সাতক্ষীরার তালা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স নানা অনিয়ম, দুর্নীতি ও অব্যবস্থাপনার সংবাদ পত্রিকায় প্রকাশিত হওয়ায় সাংবাদিকদের উপর ক্ষেপেছেন ডাঃ রাজিব! এসময় তিনি সাংবাদিকদের দেখে নেওয়ার হুমকি সহ অশ্লীল ভাষায় সাংবাদিকদের গালী- গালাজ করেছেন। তবে হাসপাতালের অন্যান্য কর্মচারীরা ঐ সময় তিনি মদ্যপ অবস্থায় ছিলেন।
জানাযায়, অযোগ্য হওয়া সত্ত্বেও আওয়ামী লীগ সরকার আমলে দলীয় প্রভাব খাটিয়ে ভারপ্রাপ্ত তালা হাসপাতালের স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তার দায়িত্ব বাগিয়ে নেন ডাক্তার রাজিব সরদার। ভারপ্রাপ্ত হয়ে একই কর্মস্থলে দীর্ঘদিন যাবত অনিয়ম ও খামখেয়ালিপনার রাম রাজত্ব কায়েম করে চলেছেন তিনি। টিএইসএ হওয়ার পর নিয়মিত অফিস না করলেও তিনি মাঝেমধ্যে মধ্যরাতে মদ্যপ অবস্থায় হাসপাতালের গেট ধাক্কা-ধাক্কির করার কথা অকপটে স্বীকার করেছেন, হাসপাতাল ষ্টাফ ও স্থানীয় জণতা।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে হাসপাতালের কয়েক জন কর্মচারী জানান, ডাঃ রাজিব নিয়মিত মাদক সেবন করেন। হাসপাতাল অভ্যন্তরেই প্রায়ই তাকে অসংলগ্ন অবস্থায় দেখা যায়। বুধবার (২০ আগষ্ট) সকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত হাসপাতালের অভ্যন্তরে মাদকাসক্ত অবস্থায় সাংবাদিকদের গালী – গালাজ করেন। মাঝরাতে পিয়ন, আয়া, নার্স সহ অনেককে ডেকে আনেন বাড়ি থেকে। বসবাস না করায় তার জন্য বরাদ্দ কোয়াটার থেকে ময়লা আবর্জনা পরিষ্কার করান। হাসপাতালের সহকর্মীদের সামনেই সাংবাদিকদের অশ্রাব্য ভাষায় গালিগালাজ করার বিষয়ে সাংবাদিক ইলিয়াস সংযত হতে বললে, তিনি অশ্লীল ভাষায় ” সাংবাদিকরা যা ছাড়তে পারে ছিড়ুক” বলে আস্ফালন করেন।
উল্লেখ্য, পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাঃ রাজিব সরদার কর্মজীবনের শুরুতেই তালা হাসপাতালে যোগাদান করেন। এরপর আওয়ামী পরিবারের সন্তান হওয়ার সুবাদে তালা উপজেলা আওয়ামী লীগের নেতাদের সাথে গড়ে ওঠে গভীর সখ্যতা।
সেই প্রভাবকে কাজে লাগিয়ে উর্দ্ধতন কর্মকর্তাদের উপর ছড়ি ঘুরিয়ে বেড়িয়েছেন। তিনি দলীয় প্রভাবে অযোগ্য হওয়া সত্ত্বেও ভারপ্রাপ্ত হিসাবে হাসপাতালের সর্বোচ্চ পদটি বাগিয়ে নিয়েছেন।
অফিসে মদ্যপ অবস্থায় থাকলেও দলীয় প্রভাবের কারণে কেহই প্রতিবাদ করতে সাহস পায়নি। সময়ে অসময়ে মদ্যপ অবস্থায় হাসপাতালে ঢুকে প্রায়ই সহকর্মীদের সাথে অসৌজন্যমূলক আচরণ করেন বলে জানান অনেকেই। কিন্তু চাকুরী চলে যাওয়ার ভয়ে কেউ মুখ খোলে না।
একটি সূত্র জানায়, প্রতি জুন মাসে ডাক্তার রাজিব সরদার ভূয়া বিল ভাউচারে লক্ষ লক্ষ টাকা হাতিয়ে নেন। মাষ্টাররোলে চাকুরী দিয়ে তাদেরকে কাজে না লাগিয়ে ভূয়া স্বাক্ষরে বেতন উঠিয়ে আত্মসাৎ করেন।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক কর্মচারী বলেন, ডাঃ রাজিব সরদার ৫ আগষ্টের পরে ঠিকমতো অফিস করেন না। সপ্তাহে ১-২ দিন অফিসে আসেন। তাও আবার রাতে দিনে যেকোনো সময় হঠাৎ ই ১২ / ১ টার দিকে এসে ২ টায় চলে যান।
তালায় বৈষম্য বিরোধী ছাত্র নেতা, সাংবাদিক ও সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা এবিষয়ে প্রশ্ন করলে ডাঃ রাজিব সরদার কোনো উত্তর দিতে পারেনি।
হাসপাতাল সংশ্লিষ্ট একাধিক ব্যক্তি নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, ডাঃ রাজিব সরদার আপাদমস্তক দূর্ণীতিগ্রস্থ। যার কারণে অব্যবস্থাপনা নৈরাজ্যর জেঁকে বসেছে। একটি সূত্র জানায়। ১ কোটি ১৪ লাখ টাকার ওষুধ ও সরঞ্জাম নিম্ন মানের বলে অভিযোগ উঠলেও, ঠিকাদাের উপঢোকন নিয়ে সেটি বৈধ করেছেন মাতাল কর্তা ডাঃ রাজিব ।
তালা হাসপাতালে অনিয়ম, দূর্ণীতি ও দ্বায়িত্বে অবহেলাই রোগী সেবার বড় অন্তরায়। তাকে হাসপাতাল থেকে না সরালে জনসাধারণ সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। এবিষয়ে ডাক্তার রাজিব সরদারের ,(মোবাইল ০১৭১১-৩৬৫২৯৭ নম্বরে বার বার কল দিলেও তিনি রিসিভ করেন নি।
তালা প্রসক্লাবের সভাপতি এমএ হাকিম, উপজেলা নাগরিক কমিটির সাধারণ সম্পাদক শফিকুল ইসলাম, বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনের কেন্দ্রীয় সংগঠন আব্দুল কাদের, সাংবাদিক এম এ ফয়সাল সহ একাধিক সাংবাদিক বলেন, একজন
মাদকাসক্ত ডাক্তার কিভাবে ভারপ্রাপ্ত টিএইসএ র দায়িত্ব পায়। আবার কিভাবে একই কর্মস্থলে এতো দিন থাকতে পারে। এবিষয়ে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক , উপ-পরিচালক সহ সংশ্লিষ্ট দপ্তরের উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন ভুক্তভোগী এলাকাবাসী।