সাতক্ষীরার কালিগঞ্জে তুচ্ছ কারণে স্কুল শিক্ষক শেখ আরিফুজ্জামান রাজুকে হাতুড়ি দিয়ে বেধড়ক পিটিয়ে ও দা দিয়ে কুপিয়ে জখমের ঘটনায় এজাহারনামীয় আসামি সাব্বির কবিরকে গ্রেফতার করলেও মূল আসামি খাঁন ইসহাক আলী এবং স্ত্রী সাবিরা বেগম ওরফে পুটি কে গ্রেফতার করতে পারিনি পুলিশ। তবে পুলিশের দাবি আসামিরা পলাতক থাকার কারণে একটু দেরি হলেও হন্যে হয়ে খুঁজছে পুলিশ। খুব শীঘ্রই তাদেরকে গ্রেপ্তার করা হবে।
এদিকে মামলা তুলে নিতে বাদিকে আসামি পক্ষ চাপ সৃষ্টি করছে বলে অভিযোগ ভুক্তভোগী পরিবারের।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা কালিগঞ্জ থানার উপপরিদর্শক রাজিব অভিযান চালিয়ে উপজেলার পাউখালী এলাকা থেকে শনিবার সন্ধ্যার দিকে ২নং আসামি খাঁন সাব্বির হোসেন কবিরকে গ্রেফতার করেন। গ্রেফতার খাঁন সাব্বির হোসেন কবির উপজেলার কুশলিয়া ইউনিয়নের মহৎপুর গ্রামের খাঁন ইসহাক আলীর ছেলে ও মহৎপুর প্রাথমিক বিদ্যালয়ের দপ্তরী। এলাকায় মাস্তানি টেন্ডারবাজি ভূমিদস্যু হিসেবে সে চিহ্নিত সন্ত্রাসী। তাকে রোববার বিজ্ঞ আদালতের মাধ্যমে কারাগারে প্রেরণ করা হয়েছে।
প্রসঙ্গত, ১৬ জানুয়ারী রাত ৮টার দিকে বাড়ি ফেরার সময় খাঁন ইসহাক আলী, তার স্ত্রী সাবিরা বেগম ওরফে পুটি ও ছেলে খাঁন সাব্বির হোসেন কবির সহ অজ্ঞাতনামা ৩থেকে ৪জন তুচ্ছ কারণে উপজেলার মহৎপুর গ্রামের শেখ আব্দুর রহমানের ছেলে তারালী মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক শেখ আরিফুজ্জামান রাজুকে হাতুড়ি দিয়ে পিটিয়ে ও দা দিয়ে কুপিয়ে মারাত্মক জখম করে এবং ৭হাজার ৮শ’ টাকা ছিনিয়ে নেয়। চিৎকার শুনে আশঙ্কাজনক অবস্থায় ওই স্কুল শিক্ষককে উদ্ধার করে কালিগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন স্থানীয়রা।
এ ঘটনায় স্কুল শিক্ষকের পিতা শেখ আব্দুর রহমান বাদী হয়ে খাঁন ইসহাক আলী, খাঁন সাব্বির হোসেনসহ ৩জনের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাতনামা ৩/৪জনকে আসামি করে ১৮ (জানুয়ারি) শনিবার কালিগঞ্জ থানায় মামলা দায়ের করেন।
কালিগঞ্জ থানার এসআই রাজিব বলেন, অতি শীঘ্রই এজাহার নামীয় প্রধান আসামি ইসহাক খাঁন কে গ্রেফতার করা হবে।
একজন শিক্ষকে হাতুড়ি দিয়ে পিটিয়ে জখমের ঘটনায় আসামিদের সর্বোচ্চ শাস্তি দাবি করেছেন কালিগঞ্জ উপজেলার সাধারণ জনগণ। তাছাড়া মামলার মূল আসামি গ্রেফতার না হওয়ায় আতঙ্কে দিন পার করছেন ভুক্তভোগী পরিবার।