বুধবার, ২৯ জুলাই ২০২৬, ০৮:০৮ অপরাহ্ন
Notice :
দৈনিক সাতক্ষীরার তথ্য

সাংবাদিক তারেক মনোয়ার কে হত্যার উদ্দেশ্যে কুপিয়ে জখম: খুঁজে পায় না পুলিশ আসামি ফেসবুকে সরব!

সাতক্ষীরা তথ্য ডেক্সঃ / ২২৫ Time View
Update : শনিবার, ১৯ জুলাই, ২০২৫
মামলার অন্যতম আসামী অহেদ আলী

সাতক্ষীরা দেবহাটা আলোচিত বিএনপি নেতা আয়ুব হোসেন কতৃক সাংবাদিক তারেক মনোয়ার কে হত্যার উদ্দেশ্যে কুপিয়ে জখমের মামলার ১০ দিনেও আসামিরা পুলিশের ধরা ছোঁয়ার বাইরে। সরেজমিনে তদন্ত রিপোর্টে কুপিয়ে জখমের আলামত মিললেও গ্রেফতার হয়নি আসামিরা।

পুলিশের দাবি এ মামলার আসামি আয়ুব হোসেন, গোলাম হোসেন, রফিকুল ইসলাম, বেলাল হোসেন, মোজাফফর হোসেন জামিনে আছেন। তবে মামলার অন্যতম আসামী অহেদ আলী সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে সরব রয়েছে বলে জানা গেছে। কিন্তু তারপরও গ্রেফতার না হওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন আহত সাংবাদিক তারেকের পরিবার। পরিবারের ভাষ্য, এ মামলার আসামি ধরতে পুলিশের আন্তরিকতা প্রয়োজন।

আহত সাংবাদিক তারেকের পিতা মুজিবর রহমান বলেন, দিন গুনতে গুনতে মামলা রেকর্ড হওয়ার ১০ দিনেও আসামিরা পুলিশের ধরা ছোঁয়ার বাইরে। প্রথম থেকেই বলে আসছি আমার ছেলেকে হত্যার উদ্দেশ্যে পিটিয়ে ও কুপিয়ে জখম করেছে। তদন্ত রিপোর্টে সত্যতা মিলেছে। অথচ পুলিশের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে মামলার অন্যতম আসামি অহেদ আলী আত্মগোপনে। এ মামলার ১০ দিন পেরিয়ে গেছে। তবে এখন পর্যন্ত পুলিশ তাদের ইচ্ছায় আমাদের সঙ্গে যোগাযোগ করেন নি। আমার মনে হচ্ছে পুলিশ আসামিদের গ্রেফতার করছে না।

এ মামলার প্রথম দিকেই প্রশাসন মামলা নিতে গড়িমসি করেছিল। এ মামলার অগ্রগতি না হওয়ায় হতাশ আমরা। আদৌও মামলার তদন্ত হবে কি না এতে সন্দেহ রয়েছে। তবে এই জীবনে আমি কিছুই চাই না। আমার ছেলেকে হত্যার উদ্দেশ্যে পিটিয়ে ও কুপিয়ে যারা জখম করেছে তাদের বিচার চাই। আহত সাংবাদিক তারেক মনোয়ারের মা নাদিরা খাতুন বলেন, বিচার হবে কি না তাও জানিনা। বলতেই পারি অবহেলায় চলছে এ মামলার কাজ। ছেলেটা আমাদের খুবই আদরের। চোখের জলই এখন আমার পরিবার সম্বল।

দেবহাটা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) গোলাম কিবরিয়া হাসান বলেন, মামলার পাঁচ জন আসামি জামিনে থাকলেও অন্যতম আসামী অহেদ আলী আত্মগোপনে রয়েছে। গতকাল রাতেও তার বাড়ি গিয়ে আসামি অহেদ আলীকে পাওয়া যায়নি। বাদীর পরিবারের অভিযোগ সঠিক নয়। এ মামলার আসামিদের গ্রেফতার করতে পুলিশি অভিযান অব্যাহত রয়েছে। সাতক্ষীরা দেবহাটা সার্কেলের বর্তমান সহকারী পুলিশ সুপার (এএসপি) মোঃ হাফিজুর রহমান বলেন, এ মামলার আসামিদের অবশ্যই আইনের আওতায় আনা হবে। তাদের গ্রেফতার করতে পুলিশ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। আমি ছুটিতে আছি তারপরও ওসিকে বলে দিচ্ছি।

