সাতক্ষীরা সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে ৩টি প্রশাসনিক পদ শুন্য: ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ
Reporter Name
/ ৩২৫
Time View
Update :
শনিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৫
Share
সাতক্ষীরা সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে দীর্ঘদিন যাবত ৩টি গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক পদ শুন্য থাকায় সিনিয়র শিক্ষক দিয়ে প্রতিষ্ঠান পরিচালনার ক্ষেত্রে বাড়ছে নানা অনিয়ম ও দুর্নীতি। জানা গেছে, সাতক্ষীরা সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে প্রশাসনিক ৩টি গুরুত্বপূর্ণ পদের মধ্যে ২টি সহকারী প্রধান শিক্ষক ও প্রধান শিক্ষক পদ শুন্য অবস্থায় পড়ে আছে। ইতিমধ্যে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ একাধিক সিনিয়র শিক্ষক দিয়ে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের দায়িত্ব পালনের জন্য ত্বদীয় স্থলে বসালেও মুলত কোন সফলতা আসেনি। বিদ্যালয়ে ১৫ জন সিনিয়র শিক্ষক থাকায় ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের নির্দেশ অনেকেই মানতে পারছেন না। এর ফলে বিদ্যালয়ের “চেইন অফ কমান্ড” ভেঙে পড়ার পাশাপাশি মুখ থুবড়ে পড়েছে বিদ্যালয়ের ব্যবস্থাপনা। এর আগেও প্রতিষ্ঠানটিতে পর্যায়ক্রমে একের পর এক সিনিয়র শিক্ষককে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। এর ফলে বিভিন্ন সময় অনিয়ম ও দুর্নীতি সংগঠিত হয়েছে। অথচ টনক নড়েনি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের। বিদ্যালয়ে প্রশাসনিক ৩টি গুরুত্বপূর্ণ পদে সহকারী প্রধান শিক্ষক ও প্রধান শিক্ষক না এনে ত্বদীয় স্থলে একাধিকবার ভিন্ন ভিন্ন সিনিয়র শিক্ষককে দায়িত্ব পালনের জন্য সুযোগ সৃষ্টি করে দেওয়ায় প্রতিনিয়ত বেড়েছে অপরাধ- অপকর্ম।
প্রতিষ্ঠানটিতে প্রধান শিক্ষক সহ গুরুত্বপূর্ণ ৩টি পদ দীর্ঘদিন যাবত শুন্য থাকায় সিনিয়র শিক্ষকদের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের দায়িত্ব দেওয়ায় বিভিন্ন সময় অনিয়ম দেখা দিয়েছে। বিদ্যালয়ে পরীক্ষার প্রশ্ন পত্রে ভুল থাকার পাশাপাশি দেখা দিয়েছে বিদ্যালয়ে অব্যবস্থাপনার চিত্র। বিদ্যালয়ে যে সমস্ত শিক্ষক কোচিং বাণিজ্য করেন তাদের দিয়েই প্রশ্নপত্র তৈরি করা হয়। এর ফলে তাদের কাছে পড়ুয়া শিক্ষার্থীদের মাঝে বিভিন্ন সময় প্রশ্নপত্র ফাঁস হয়েছে। এর ফলে বিদ্যালয়ের অনেক অভিভাবক ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে প্রধান শিক্ষক হচ্ছে অভিভাবক। তার নেতৃত্বে চলে একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের গোটা কার্যক্রম। কিন্ত দীর্ঘদিন যাবত একাধারে কোন প্রধান শিক্ষক না থাকায় ভেঙে পড়েছে বিদ্যালয়ের শিক্ষা ব্যবস্থা। অভিভাবকদের মধ্যেও বেড়েছে হতাশা, উদ্বেগ আর উৎকন্ঠা। একজন সিনিয়র শিক্ষক দিয়ে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে স্কুলের অন্যান্য সিনিয়র শিক্ষকরা মানতে পারছেন না ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের নির্দেশনা।
