে ঘুরাফেরা করে সরকার বিরোধী কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে এই আ’লীগ নেতা।
মোস্তফা সরদার আ’লীগের পদে থাকাকালীন সাবেক এমপি রুহুল হক ও জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক নজরুল ইসলামের ছত্রছায়ায় বিভিন্ন অপরাধ কর্মকাণ্ডে জড়িত ছিল।মানুষের জমি দখল,দিনের ভোট রাতে ডাকাতি,জামায়াত বিএনপির নেতাকর্মীদের হয়রানি সহ ছাত্রজনতা আন্দোলনের সময় হামলা চালিয়েছিল।
ফলে, ছাত্র-জনতাসহ আশাশুনি উপজেলার বিভিন্ন সংগঠনের রাজনৈতিক নেতা কর্মীদের মধ্যে চরম ক্ষোভ ও অসন্তোষের সৃষ্টি হয়েছে। সেই সাথে দ্রুত আ’লীগ নেতা মোস্তফা কে গ্রেফতারের দাবি উঠেছে।
দেশ ছেড়ে পালিয়ে যাওয়া আওয়ামী লীগের সহ সভাপতির পদের প্রভাব কাটিয়ে নিজস্ব বাহিনী গঠন করে উপজেলা জুড়ে রামরাজত্ব কায়েম করতে শুরু করেন আ’লীগ নেতা মোস্তফা।আওয়ামী লীগ সরকারের সাবেক এমপি রুহুল হক ও জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদকের ছত্রছায়ায় চাঁদাবাজি, দখলবাজি, নির্বাচনের সময় আওয়ামী লীগের প্রার্থীর পক্ষে ভোট ডাকাতি, এলাকায় ক্ষমতার প্রভাব কাটিয়ে ত্রাস সৃষ্টি করা, বৈষম্য বিরোধী ছাত্র জনতার আন্দোলনের সময় আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের নিয়ে মিছিলে হামলা ও এলাকার নিরীহ লোকদের মিথ্যা মামলায় ফাঁসানো সহ টাকা নিয়ে বিচার বানিজ্য করে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নিয়েছে।
জানা গেছে, ৫ আগস্টের পর থেকে পলাতক রয়েছে সাবেক এমপি রুহুল হক ও জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক নজরুল ইসলাম। অথচ আ’লীগ নেতা মোস্তফা সরদার যাদের ছত্রছায়ায় এসব অপরাধ কর্মকাণ্ড করেছিল তারা পালিয়ে গেলেও মোস্তফা এখনো বীরদর্পে ঘুরাফেরা করে বহালতবিয়তে থেকে সরকার বিরোধী ষড়যন্ত্রে লিপ্ত রয়েছে। আ’লীগ নেতা মোস্তফা’র দৃশ্যমান কোন আয়ের উৎস না থাকলেও চলাফেরা করে রাজকীয় স্টাইলে। সারাদিন বাইক নিয়ে দলবদ্ধ হয়ে বিভিন্ন এলাকায় গিয়ে জমি দখল,বিচার সালিশের নামে টাকা হাতিয়ে নেওয়া থেকে শুরু করে কি করে না এই আ’লীগ নেতা।এখনো তার নেতৃত্বে চলে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের নিয়ে গড়া একটি বিশাল সিন্ডিকেট। এই সিন্ডিকেট নিয়ে সে সরকার বিরোধী ষড়যন্ত্র সহ বিভিন্ন অপরাধ কর্মকাণ্ড চালিয়ে যাচ্ছে।
আশাশুনি শোভনালী ইউনিয়নের ৪ নং ওয়ার্ড আ’লীগের সহ সভাপতি মোস্তফা সরদারের ব্যবহারিত মুঠোফোনে একাধিকবার ফোন দিলে আলাপ কলটি গ্রহণ না করায় বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।