সাতক্ষীরার কালীগঞ্জ উপজেলার ভাড়াশিমলা গ্রামের এক গৃহবধূ যৌতুকের দাবিতে দীর্ঘদিন নির্যাতন, শ্বশুরবাড়িতে প্রবেশে বাধা এবং প্রাণনাশসহ বিভিন্ন ধরনের হুমকির অভিযোগে স্বামীসহ সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে কালীগঞ্জ থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। শুক্রবার (১৭ জুলাই ২০২৬) সকাল ১০টার দিকে তিনি এ অভিযোগ দায়ের করেন।অভিযোগকারী তাসলিমা খাতুন (৩৭), পিতা- নুর ইসলাম, স্বামী- মোঃ তুহিন সরদার। লিখিত অভিযোগে তিনি উল্লেখ করেন, ২০২৩ সালের ১৫ মার্চ ইসলামি শরিয়াহ মোতাবেক মোঃ বাবর আলীর ছেলে মোঃ তুহিন সরদারের সঙ্গে তার বিবাহ সম্পন্ন হয়। বিয়ের পর তাকে স্বামীর পৈতৃক বাড়িতে না নিয়ে অন্যত্র ভাড়া বাসায় রেখে সংসার করা হয়। পরবর্তীতে তাদের সংসারে তুষার নামে বর্তমানে ৯ মাস বয়সী একটি পুত্রসন্তানের জন্ম হয়।অভিযোগে বলা হয়েছে, বিয়ের সময় তার পরিবার স্বামীর পক্ষকে নগদ অর্থ, স্বর্ণালংকার এবং বিভিন্ন গৃহস্থালি সামগ্রী প্রদান করলেও পরবর্তীতে অতিরিক্ত যৌতুকের দাবিতে তাকে নিয়মিত মানসিক ও শারীরিক নির্যাতনের শিকার হতে হয়। নির্যাতন সহ্য করতে না পেরে সন্তানের ভবিষ্যতের কথা বিবেচনা করে তিনি সাতক্ষীরার বিজ্ঞ আমলি আদালত-২ এ একটি মামলা দায়ের করেন।
লিখিত অভিযোগ অনুযায়ী, মামলার পর আদালতের নোটিশ পেয়ে মোঃ বাবর আলীর ছেলে মোঃ তুহিন সরদার আদালতে উপস্থিত হয়ে ভবিষ্যতে যৌতুক দাবি করবেন না এবং শান্তিপূর্ণভাবে সংসার করবেন বলে প্রতিশ্রুতি দেন। সেই আশ্বাসের ভিত্তিতে গত ১৬ জুলাই ২০২৬ সকাল আনুমানিক ৯টার দিকে তিনি স্বামীর পৈতৃক বাড়িতে গেলে তাকে বাড়িতে প্রবেশ করতে দেওয়া হয়নি। বরং অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ, অপমান-অপদস্থ করা হয় এবং বাড়িতে প্রবেশ করলে মারধর, তালাক প্রদান ও বিভিন্ন ধরনের ক্ষয়ক্ষতির হুমকি দেওয়া হয় বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। অভিযোগকারী দাবি করেন, ঘটনাটির একাধিক স্থানীয় ব্যক্তি সাক্ষী রয়েছেন।তিনি আরও বলেন, নিজের সন্তানকে নিয়ে স্বামীর সঙ্গে স্বাভাবিক ও শান্তিপূর্ণ দাম্পত্য জীবনযাপন করতে চান। এ লক্ষ্যে আইনগত প্রতিকার পাওয়ার আশায় তিনি থানায় অভিযোগ দায়ের করেছেন।
অভিযোগের বিষয়ে মোঃ বাবর আলীর ছেলে মোঃ তুহিন সরদারের ব্যবহৃত মোবাইল ফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও ফোনটি বন্ধ থাকায় তার বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।এ বিষয়ে কালীগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোঃ শহিদুল ইসলাম সাংবাদিকদের বলেন, “অভিযোগটি আমরা গ্রহণ করেছি। বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।