ওসি নোমান হোসেনের যতো অপকর্ম: পুকুর ভর্তি মাছ ধরে বাড়িতে প্রেরণ
নিজস্ব প্রতিনিধিঃ
/ ২৭২
Time View
Update :
বুধবার, ২৬ মার্চ, ২০২৫
Share
ওসি নোমান হোসেন
ওসি নোমানের তুঘলকি কাণ্ড
স্ত্রীকে দিয়ে বাড়িতে মাছ প্রেরণ
ইমেজ ফেরাতে কৌশল অবলম্বন
আইনের রক্ষক যখন ভক্ষক
নানা অপকর্মে লিপ্ত ওসি নোমান
আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি
দালালদের মাধ্যমে আয় লক্ষাধিক টাকা
দূর্নীতি কাণ্ডে চারিদিকে নিন্দার ঝড়
সাতক্ষীরা আশাশুনি থানার ওসি নোমান হোসেন উৎকোচ বানিজ্য, দূর্নীতি সহ নানা অপকর্মে নিজের নাম লিখিয়েছেন। ওসি নোমান ৬ জানুয়ারি ২০২৫ ইং তারিখ আশাশুনি থানায় যোগদান করেন। ওসি নোমান হোসেন থানায় যোগদান করার পর থেকে আইনশৃংখলা পরিস্থতির ব্যাপক অবনতি ঘটে। এলাকায় নিরীহ মানুষকে বিভিন্ন প্রকার মামলার ভয়ভীতি প্রদর্শন করে ইতিমধ্যে হাতিয়ে নিয়েছেন লক্ষ লক্ষ টাকা। ওসি নোমান হোসেন এর চাহিদা অনুযায়ী টাকা দিতে অপারগতা প্রকাশ করলে মিথ্যা মামলায় ফাঁসানোর রেওয়াজ আছে। সে কারণে এলাকার সাধারণ মানুষ রয়েছে গ্রেফতার ও পুলিশ আতংকে। আশাশুনি থানায় বেড়েছে মিথ্যা মামলা ও আটক বানিজ্যের সীমাহীন প্রবনতা।
ওসি নোমান হোসেনের রয়েছে একটি শক্তিশালী সক্রিয় দালাল সিন্ডিকেট। এসব সিন্ডিকেটের মাধ্যমে বিভিন্ন আ.লীগ নেতা সহ ব্যবসায়ীদের নামের তালিকা তৈরি করে দালালদের মাধ্যমে এসব ব্যক্তিদের তার্গেট করা হয়। আর ওইসব তার্গেটকৃত ব্যক্তিদের বিভিন্ন মামলার ভয়ভীতি দেখিয়ে দালালদের মাধ্যমে মাসোহারা নিয়ে থাকেন ওসি নোমান হোসেন। ওসি নোমান হোসেন এর বিশ্বস্ত দালালের মধ্যে রয়েছে রফিক নামের এক ব্যক্তি। এছাড়া তার অপকর্মের অন্যতম সহযোগী হিসেবে কাজ করেছেন আশাশুনি থানার বকশি মাহফুজুর রহমান। যদিও এ বিষয় বকশি মাহফুজুর রহমান মুঠোফোনে আলাপকালে তার বিরুদ্ধে আনিত অভিযোগ অস্বীকার করেন। আশাশুনি থানার ওসি মোঃ নোমান হোসেন এর (বিপি নং ৮৪১১১৪৫১৪৯)। সাম্প্রতিক সময় ওসি নোমান হোসেনের উৎকোচ বানিজ্য, সীমাহীন অপকর্ম ও দূর্নীতি বিভিন্ন প্রিন্ট পত্রিকা সহ একাধিক অনলাইন পোর্টালে প্রকাশিত হয়েছে। সংবাদ প্রকাশের পর চারিদিকে তুমুল নিন্দার ঝড় ওঠার পাশাপাশি নড়েচড়ে বসেন সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।
এছাড়া টনক নড়েছে আশাশুনি থানার ওসি নোমান হোসেনের। নিজের ইমেজ ফেরাতে উঠে পড়ে লেগেছেন ওসি নোমান হোসেন। তিনি বিভিন্ন ছলচাতুরী ও নানা অপ-কৌশল অবলম্বন করছেন। ইতিমধ্যে ওসি নোমান হোসেন স্থানীয় কিছু সংখ্যক সাংবাদিকদের দিয়ে নিজের অপকর্ম আড়াল করার নিমিত্তে পত্রিকায় মিথ্যা সুনাম তুলে ধরার চেষ্টায় সরব হয়েছে বলে একাধিক সুত্র বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। এদিকে, আশাশুনি থানার পুকুর ভর্তি মাছ ধরে ওসি নোমান হোসেন এর বাড়িতে পাঠানো হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। জানা গেছে, গত ২১ জানুয়ারি ২০২৫ ইং তারিখ জেলে ভাড়া করে নেট জালের মাধ্যমে থানার পুকুর থেকে কাতলমাছ, রুইমাছ, মৃগেল মাছ, মিনার কার্প সহ অন্যান্য প্রজাতির মাছ ধরে নেয় ওসি নোমান। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক ব্যক্তি বলেন, থানার পুকুর থেকে উত্তোলনকৃত মাছ ওসি নোমান হোসেন সাতক্ষীরা পুলিশ সুপার কে দেওয়ার কথা বলেন। কিন্ত ওসি নোমান হোসেন এর কথার সাথে কাজের কোন মিল পাওয়া যায়নি।
তিনি তার স্ত্রীকে দিয়ে পুকুর ভর্তি এসব মাছ নিজ বাড়িতে প্রেরন করেছেন। ওসি নোমান হোসেনের বাড়িতে মাছ পাঠানোর কাজে সহযোগিতা করেছেন বকশি মাহফুজুর রহমান। ওসি কর্তৃক বাড়িতে মাছ পাঠানোর তুঘলকি কাণ্ডে ইতিমধ্যে ব্যাপক আলোচনা ও সমালোচনার জন্ম দিয়েছে। ওসি নোমান হোসেন এর এসব অপরাধ অপকর্ম আর দূর্নীতিতে এখন সবাই হতবিহ্বল হয়ে পড়েছে।
এ বিষয় আশাশুনি থানার অফিসার ইনচার্জ মোঃ নোমান হোসেন এর সঙ্গে মুঠোফোনে একাধিক বার আলাপের চেষ্টা কালে আলাপ কলটি গ্রহণ না করায় তার বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।