এছাড়া ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক বিভিন্ন সময় নিজেদেরকে প্রধান শিক্ষক বলে দাবি করায় তুমুল বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক আলাউদ্দিন এর মুল পদ সিনিয়র শিক্ষক (বাংলা)। তিনি সাতক্ষীরা সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে গত ইং ০১-০৭-২০১২ তারিখ যোগদান করেন। শিক্ষক মো.আলাউদ্দীন এর পিডিএস আইডি- ২০১৬৭০৭৭৪৪। অভিযোগ আছে, সিনিয়র শিক্ষক আলাউদ্দিন ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের পদে বসে বিদ্যালয়ের নিয়ম-নীতির কোন তোয়াক্কা না করে ভুয়া বিল-ভাউচারের মাধ্যমে অর্থ আত্মসাৎ, মোটা অংকের টাকা ঘুষ গ্রহণ করে শিক্ষার্থীদেরকে নিষিদ্ধ গাইড বই ক্রয়ে বাধ্য করা হচ্ছে। এছাড়া আইসিটি ফান্ডের টাকা দিয়ে নিজের অফিস কক্ষের এসি ক্রয়, টিফিনের টেন্ডারে অনিয়ম, কর্মচারী ছাঁটাই এবং শিক্ষার্থী-অভিভাবকদের সঙ্গে প্রায়শই অসাদাচারন করে যাচ্ছেন বলেও অভিযোগ উঠেছে। বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক আলাউদ্দীন সকল অপকর্মে তিনি সহযোগিতা করছেন বিদ্যালয়ের সিনিয়র শিক্ষক মো: রবিউল ইসলাম, স.ম ওয়ালিদুর রহমান ও হারাধন কুমার আইচ শুভ নামে এই তিন শিক্ষককে। বিদ্যালয়ে প্রশাসনিক ৩টি পদ শুন্য থাকার কারণে কিছু সংখ্যক শিক্ষক ক্ষমতার অপব্যবহার এবং নিজেদের শক্তি প্রদর্শন অব্যাহত রেখেছে।
শিক্ষকদের এসব অপকর্মে বিব্রতকর পরিস্থিতিতে পড়ছে অভিভাবক এবং শিক্ষার্থীরা। যার খেসারত দিতে হচ্ছে কোমলমতি শিক্ষার্থীদের। অনিয়ম দুর্নীতির কারণে পরীক্ষার প্রশ্ন পত্রে ভুল হওয়ায় সময় ক্ষেপণ, নানা বিড়ম্বনা সহ হয়রানির শিকার হতে হয়েছে শিক্ষার্থীদের। বিদ্যালয়ে এতো অনিয়ম দুর্নীতি সংগঠিত হওয়া সত্বেও টনক নড়েনি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের। এর আগে বিভিন্ন সময় ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকদের নানাবিধ অনিয়ম- দুর্নীতি ফুটে ওঠে। বিদ্যালয়ের অব্যবস্থাপনা সহ চেইন অফ কমান্ড ভঙ্গুর নিয়ে জেলা প্রশাসকের সাথে আলাপকালে তিনি সাংবাদিক, শিক্ষক সহ অভিভাবকদের আশ্বস্ত করে বলেন: বিদ্যালয়ে দ্রুত সময়ের মধ্যে একজন প্রধান শিক্ষক আনা হবে। কিন্ত অজ্ঞাত কারণে ত্বদীয় স্থলে এখনো কোন প্রধান শিক্ষক আনা হয়নি। দীর্ঘদিন ধরে প্রধান শিক্ষক পদ সহ গুরুত্বপূর্ণ ৩টি পদ শুন্য অবস্থায় পড়ে আছে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের এসব গাফিলতির কারনে বিদ্যালয়ে বিভিন্ন অনিয়ম এবং অপরাধ সংগঠিত হচ্ছে। এদিকে বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী এবং অভিভাবকরা দীর্ঘদিন ধরে অত্র বিদ্যালয়ে একজন দায়িত্বশীল প্রধান শিক্ষক আনার দাবি জানালেও কার্যত কোন প্রধান শিক্ষক কিংবা সহকারী প্রধান শিক্ষক ত্বদীয় স্থলে আনা হয়নি। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক শিক্ষক জানান: শিক্ষক মো. আলাউদ্দীন ২০১২ সালের জুলাই মাসের ১ তারিখে সাতক্ষীরা সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে সহকারী শিক্ষক পদে বদলী ভিত্তিক পদায়িত হয়ে যোগদান করে অদ্যবধি কর্মরত আছেন।
