আন্দোলন ঘিরে পুলিশের বিরুদ্ধে মামলা; ছাপ্পান্ন ভাগ আসামিই নিচের স্তরের সদস্য
প্রেস বিজ্ঞপ্তিঃ
/ ১৭৯
Time View
Update :
রবিবার, ৫ জানুয়ারী, ২০২৫
Share
*বৈষম্যবিরোধী আন্দোলন দমাতে এসআই, এএসআই ও কনস্টেবলরা সামনে থেকে প্রতিরোধ গড়েন * অভিযুক্তদের দাবি, ঊর্ধ্বতনদের নির্দেশ পালন করেছেন, গুলি না ছুড়েও মামলার আসামি হয়েছেন অনেকে
বৈষম্যবিরোধী ছাত্র-জনতার আন্দোলনে অতিরিক্ত বলপ্রয়োগ করে পুলিশ বাহিনী। পতন ঘটা হাসিনা সরকারের আজ্ঞাবহ ‘পুলিশ লীগ’র কতিপয় কর্মকর্তার নির্দেশ পেয়ে বেপরোয়া হয়ে ওঠে মাঠের পুলিশ।
নিরস্ত্র ছাত্র-জনতাকে নির্মম ভাবে প্রকাশ্যে গুলি করে যার অন্যতম দৃষ্টান্ত রংপুরের বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের মেধাবী ছাত্র আবু সাঈদ। ফলে পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে ভুক্তভোগী ও ভুক্তভোগীর স্বজনদের মামলার আসামি হয়েছেন পুলিশের বিভিন্ন পর্যায়ের সদস্যরা। অনেকের বিরুদ্ধে শতাধিক মামলাও হয়েছে।
ইতোমধ্যে ৯৫২ পুলিশ সদস্য হত্যা ও হত্যাচেষ্টা মামলার আসামি হয়েছেন। এসব আসামির ৫৬ ভাগই পুলিশের নিচের স্তরের সদস্য অর্থাৎ এসআই, এএসআই ও কনস্টেবল পদমর্যাদার। একক সংখ্যার দিক থেকে সবচেয়ে বেশি আসামি হয়েছেন এসআই যার সংখ্যা ২৭৬ জন।
এছাড়া আসামির তালিকায় আছেন-৯১ এএসআই, ১৫৭ কনস্টেবল ও নামোল্লেখ নেই ৮ পুলিশ সদস্যের। পুলিশ সদর দপ্তরের সংশ্লিষ্ট বিভাগ সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে।
সূত্র বলছে, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র-জনতার আন্দোলন দমাতে পুলিশের এসআই, এএসআই ও কনস্টেবলরা সামনে থেকে প্রতিরোধ গড়ে তালেন। ছাত্র-জনতার ওপর গুলি ছোড়ার মূল দায়িত্ব পালন করেন তারা। ৫ আগস্ট আন্দোলন চলাকালে গাজীপুর মেট্রোপলিটনের কোনবাড়ীতে প্রকাশ্যে পুলিশের গুলিতে কলেজছাত্র মো. হৃদয় (২০) নিহত হওয়ার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়। এ ঘটনায় শিল্প পুলিশের কনস্টেবল আকরাম হোসেনকে গ্রেফতার করেছে কোনাবাড়ী থানা পুলিশ।
ইতোমধ্যে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র-জনতার আন্দোলন ঘিরে হওয়া হত্যা ও হত্যাচেষ্টা মামলায় পুলিশের ২৮ সদস্য গ্রেফতার হয়েছেন। অন্যরা ধরাছোঁয়ার বাইরে রয়েছেন। তবে আসামি হওয়া পুলিশের নিচের স্তরের সদস্যদের দাবি, তারা ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের নির্দেশ পালন করেছেন মাত্র। গুলি না ছুড়েও মামলার আসামি হয়েছেন অনেকে।
