বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৮:৫৪ অপরাহ্ন
Notice :
দৈনিক সাতক্ষীরার তথ্য

হত্যা মামলার আসামিকে নিয়ে জামাই আদর: গারদে না রেখে ওসির কক্ষে আপ্যায়ন

নিজস্ব প্রতিনিধিঃ / ৭৯১ Time View
Update : শনিবার, ২৯ মার্চ, ২০২৫
নাস্তা শেষে দিয়েছেন বেনসন সিগারেট

 

সাতক্ষীরা আশাশুনি থানায় হত্যা মামলার আসামিকে গারদে না রেখে ওসি নোমান হোসেন তার কক্ষে রেখেই জামাই আদর আপ্যায়ন সহ খোশগল্প করেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। জানা গেছে, ৫ আগষ্টে সরকারের পটপরিবর্তনের আগে বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সময় ছাত্র-জনতা হত্যা মামলায় আসামি ভুক্ত হন সাতক্ষীরা আশাশুনি উপজেলা আ.লীগ সভাপতি ও সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান এ,বি,এম মোস্তাকিম আহমেদ। পেনাল কোড মামলা নং- ৩০২/৩৪। জানা যায়, হত্যা মামলার পরপরই তিনি আত্মগোপনে চলে যান। দীর্ঘদিন আত্মগোপনে থাকা ওই নেতা সিদ্ধান্ত নেন অস্ট্রেলিয়া যাওয়ার।

একপর্যায় গত ২৭ মার্চ বৃহস্পতিবার এ,বি,এম মোস্তাকিম আহমেদ অস্ট্রেলিয়া যাওয়ার উদ্দেশ্যে ঢাকা আন্তর্জাতিক বিমান বন্দরে প্রবেশ করলে ইমিগ্রেশন পুলিশ তাকে গ্রেফতার করে। খবর পেয়ে আশাশুনি থানা পুলিশের একটি চৌকস টিম ঢাকা বিমানবন্দরে পৌছায়। এ সময় বৈষম্য বিরোধী ছাত্র-জনতা হত্যা মামলার আসামি এ,বি,এম মোস্তাকিম আহমেদকে ইমিগ্রেশন পুলিশ আশাশুনি থানার সাব ইন্সপেক্টর শাখাওয়াত হোসেন, এ,এস,আই আশিক, কনস্টেবল নিশিত কুমার এর উপস্থিতিতে তাদের কাছে আসামি মোস্তাকিম আহমেদকে হস্তান্তর করেন। গত ২৮ মার্চ শুক্রবার সকাল ১০ টায় গ্রেফতারকৃত আসামি এ,বি,এম মোস্তাকিম আহমেদকে আশাশুনি থানায় নিয়ে আসে পুলিশের ওই টিম। অভিযোগ আছে, হত্যা মামলার আসামি এ,বি,এম মোস্তাকিম আহমেদকে থানার গারদে না রেখে বরং তাকে জামাই আদর করেন আশাশুনি থানার ওসি নোমান হোসেন।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক ব্যক্তি বলেন, ওসি নোমান হোসেন মোটা অংকের উৎকোচ পেয়ে বৈষম্য বিরোধী ছাত্র-জনতা হত্যা মামলার আসামি মোস্তাকিম আহমেদকে তার কক্ষে নিয়ে আপ্যায়ন করেন। এ সময় উপজেলা আ.লীগের সভাপতি ও সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান মোস্তাকিম আহমেদ কে তার পরিবারের সাথে স্পেশাল ভাবে সাক্ষাত করান। এছাড়া আসামি মোস্তাকিম আহমেদ এর জন্য থানার কর্মরত ড্রাইভার বাচ্চুকে দিয়ে ওসি নোমান হোসেন দোকান থেকে বেনসন সিগারেট আনিয়ে নেন। আর কনস্টেবল ফরহাদকে দিয়ে রেস্টুরেন্ট থেকে ডিম, পরোটা, ডাল ভাজি আনিয়ে মোস্তাকিম আহমেদকে ওসির রুমে নাস্তা করান।

নাস্তা শেষে ওসি নোমান হোসেন এবং হত্যা মামলার আসামি মোস্তাকিম আহমেদ খোশগল্প করেন। এসব এক্সট্রা সুবিধা ও জামাই আদর শুধুমাত্র টাকার বিনিময়ে সম্ভব হয়েছে। আশাশুনি থানার ওসি নোমান হোসেনের কক্ষে থাকা সিসি ক্যামেরা ফুটেজ দেখলে সত্যতা মিলবে। এদিকে ওসি নোমান হোসেন কর্তৃক হত্যা মামলার আসামিকে গারদে না রেখে জামাই আদর করার ঘটনায় ব্যাপক আলোচনা ও সমালোচনার ঝড় তুলেছে। এ বিষয় আশাশুনি থানার অফিসার ইনচার্জ মোঃ নোমান হোসেন মুঠোফোনে আলাপকালে বলেন, এ ব্যাপারে আমি কোন বক্তব্য দিতে রাজি নই। এ বিষয় সাতক্ষীরা পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মনিরুল ইসলাম এর সাথে মুঠোফোনে একাধিক বার কল দিয়ে আলাপের চেষ্টা কালে আলাপ কলটি গ্রহণ না করায় তার বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।

এ বিষয় খুলনা রেঞ্জ পুলিশের ডিআইজি মোঃ রেজাউল হক পিপিএম মুঠোফোনে আলাপকালে বলেন, অভিযোগের সত্যতা পেলে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

add-nolta

আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category
Theme Created By ThemesDealer.Com