প্রধান শিক্ষকের পদ সহ ৩টি গুরুত্বপূর্ণ পদ শুন্য থাকা অবস্থায় শিক্ষক আলাউদ্দীন কে অজ্ঞাত কারণে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের দায়িত্ব দেওয়া হয়। সিনিয়র শিক্ষক আলাউদ্দীন ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পর বিদ্যালয়ের বিভিন্ন তহবিল থেকে অবৈধ পন্থায় টাকা উত্তোলন করে আত্মসাত করেছেন।এছাড়া বিদ্যালয়ের সর্বশেষ প্রধান শিক্ষক ১২ জুন ২০২৪ সালে দায়িত্ব হস্তান্তরের সময় বিদ্যালয়ের ফান্ডে ৫২ লাখ ৭৫ হাজার টাকা রেখে যান। চলতি বছর জানুয়ারি থেকে এখন পর্যন্ত শিক্ষার্থীদের কাছ আদায় করা হয়েছে আরও ৩১ লক্ষ টাকা। সব মিলিয়ে প্রায় ৮৪ লক্ষ টাকা বিদ্যালয়ের ফান্ডে জমা হয়। অথচ বর্তমানে ফান্ডে রয়েছে মাত্র ৪০ লাখ টাকা। বাকি টাকা বিদ্যালয়ের বিভিন্ন কাজ দেখিয়ে ভুয়া বিল ভাউচারের মাধ্যমে আত্মসাৎ করা হয়েছে বলে এ দাবি জানিয়েছেন বিদ্যালয়ের কর্মরত শিক্ষকরা। তারা আরও জানান, অর্ধ-বার্ষিক পরীক্ষায় শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে আদায়কৃত পরীক্ষার ফি’র ৭ লাখ টাকার মধ্যে মাত্র ৩ লাখ ৮৬ হাজার ৫শ টাকা খাতা দেখার সম্মানি বাবদ শিক্ষক ও কর্মচারীদের মধ্যে বন্টন ও ৮০ হাজার টাকার কাগজ ক্রয় সহ মোট ৪ লক্ষ ৬৬ হাজার ৫’শ টাকার হিসাব দেওয়া হয়েছে। বাকি টাকার কোন সঠিক হিসাব দেওয়া হয়নি। তবে শিক্ষকদের মাঝে সম্মানির টাকার সঠিক বন্টন করা হয়নি। ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক তার কাছের শিক্ষকদের সর্বোচ্চ ২০ হাজার টাকা পর্যন্ত দিয়েছেন আর অন্য সকল শিক্ষক দের ৫ হাজার টাকা এবং কর্মচারিদের ৩ হাজার ৫০০ টাকা করে দিয়েছে বলে তারা ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন।
শিক্ষকরা জানান: গাইড বই নিষিদ্ধ থাকা সত্ত্বেও লেকচার ও পাঞ্জেরী বই কোম্পানির কাছ থেকে ৪ লাখ টাকা উৎকোচ নিয়ে শিক্ষার্থীদের ওই কোম্পানির বই ক্রয়য়ের নির্দেশ দেন ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মো. আলাউদ্দীন মূল পদ সিনিয়র সহকারী শিক্ষক (বাংলা) ও সিনিয়র শিক্ষক রবিউল ইসলাম।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বিদ্যালয়ের একজন শিক্ষক বলেন, নিয়ম অনুযায়ী এক ফান্ডের টাকা অন্য ফান্ডে খরচ করার কোন সুযোগ নেই। তার সত্ত্বেও ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক আলাউদ্দিন আইসিটি ফান্ড থেকে নিয়মবহির্ভূত ভাবে টাকা উত্তোলন করেছেন। রীতিমতো তিনি ৫টি এসি ক্রয় করে নিজের অফিস কক্ষে আরাম আয়েশের জন্য ১ টি এসি লাগিয়েছেন। এছাড়া বিদ্যালয়ের নামাজ ঘরে ২টি এবং আইসিটি ল্যাবে ২টি এসি লাগিয়েছেন। পরিপত্রের নিয়ম অনুযায়ী আইসিটি ফান্ডের টাকা অন্য কোন পারপাসে খরচ করার সুযোগ নেই। ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক আলাউদ্দীন প্রতিটি এসি’র প্রকৃত বাজারমূল্য গোপন করে প্রতিটি এসির বিপরীতে অতিরিক্ত ৪০ হাজার টাকা করে বেশি রেটে ভাউচারে ক্রয় মুল্য প্রদর্শন করেছেন। ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক আলাউদ্দীন ৫টি এসির বিপরীতে প্রায় ২ লক্ষ টাকা আত্মসাৎ করেছেন।