মামলা সুত্রে প্রকাশ, দেবহাটা উপজেলার উত্তর পারুলিয়া গ্রামের বাসিন্দা মো. মনিরুল ইসলামের কোবলাকৃত সম্পত্তির উপরিভাগে থাকা বাঁশ ঝাড় হইতে (১) আসামি মো. আইয়ুব হোসেন (২) গোলাম হোসেন (৩) মো. অহেদ আলী (৪) মো. রফিকুল ইসলাম, উভয় পিতা- মো. আব্দুর রাজ্জাক সরদার (৫) মো. বেলাল হোসেন (৬) মো. মোজাফফর হোসেন সর্ব সাং উত্তর পারুলিয়া। গত ০৪ জুলাই সকাল আনুমানিক ০৯ টার সময় ১ নম্বর আসামির লোকজন ৪০টি বাঁশ কেটে নেয়। যাহার বাজার মুল্য আনুমানিক ১২ হাজার টাকা। বাঁশ কর্তনের বিষয় তাৎক্ষণিকভাবে বিবাদীদের সাথে বাদীর গোলযোগ হয়। একপর্যায় বাঁশ কর্তন সংক্রান্ত বিষয় স্থানীয়দের উদ্যোগে আগামী ইং ১৪/০৭/২৫ তারিখ স্থানীয়ভাবে মীমাংসার দিন ধার্য করা হয়। বিবাদীগন উক্ত মীমাংসার তারিখ উপেক্ষা করে শুক্রবার ১১ জুলাই বেলা আনুমানিক ১.৪০ মিনিট সময় দা, লাঠি, লোহার রড সহ দেশীয় অস্ত্রশস্ত্রে বেআইনি দলবদ্ধ হয়ে উত্তর পারুলিয়া পূর্বপাড়া জামে মসজিদের সামনে ইটের সোলিং রাস্তায় বাদীর চাচাতো ভাই তারেক মনোয়ার (২৪) কে পথ রোধ করে। এসময় ১ নম্বর আসামির হুকুমে ৩ নং আসামির হাতে থাকা ধারালো দা দ্বারা তারেক মনোয়ারকে হত্যার উদ্দেশ্যে তার মাথা লক্ষ্য করে কোপ মারলে উক্ত কোপ হাত দিয়ে ঠেকাইলে বাম হাতের বাহুতে যেয়ে কোপ লেগে রক্তাক্ত হাড়কাটা জখম হয়। মামলার ২ নম্বর আসামির হাতে থাকা লোহার রড দ্বারা তারেক মনোয়ারের শরীরের বিভিন্ন স্থানে পিটিয়ে রক্ত জমাট ফোলা জখম করে। ঐ সময় তারেক মনোয়ারের সহোদর মাহিম মনোয়ার (২০) ঠেকাইতে গেলে সকল আসামীগন তার উপর চাড়াও হয় এবং ৩ নং আসামির হাতে থাকা বাঁশের লাঠি দ্বারা তার শরীরের বিভিন্ন স্থানে পিটিয়ে রক্ত জমাট ফোলা জখম করে।

ঘটনার একপর্যায় ৪ নং আসামি তারেক মনোয়ারের প্যান্টের পকেটে থাকা নগদ ২৭ হাজার ৩০০ টাকা নিয়ে নেয়। মামলার ৬ নং আসামি মাহিম মনোয়ারের পরিহিত টিশার্ট টেনে ছিড়ার পর কিল ঘুষি মেরে শরীরের বিভিন্ন স্থানে নীলা ফোলা জখম করে। পরবর্তীতে কতক সাক্ষীর সহায়তায় জখমি তারেক মনোয়ারকে দেবহাটা সখিপুর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। এ ঘটনায় ১২ জুলাই শনিবার দেবহাটা থানায় ভুক্তভোগী তারেক মনোয়ারের চাচাতো ভাই মনিরুল ইসলাম বাদী হয়ে ৬ জনকে আসামি করে মামলা দায়ের করেন, যাহার মামলা নম্বর -০৯

সাংবাদিক তারেক মনোয়ারের উপর সন্ত্রাসী হামলার বিচারের দাবিতে সাতক্ষীরা খুলনাসহ সারাদেশে মানববন্ধন ও প্রতিবাদ হয়েছিলো। এ মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা এস আই তন্ময়ের সঙ্গে মুঠো ফোনে একাধিকবার যোগাযোগ করা হলে তিনি কলটি রিসিভ করেননি।

add-nolta

আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category
Theme Created By ThemesDealer.Com