বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৭:৪৯ অপরাহ্ন
Notice :
দৈনিক সাতক্ষীরার তথ্য

প্রধান শিক্ষিকা তফুরা খাতুনের বিরুদ্ধে নানাবিধ দুর্নীতির অভিযোগ

আক্তারুল ইসলাম সাতক্ষীরা / ১৫০ Time View
Update : রবিবার, ৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৫
প্রধান শিক্ষিকা তফুরা

সাতক্ষীরা সদরের দক্ষিণ সুলতানপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা তফুরা খাতুনের বিরুদ্ধে অন্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের নিয়মিত শিক্ষার্থীদের নাম নিজের বিদ্যালয়ে ভর্তি দেখিয়ে তাদেরকে অবৈধভাবে সরকারি উপবৃত্তির টাকা দেওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে।

সরোজমিনে দক্ষিণ সুলতানপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে গিয়ে দেখা যায়, প্রথম শ্রেণী থেকে পঞ্চম শ্রেণি পর্যন্ত অনেক শিক্ষার্থীর নাম হাজিরা খাতায় থাকলেও তারা সেখানে কখনোই ক্লাস করে না শুধুমাত্র তাদের নামে উপবৃত্তির টাকা উঠানো হয়।
বিস্তারিত জানতে কয়েকজন শিক্ষার্থীর নাম এই বিদ্যালয় থেকে নিয়ে যাচাইয়ের জন্য শহরের নবারুণ মোড়ে অবস্থিত একরা একাডেমিতে গিয়ে জানা যায়,জালসান রহমান তিশা দক্ষিণ সুলতানপুর প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রথম শ্রেণীর ছাত্রী দেখানো হয়েছে কিন্তু সে ইকরা একাডেমীর নিয়মিত শিক্ষার্থী। তবে সে দক্ষিণ সুলতানপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে উপবৃত্তির টাকা পেয়ে থাকেন।

একই অবস্থা আব্দুর রহমান নামের এক শিক্ষার্থীর তাকে দক্ষিণ সুলতানপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ভর্তি দেখিয়ে উপবৃত্তির টাকা দেয়া হয় কিন্তু সে একরা একাডেমির নিয়মিত ছাত্র। এদিকে খাদিজা খাতুন,আশিকুর রহমান,আবরার ওয়াসীফ, সাদিকুল, রুম্মান,ফিরদাউস রহমান,শাম্মি আক্তার তানহা,মীম,সুয়াজ,সাইয়ারা হক,শ্রেয়শী,ইব্রাহিম,সাবিহা,সামিউল,নাজিফা তানজিহাসহ অনেক শিক্ষার্থীকে দক্ষিণ সুলতানপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ভর্তি দেখিয়ে উপবৃত্তির টাকা উত্তোলন করা হলেও তারা শহরের একরা একাডেমি,রসুলপুর মাদ্রাসা,কিন্ডারগার্টেন,নবজীবন,পি,এন,বিয়াম,মাদার তেরেসা কিন্টারগার্ডেন,টাউন সুলতানপুরসহ বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের নিয়মিত শিক্ষার্থী বলে জানা যায়।

বিষয়টি নিয়ে জানতে কয়েকজন অভিভাবকের সাথে কথা বললে তারা জানান,অত্র বিদ্যালয়টির প্রধান শিক্ষিকা তফুরা খাতুন ও সহকারী শিক্ষিকা নাহিদ সুলতানা যোগসাজশে এধরনের অপকর্ম চালিয়ে যাচ্ছে। সহকারী শিক্ষিকা নাহিদ সুলতানা শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের সাথে চিল্লাচিল্লি করে কথা বলে এবং ভয়ভীতি প্রদর্শন করে এমন কি শিক্ষকদের ও দপ্তরির সাথেও প্রতিনিয়ত ঝগড়াঝাঁটি করে থাকে বলে তারা জানান।

বিষয়টি নিয়ে প্রধান শিক্ষিকা তফুরা খাতুনের নিকট জানতে চাইলে, তিনি অকপটে শিকার করে বলেন আমার বিদ্যালয়টিতে ছাত্র-ছাত্রী কম থাকায় আমি এগুলো করেছি,যদি ভুল হয়ে থাকে আমি আর করব না। ঘটনার বিষয়টি জানতে সাতক্ষীরা সদর উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আসাদুজ্জামানের নিকট জানতে চাইলে তিনি বলেন, এ ধরনের কর্মকাণ্ড কোন অবস্থাতেই মেনে নেওয়া যাবে না, দ্রুত বিষয়টি তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।

এদিকে সচেতন এলাকাবাসী অভিযুক্ত প্রধান শিক্ষিকা তফুরা খাতুন ও সহকারী শিক্ষিকা নাহিদ সুলতানার বিরুদ্ধে দ্রুত তদন্তপূর্বক অন্যত্রে বদলির দাবী জানিয়েছেন।

add-nolta

আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category
Theme Created By ThemesDealer.Com