নিয়ম অনুযায়ী কোন সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের কোন ফান্ড থেকে ১ লাখের অধিক টাকা উত্তোলনের ক্ষেত্রে শিক্ষা মন্ত্রণালয় এবং শিক্ষা অধিদপ্তরের অনুমতি নিতে হবে। সাতক্ষীরা সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের আইসিটি ফান্ড সহ অন্যান্য ফান্ড থেকে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক আলাউদ্দীন লাখ লাখ টাকা উত্তোলন করলেও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কোন অনুমতি নেওয়ার প্রয়োজন মনে করেননি। বিদ্যালয়ে টিফিনের টেন্ডারের ক্ষেত্রেও ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক স্বজনপ্রীতি করেছেন। সর্বনিন্ম দরদাতাকে বাদ দিয়ে পছন্দের ঠিকাদারকে কাজ দিয়েছেন। বিগত দিনেও এই স্কুলে অনেক প্রধান শিক্ষক দায়িত্ব পালন করেছেন কিন্তু এমন অনিয়ম- দুর্নীতি আগে কখনও হয়নি। আমি মনে করি এই সমস্ত বিষয়ে সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের কোন তদারকি না থাকায় ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক আলাউদ্দীন স্কুলটিকে নিজের ব্যাক্তিগত সম্পদ মনে করে যা খুশি তাই করছেন। অভিভাবকরা জানান, সিনিয়র শিক্ষক মো. আলাউদ্দিন ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পর হঠাৎ করে শিক্ষার্থীদের পরীক্ষার ফি দ্বিগুন করে দিয়েছে। গত বছর ৯ম ও ১০ম শ্রেণীর পরীক্ষার ফি ছিল ৩৫০ টাকা কিন্তু আলাউদ্দিন ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক হিসেবে যোগদান করার পর তা বাড়িয়ে ৬৭০ টাকা করেছে।
সাতক্ষীরার অন্য উপজেলার সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ে পরীক্ষার ফি ৫০ থেকে ১০০ টাকা বৃদ্ধি করলেও সাতক্ষীরা সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক ও সাতক্ষীরা সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের যোগসাজশে পরীক্ষার ফি দ্বিগুন করেছে। যা অনেক অসহায় গরীব শিক্ষার্থীর জন্য কষ্টসাধ্য হয়ে পড়েছে। উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ভাবে পরীক্ষার ফি দ্বিগুণ করায় বিদ্যালয়ের অভিভাবকেরা সাতক্ষীরা জেলা প্রশাসকের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন কর্মচারি জানান, বিদ্যালয়ের আয় বাড়লেও আমরা যারা মাস্টাররোলে কাজ করি তাদের কোন বেতন বাড়েনি বরং বেতন কমেছে। আগে আমদের বেতন ১০ হাজার টাকা ছিল কিন্তু বর্তমান ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক দায়িত্ব গ্রহন করার পরে আমাদের বেতন কমিয়ে ৪ হাজার টাকা করেছে। বর্তমান বাজার মূল্য দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে ফলে আমাদের মানবেতর জীবন যাপন করতে হচ্ছে। তিনি অভিযোগ করে বলেন: আলাউদ্দিন স্যার দায়িত্ব গ্রহণের পর মাস্টাররোলে কর্মরত দুইজন কর্মচারীকে চাকরিচ্যুত করেছেন। এদিকে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক অভিভাবক অভিযোগ করে বলেন: ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক আলাউদ্দীন দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকে আমাদের মেয়েদের সাথে তুইতোকারি করে কথা বলেন এবং আমরা যারা অভিভাবক আছি তাদের সাথেও তিনি দুর্ব্যবহার করেন। তারা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন: ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক আলাউদ্দীন এর মূল পদ সিনিয়র শিক্ষক। তার মতন ওই বিদ্যালয়ে আরও ১৫ জন সিনিয়র শিক্ষক রয়েছে।
