★আলোচনার তুঙ্গে সাব ইন্সপেক্টর তুষার কান্তি
★পট-পরিবর্তন হলেও; বদলায়নি দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তা
সাতক্ষীরা আশাশুনি থানার বুধহাটা তদন্ত কেন্দ্রের ফাঁড়ি ইনচার্জ সাব ইন্সপেক্টর তুষার কান্তির বিরুদ্ধে এক আ.লীগ নেতাকে আটকে রেখে মোটা অংকের টাকা বানিজ্যের অভিযোগ উঠেছে। জানা গেছে, ১৮ ফেব্রুয়ারী মঙ্গলবার সকাল আনুমানিক ১০.৩০ মিনিট সময় আশাশুনি থানার আওতাধীন বুধহাটা বাজার সংলগ্ন আ.লীগ নেতা আলহাজ্ব আব্দুল মাজেদ আলী গাজী কে তার নিজ ব্যবসায়ীক প্রতিষ্ঠান থেকে পুলিশ তুলে নিয়ে যায়। স্থানীয় সুমন হোসেন সহ একাধিক ব্যক্তি জানান, বুধহাটা তথ্য কেন্দ্রের ফাঁড়ি ইনচার্জ সাব- ইন্সপেক্টর তুষার কান্তির নেতৃত্বে ৫/৬ জন পুলিশের একটি টিম এসে আলহাজ্ব আব্দুল মাজেদ আলী গাজী কে আটক করে বুধহাটা ফাঁড়িতে নিয়ে যায়।
ফাঁড়িতে আটক রাখার প্রায় সাড়ে তিন ঘন্টা পর তাকে ছেড়ে দেয় পুলিশ। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক ব্যক্তি বলেন, বুধহাটা তথ্য কেন্দ্র ফাঁড়ি ইনচার্জ সাব- ইন্সপেক্টর তুষার কান্তি আব্দুল মাজেদ আলী গাজীর পরিবার থেকে নগত মোটা অংকের টাকা উৎকোচ বিনিময়ে তাকে ওই দিন দুপুর ২ টার সময় ছেড়ে দেয়। স্থানীয় এক সাংবাদিক জানান, আব্দুল মাজেদ আলী গাজী আশাশুনি উপজেলার ৩ নং কুল্যা ইউনিয়নের ১ নং ওয়ার্ড মেম্বার। সেই সাথে তিনি একজন আ.লীগের প্রভাবশালী নেতা। তিনি আরও বলেন, মঙ্গলবার ১৮ ফেব্রুয়ারি সকালে বুধহাটা ফাঁড়ির ইনচার্জ এস,আই তুষার কান্তি সহ ৫/৬ জন পুলিশ একযোগে যেয়ে আব্দুল মাজেদ আলী গাজী মেম্বারকে তার নিজ ব্যবসায়ীক প্রতিষ্ঠান থেকে তুলে নিয়ে যায়।
এ সময় আব্দুল মাজেদ আলী গাজীর ছেলে আনোয়ার হোসেন তার পিতাকে ছাড়ানোর চেষ্টা করে। একপর্যায় প্রথমে ৩ লক্ষ টাকা দাবি করে ফাঁড়ি ইনচার্জ তুষার কান্তি। ওই প্রস্তাবে রাজি না হলে পরবর্তীতে অনেক দরকষাকষির পর ১ লক্ষ ৭০ হাজার টাকার বিনিময়ে আ.লীগ নেতা আব্দুল মাজেদ আলী গাজী কে পুলিশ ছেড়ে দেয়। খোজ নিয়ে জানা গেছে, আব্দুল মাজেদ আলী গাজী আশাশুনি উপজেলার ৩ নং কুল্যা ইউনিয়নের কুল্যা গ্রামের প্রয়াত জব্বার গাজীর ছেলে। এলাকাবাসী সুত্রে জানা যায়, আশাশুনি থানার আওতাধীন বুধহাটা তথ্য কেন্দ্রের ইনচার্জ সাব-ইন্সপেক্টর তুষার কান্তি যোগদান করার পর থেকে বেড়েছে দূর্নীতি। এলাকার নিরীহ মানুষ কে আটকের ভয় দেখিয়ে মোটা অংকের টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে পুলিশের সাব- ইন্সপেক্টর তুষার কান্তি।
এলাকাবাসীর ভাষ্যমতে সাব- ইন্সপেক্টর তুষার কান্তি একজন বেপরোয়া স্বভাবের। তিনি সরকারি নির্দেশনা অমান্য করে হরহামেশাই অপকর্ম করে যাচ্ছেন। সে একজন রক্ষক হয়ে ভক্ষকের ভূমিকা পালন করেছে। এলাকাবাসী সহ সুশীল সমাজের ব্যক্তিরা সাতক্ষীরা পুলিশ সুপারের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। এদিকে আব্দুল মাজেদ আলী কে বুধহাটা তথ্য কেন্দ্রে আটকে রেখে সাব-ইন্সপেক্টর তুষার কান্তি কর্তৃক উৎকোচ বানিজ্যের ঘটনায় এলাকায় ব্যপক আলোচনা ও সমালোচনার ঝড় তুলেছে। এ বিষয় আশাশুনি থানার সাব-ইন্সপেক্টর ও বুধহাটা তথ্য কেন্দ্রের ফাঁড়ি ইনচার্জ তুষার কান্তি মুঠোফোনে আলাপকালে তার বিরুদ্ধে আনিত অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, আব্দুল মাজেদ আলী গাজীর পারিবারিক ঝামেলার কারনে তাকে ডেকে নিয়ে জিজ্ঞাসা শেষে ছেড়ে দেওয়া হয়।
জিজ্ঞাসাবাদ করার জন্য ৫/৬ জন পুলিশের একটি টিম আব্দুল মাজেদ আলী গাজীকে তার ব্যবসায়ীক প্রতিষ্ঠান থেকে আটক করে কেন নিয়ে যাওয়া হয় এমন প্রশ্ন ছুড়ে দিলে তিনি প্রশ্নবিদ্ধ হয়। অপর এক প্রশ্নে তিনি জবাব না দিয়ে তড়িঘড়ি করে আলাপ কলটির সংযোগ বিচ্ছিন্ন করেন। এ বিষয় আশাশুনি থানার অফিসার ইনচার্জ মোঃ নোমান হোসেন এর সাথে মুঠোফোনে বক্তব্য নেওয়ার চেষ্টা কালে মোবাইল নম্বর বন্ধ থাকায় তার সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।
সাতক্ষীরা জেলা পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মনিরুল ইসলামের ব্যবহারিত মোবাইল নাম্বারে একাধিকবার ফোন করেও আলাপ কলটি গ্রহণ না করায় বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।