জানতে চাইলে পুলিশ সদর দপ্তরের এআইজি (মিডিয়া অ্যান্ড পিআর) ইনামুল হক সাগর যুগান্তরকে বলেন, ‘বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনে ছাত্র-জনতার ওপর হামলা এবং হত্যার ঘটনায় মামলাগুলো জনসাধারণ করেছে। যেসব মামলা হয়েছে সেগুলো পুলিশ অত্যন্ত গুরুত্ব সহকারে তদন্ত করছে। যাদের বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট তথ্যপ্রমাণ রয়েছে তাদের গ্রেফতার করা হচ্ছে, এটি চলমান প্রক্রিয়া।’
আন্দোলনে পুলিশের নিচের স্তরের সদস্যরা সিনিয়রদের নির্দেশে গুলি ছুড়েছেন, এ বিষয়ে কি ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, এটির তদন্ত চলছে। তদন্তের মাঝখানে তদন্তাধীন বিষয় নিয়ে কোনো কিছু বলতে পারব না।
পুলিশের বিরুদ্ধে হওয়া মামলায় আসামির তালিকায় আরও আছেন ৪৭ জন সাবেক আইজিপি ও সাবেক অতিরিক্ত আইজপি। ২৩ সাবেক ও বর্তমান ডিআইজি, ৪৫ সাবেক ও বর্তমান অতিরিক্ত ডিআইজি, ৬৩ পুলিশ সুপার, ৫৭ অতিরিক্ত পুলিশ সুপার, ৩২ সহকারী পুলিশ সুপার ও ১৫৩ ইন্সপেক্টর।
সর্বোচ্চ ১৭১টি মামলার আসামি হয়েছেন সাবেক ডিবি প্রধান ডিআইজি হারুন অর রশিদ। মামলার সংখ্যার দিক থেকে দ্বিতীয় অবস্থানে আছেন সাবেক আইজিপি চৌধুরী আব্দুল্লাহ আল মামুন। তার বিরুদ্ধে দেশের বিভিন্ন থানায় ১৫৫টি মামলা হয়েছে। এছাড়া সাবেক ডিএমপি কমিশনার হাবিবুর রহমানের বিরুদ্ধে ১১৭টি, অতিরিক্ত ডিআইজি বিপ্লব কুমার সরকারের বিরুদ্ধে ১২৫টি, সাবেক এসবি প্রধান অতিরিক্ত আইজিপি মনিরুল ইসলামের বিরুদ্ধে ৪৬টি মামলা হয়েছে।
এসব রাঘববোয়ালদের মধ্যে শুধু তৎকালীন আইজিপি চৌধুরী আব্দুল্লাহ আল মামুন গ্রেফতার হয়েছেন। অন্যরা ধরাছোঁয়ার বাইরে রয়েছেন।
ডিএমপির হাতিরঝিল থানার তৎকালীন এক উপপরিদর্শক (এসআই) বলেন, আসামি হওয়া ২৭৬ এসআইর মধ্যে ২০০ জনই নিরপরাধ। এর কারণ ব্যাখ্যা করে তিনি বলেন, গুলি খরচের ভিত্তিতে আসামি করা হচ্ছে। অথচ হাতিরঝিল থানার ডিউটির জন্য আমরা ফোর্স চাহিদা দেওয়ার প্রেক্ষিতে ৩০ জন ফোর্স পিওএম থেকে থানায় আসে। যেদিন রামপুরা টিভি ভবন আক্রমণ হয় সেদিন ওই ৩০ কনস্টেবল গুলি ছোড়েন।
রাত ৮টার পরে তারা দ্রুত চলে যান। তখন তাড়াহুড়া করে হিসাব না করে আমরা যে অফিসার ও কনস্টেবল ওই থানার স্থায়ী আছি তাদের মধ্যে খরচ হওয়া গুলি ভাগ করে খরচ দেখিয়ে দেয়। আমি গুলি করিনি এক রাউন্ডও কিন্তু আমার নামের পাশে ১৭ রাউন্ড লিখেছে। পরে পরিস্থিতি যে এমন হবে, পুলিশ আসামি হবে এটা কারও কল্পনায় ছিল না।