তাদের মধ্যে কিছু সংখ্যক সিনিয়র শিক্ষক আছে যারা সদালাপী, ন্যায়পরায়ণ এবং আদর্শ নিয়ে চলে। কিন্ত ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক আলাউদ্দীন কর্তৃক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী এবং অভিভাবকদের সঙ্গে খারাপ আচরণ বলে দেয় সে একজন অযোগ্য ও দুর্নীতিগ্রস্ত ব্যাক্তি। অযোগ্য ব্যক্তিকে কিভাবে সাতক্ষীরা জেলার একটি সুনামধন্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষককের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে তা বলাই বাহুল্য। অবিলম্বে দুর্নীতিবাজ ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক সহ স্কুলের বিভিন্ন অনিয়ম ও দুর্ণীতির সাথে জড়িত অন্য শিক্ষকদের বিরুদ্ধে তদন্ত পূর্বক দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য স্কুলের অভিভাবকরা জোর দাবি জানিয়েছেন। জানা গেছে, ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের অনিয়ম নিয়ে
সাতক্ষীরা সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের একটি বড় অংশ ইতিপূর্বে জেলা প্রশাসক মোস্তাক আহমেদ এর সাথে সাক্ষাৎ করেন। এ সময় সাতক্ষীরা জেলা প্রশাসক মোস্তাক আহমেদ শিক্ষকদের আস্বস্ত করে বলেন: দ্রুত একজন প্রধান শিক্ষক আনা হবে। অথচ দীর্ঘদিন অতিবাহিত হওয়ার পরেও এখনো গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক পদ শুন্য অবস্থায় পড়ে আছে। বিদ্যালয়ে দীর্ঘদিন প্রধান শিক্ষক /সহকারী প্রধান শিক্ষক পদ শুন্য থাকায় ত্বদীয় স্থলে শিক্ষক না আনায় বাড়ছে নানা অনিয়ম, অপরাধ, দুর্নীতি এ যেন দেখার কেউ নেই। এ বিষয় সাতক্ষীরা সরকারি উচ্চ বালিকা বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মূল পদ সিনিয়র শিক্ষক (বাংলা) মো. আলাউদ্দীনের সাথে মুঠোফোনে আলাপকালে তিনি বলেন, ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছি ৩ মাস। আমি অন্য কোন ফান্ডে হাত দেয়নি। শুধুমাত্র আইসিটি ফান্ড থেকে টাকা উত্তোলন করে ৫ টা এসি কিনেছি। পরীক্ষার ফি বাবদ শিক্ষার্থীদের নিকট থেকে দ্বিগুণ টাকা আদায় করার ব্যাপারে জানতে চাইলে তিনি বলেন, পরিপত্রের নতুন নিয়ম অনুযায়ী পরীক্ষার ফি বাড়ানো হয়েছে। অন্যান্য অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, আমার বিরুদ্ধে অভিযোগের কোন শেষ নেই। আপনি স্কুলে আসেন আপনাকে সব বিল ভাউচার দেখাবো, তাহলে আপনি বুঝতে পারবেন।
এ বিষয় সাতক্ষীরা জেলা প্রশাসক মোস্তাক আহমেদ বলেন: কোন সিদ্ধান্ত নিতে হলে আমাকে জানাতে হবে, আমি বিদ্যালয়ের সভাপতি। এছাড়া ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের অনিয়মের বিষয়ে তিনি খোজ খবর নেবেন বলেও জানান।