বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৫:৩২ অপরাহ্ন
Notice :
দৈনিক সাতক্ষীরার তথ্য

এজাহার ভুক্ত আসামি প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়াচ্ছে; গ্রেফতারে পুলিশের গড়িমসি

প্রেস বিজ্ঞপ্তিঃ / ২০৯ Time View
Update : সোমবার, ১৭ ফেব্রুয়ারী, ২০২৫
সীমা পারভীন

★তেল খরচের টাকা দিতে না পারায় গ্রেফতার হচ্ছেনা আসামি 
★সাবেক যুব মহিলা লীগের সাধারণ সম্পাদক সীমা পারভীনের খুঁটির জোর কোথায় 
সাতক্ষীরা আশাশুনিতে এজাহার ভুক্ত আসামিদের প্রকাশ্যে বাজার ঘাটে ঘুরে বেড়ানোর অভিযোগ উঠেছে। জানা গেছে, আশাশুনি উপজেলার ওবায়দুল্লাহ গাজীর স্ত্রী সাথী খাতুন (২৯) পানির ট্যাংকি, প্রতিবন্ধী কার্ড, বয়স্ক ভাতা, বিধবা ভাতা বাবদ একই উপজেলার মোছাঃ সীমা পারভীন (৩৬) এর নিকট ৫২ হাজার টাকা দেয়। প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী টাকার বিপরীতে কাজ করতে ব্যর্থ হওয়ায় তার কাছে থাকা সমুদয় টাকা ফেরত চায় ভুক্তভোগী সাথী খাতুন। পাওনা টাকা ফেরত না দিয়ে সময়ক্ষেপণ ও বিভিন্ন তালবাহানা শুরু করে দেয় প্রতারক সীমা পারভীন।
প্রয়োজনের তাগিদে ভুক্তভোগী বার বার তার ওই পাওনা টাকা ফেরত চাওয়ায় ২ নং আসামী সীমা পারভীন তার উপর চরমভাবে ক্ষিপ্ততা পোষণ করার একপর্যায় ১ নং আসামি একই উপজেলার কাদাকাটি গ্রামের মোছাঃ মাজেদা খাতুন (৪৫) ও ৩ নং আসামী একই উপজেলার কাদাকাটি মোঃ কুরমান (৫০) কে সাথী খাতুন এর বিরুদ্ধে ক্ষিপ্ত করে তোলে। এমতাবস্থায় গত ২০ -০১-২৫ তারিখ সকাল আনুমানিক ৯.০০ টার সময় ভুক্তভোগী নৈকাটি গ্রাম হতে বাড়ি ফেরার পথে নৈকাটি উত্তর পাড়া সাকিনস্থ ফাঁকা জায়গায় পাকা রাস্তার উপর পৌছানো মাত্রই আগে থেকে ওৎপেতে থাকা উল্লেখিত আসামীরা সাথী খাতুনের পথ রোধ করে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করতে থাকে।
ভুক্তভোগী সাথী পারভীন মৌখিক ভাবে প্রতিবাদ করায় ২ নং আসামীর হুকুমে ১ ও ৩ নং আসামি সাথী খাতুন কে এলোপাতাড়ি কিল, ঘুষি, লাথি মেরে শরীরের বিভিন্ন স্থানে রক্তজমাট বাধা বেদনাদায়ক নিলাফোলা জখম করে। এসময় ১ নং আসামি সাথী খাতুনের গলায় থাকা ৮ আনা ওজনের একটি স্বর্ণের চেইন যাহার আনুমানিক মুল্য ৬০ হাজার টাকা জোর পূর্বক ছিনিয়ে নেয়। এছাড়া আসামিরা সাথী খাতুনের পরনের কাপড় চোপড় টানাটানি করে ছিড়ে ফেলায় আনুমানিক ১৫ হাজার টাকার ক্ষতিসাধন করে। এদিকে সাথী খাতুনের ডাক চিৎকারে স্থানীয় লোকজন ছুটে এলে আসামীরা ভুক্তভোগীকে বিভিন্ন ধরনের হুমকি ধামকি ও ভয়ভীতি প্রদর্শন করে দ্রুত ঘটনা স্থান ত্যাগ করে।
স্থানীয়রা ভুক্তভোগীর বাড়িতে সংবাদ দিলে পরিবারের লোকজন দ্রুত ঘটনা স্থলে উপস্থিত হয়ে রক্তাক্ত জখম প্রাপ্ত অবস্থায় সাথী খাতুন কে উদ্ধার করে আশাশুনি হাসপাতালে ভর্তি করে। এ ঘটনায় ১১ ফেব্রুয়ারি আশাশুনি থানায় ৩ জনকে অভিযুক্ত করে ধারা ৩৪১/৩২৩/৩০৭/৩৭৯/৪২৭/৫০৬/১১৪ পেনাল কোড রুজু করা হয়। আশাশুনি থানার মামলা নং ০৬। এদিকে ভুক্তভোগীর অভিযোগ, এজাহার ভুক্ত আসামিরা প্রকাশ্যে প্রশাসনের নাকের ডগায় বাজার ঘাটে দাপিয়ে বেড়াচ্ছে। এ ব্যাপারে ভুক্তভোগী মামলার আইও সাব ইন্সপেক্টর (নিরস্ত্র) মোঃ আলমগীর কবির কে অবহিত করলে তিনি প্রথমে গড়িমসি শুরু করেন। একপর্যায় ওই এস,আই তেল খরচের টাকা দাবি করে বলে দাবি করেন ভুক্তভোগী সাথী খাতুন। এ বিষয় মামলার আইও সাব ইন্সপেক্টর (নিরস্ত্র) মোঃ আলমগীর কবির এর সাথে  মুঠোফোনে আলাপকালে বলেন,
বারবার বাড়িতে অভিযান পরিচালনা করে আসামি খুঁজে না পাওয়ায় গ্রেফতার করা সম্ভব হচ্ছে না। আসামি গ্রেফতারে তেল খরচ চাওয়ার ব্যাপারে জানতে চাইলে তিনি এড়িয়ে যেয়ে তড়িঘড়ি করে আলাপ কলটির সংযোগ বিচ্ছিন্ন করেন।
 এ বিষয় আশাশুনি থানার অফিসার ইনচার্জ মোঃ নোমান হোসেন এর কাছে মুঠোফোনে বক্তব্য নিতে চাইলে তিনি ব্যস্ততা দেখিয়ে তড়িঘড়ি করে আলাপ কলটির সংযোগ বিচ্ছিন্ন করেন। এ ঘটনায় মামলার বাদী সাথী খাতুন  আসামিদের কে দ্রুত আটকের দাবি জানিয়েছেন।

add-nolta

আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category
Theme Created By ThemesDealer.Com